behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
Vision  ad on bangla Tribune

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের ‘নিঃশব্দ’ সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন

বিদেশ ডেস্ক০১:৫৮, অক্টোবর ২০, ২০১৬

 

রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের নিঃশব্দ সাবমেরিন চুক্তি নিয়ে প্রশ্নপ্রভাবশালী রুশ সংবাদপত্র ভেদোমোস্তি-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকেই প্রথমে জানা যায় রাশিয়ার কাছে থেকে আরও একটি পরমাণুবাহী সাবমেরিন কেনার ব্যাপারে চুক্তি করেছে ভারত। খবরটি ফাঁস হওয়ার পর এই চুক্তির গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গোয়ায় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকেই ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এ সাবমেরিন ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। রাশিয়া ও ভারতের সংবাদমাধ্যম সূত্রে ওই নিঃশব্দ চুক্তির কথা জানা গেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো নিজস্ব গোয়েন্দা সূ্ত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ভারত মহাসাগরে চীনকে নজরদারির আওতায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।

উল্লেখ্য, ভারতের হাতে ইতোমধ্যেই একটি আকুলা-২ শ্রেণির এই পারমাণবিক অ্যাটাক সাবমেরিন রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দ্রুত আরও একটি আকুলা-২ সাবমেরিনকে নৌ বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করতে চাইছে দিল্লি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, অক্টোবরের ১৫ তারিখে গোয়ায় অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে এই চুক্তি হয়।

এদিকে প্রভাবশালী রুশ সংবাদপত্র ভেদোমোস্তি-তে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্প মহল সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ‘রুশ নৌবাহিনী থেকে একটি মাল্টিপারপাস প্রোজেক্ট ৯৭১ নিউক্লিয়ার সাবমেরিন ভারতকে দেওয়ার বিষয়ে যে চুক্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চলছিল, সে চুক্তিটি গোয়ায় স্বাক্ষরিত হয়েছে।’

নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, দ্বিতীয় আকুলা-২ সাবমেরিনটি ভারতে আনার পর তা বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে স্থাপন করা হবে। ভারত মহাসাগরে চীনের যে সব সাবমেরিন গোপনে নজরদারি চালায়, সেগুলির ওপর নাজরদারি চালাবে রাশিয়া থেকে আনা এ সাবমেরিন। পাশাপাশি ভারতের নিউক্লিয়ার পাওয়ার্ড ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিনের (অরিহন্ত শ্রেণি) যে বহর তৈরি হতে চলেছে, তার সুরক্ষা নিশ্চিত করবে আকুলা-২।

ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে আসা প্রথম পরমাণু শক্তিচালিত সাবমেরিনটি হল আইএনএস চক্র। সেটিও আকুলা-২ শ্রেণির ডুবোজাহাজ। সেটিও রাশিয়ার কাছ থেকে ১০ বছরের লিজ নিয়ে ভারতে আনা হয়েছিল। ২০১২-র এপ্রিলে আইএনএস চক্র ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই সেই লিজের মেয়াদ ফুরিয়ে যাবে। তার আগেই আর একটি আকুলা-২ নিউক্লিয়ার সাবমেরিন রাশিয়া থেকে নিয়ে আসার চুক্তি ভারত সেরে ফেলল।

আকুলা-২ শ্রেণির সাবমেরিনের গতি ঘণ্টায় ৩৫ নটিক্যাল মাইল। অর্থাৎ প্রায় ৬৫ কিলোমিটার। পরমাণু শক্তিচালিত অ্যাটাক সাবমেরিনের আধুনিকতম শ্রেণি এটি নয়। কিন্তু এখনও আকুলা-২ সাবমেরিনকে বিশ্বের অন্যতম সেরা নিউক্লিয়ার অ্যাটাক সাবমেরিন হিসেবে গণ্য করা হয়। টর্পেডো এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালাতে সক্ষম এই ডুবোজাহাজ। 

রুশ সংবাদপত্রে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই চুক্তিটির ব্যাপারে কোনও খবর সামনে আসেনি। অন্যান্য সামরিক চুক্তির বিষয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে ভাবে ঢাক-ঢোল পেটায়, রাশিয়ার কাছ থেকে এই সাবমেরিনটি লিজ নেওয়ার ব্যাপারে কিন্তু সেই নীতি অনুসরণ করেনি। কিন্তু নরেন্দ্র মোদি ও ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়ে যাওয়ার পরেও কেন তা নিয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মুখ খুলেনি, প্রশ্নটা রয়ে যাচ্ছে। অথচ দুই রাষ্ট্র প্রধানের উপস্থিতিতে ১৬টি চুক্তি স্বাক্ষরের কথা জানানো হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে।  আছে ৫০০ কোটি ডলারেরও বেশি টাকায় বিশ্বের অন্যতম সেরা এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কেনার চুক্তি। এছাড়া রয়েছে হেলিকপ্টার ক্রয় ও নৌবাহিনীর জন্য ফ্রিগেট কেনার চুক্তি। এসব চুক্তির আর্থিক মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস দাবি করেছে, এ সাবমেরিন সম্পর্কিত তথ্য কৌশলগত কারণে সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আওতাধীন হওয়ার ফলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে কিছু জানানো হয়নি।

তবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট নামক অনলাইনে এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারত আকুলা-২ সাবমেরিন চাচ্ছিল না। রাশিয়ার কাছ ভারত সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সাবমেরিন চেয়েছিল। কিন্তু রাশিয়া তা দিতে চায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে ভারত আকুলা সাবমেরিন নেয়। সূত্র: আনন্দবাজার, টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট।

/বিএ/এএ/

 

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ