তুরস্কের পার্লামেন্টে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছেন দেশটির সরকার ও বিরোধীদলীয় এমপিরা। সোমবারের এ সংঘর্ষে উভয়পক্ষের মধ্যে ঘুষি ও বোতল ছোড়াছুড়ি হয়। মারামারির কারণে বিরোধী দল এইচডিপি নেতা ইদ্রিস বালুকেনের ঘাড়ের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়া, আরও কয়েকজন এমপিকে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
এর আগে সংবিধান পরিবর্তন নিয়ে গত শনিবারও মারামারি হয় উভয় পক্ষের মধ্যে।
সংবিধান পরিবর্তনে গঠিত কমিটি সরকারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে এমপিদের ‘বিচার না করার আইন’ বাতিলের প্রস্তাব করা হয়। তবে সরকারের এমন উদ্যোগের সঙ্গে একমত নয় বিরোধীরা। এ নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (একেপি) এবং বিরোধী দল কুর্দিস পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি’র (এইচডিপি) এমপিরা কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তারা আসবাবপত্রও ভাঙচুর করে।
টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে, এমপিরা পরস্পরের ওপর চড়াও হয়েছেন। সরকারি দলের এমপিরা বিরোধীদের লক্ষ্য করে ঘুষি দিচ্ছেন এবং পানির বোতল ছুড়ে মারছেন। তার আগে ওই বিল নিয়ে আলোচনার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়।
সোমবার পার্লামেন্টে মারামারির কারণে সংসদীয় কমিটির প্রধান বিল নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন।
সরকারি দল বিলটি পার্লামেন্টে তোলার পর থেকেই বিরোধী দল এর তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। সরকারি দলের আনা বিলটি পাস হলে সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়ার অভিযোগে কুর্দিস্তান পিপল’স পার্টির কয়েকজন এমপি’র বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর পথ খুলে যাবে।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এইচডিপি’কে পিকেকে গেরিলাদের ‘বাহু’ বলে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলছেন, এইচডিপি দলীয়ভাবে পিকেকে গেরিলাদের সমর্থন দিচ্ছে।
গত বছরের জুলাই মাসে তুরস্কে পিকেকে গেরিলাদের সঙ্গে সরকারের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এরপর থেকে সরকার পিকেকে গেরিলাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।
/এমপি/বিএ/








