বিক্ষোভকারীরা ভাড়াটে, উসকে দিচ্ছে মিডিয়া: ট্রাম্প

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:০৫, নভেম্বর ১১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৫, নভেম্বর ১১, ২০১৬

ডোনাল্ড ট্রাম্পযুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাখ্যান করে দেশজুড়ে যখন বিক্ষোভ ক্রমাগত জোরালো হচ্ছে, তখন টুইটারে এর বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো প্রতিক্রিয়া জানালেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যারা বিক্ষোভ করছে তাদেরকে ভাড়াটে বিক্ষোভকারী বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। কেবল তাই নয়, এ বিক্ষোভের পেছনে মিডিয়ার উসকানি রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। অবশ্য চার বছর আগে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর ভিন্ন অবস্থান নিতে দেখা গিয়েছিল তাকে। সেসময় বিক্ষোভকারীদের উদ্বুদ্ধ করে টুইট করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের প্রতিবেদনে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে।
নির্বাচনি প্রচারণায় শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যের বিপরীতে ট্রাম্প দাঁড় করিয়েছিলেন অভিবাসী, মুসলমান, মেক্সিকান, সমকামী ও কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের। নির্বাচনের আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী, মুসলিম সম্প্রদায়, এলজিবিটি কর্মী, আর কৃষ্ণাঙ্গদের একটা বড় অংশ ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘বর্ণবাদী’ ও ‘পুরুষতান্ত্রিক’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্টের রোষানলে পড়তে পারেন তারা। মঙ্গলবার রাতে নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের খবর প্রকাশের পরপরই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিভিন্ন স্থানে ‘নট মাই প্রেসিডেন্ট’, ‘টাইম টু রিভল্ট’, ‘ফ্যাসিস্ট ট্রাম্প’, ‘রেজিস্ট রেসিজম’, ‘নো ট্রাম্প’ ইত্যাদি লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষজন বিক্ষোভে নেমেছেন, যা সাম্প্রতিক মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন।
তবে ট্রাম্পের দাবি, যারা বিক্ষোভ করছেন তারা ভাড়াটে বিক্ষোভকারী। আর মিডিয়া তাদেরকে উসকানি দিচ্ছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার করা টুইটে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মাত্র একটি খোলামেলা ও সফল প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সম্পন্ন হলো, আর এখন মিডিয়ার উসকানি পাওয়া ভাড়াটে বিক্ষোভকারীরা বিক্ষোভ করছে। খুবই বাজে!’

ট্রাম্পের টুইট
অথচ চার বছর আগে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপারে ভিন্ন অবস্থান দেখিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেসময় বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে হেরে গিয়েছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি। আর তাতে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন ট্রাম্প। সেসময় টুইটারে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘আমরা এমনটা হতে দিতে পারি না। এ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের ওয়াশিংটনের রাস্তায় মিছিল করা উচিত। আমাদের জাতি পুরোপুরি বিভক্ত হয়ে গেছে!’

মার্কিন নির্বাচনে ইলেক্টোরাল কলেজ সিস্টেম নিয়েও ট্রাম্পের দ্বিমুখী অবস্থান প্রকাশ পেয়েছে। যে নির্বাচন ব্যবস্থার বদৌলতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হতে সক্ষম হলেন, তিনি নিজেও তার বিরোধী ছিলেন। কেবল বিরোধিতা নয়, ইলেক্টোরাল ভোটকে গণতন্ত্রের বিপর্যয় বলে মনে করতেন তিনি।  যেসব মার্কিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা পছন্দ করেছেন হিলারি ক্লিনটনকে। জনগণের দেওয়া রায়ে হিলারির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ট্রাম্পের চেয়ে ‌১ লাখেরও বেশি। তবু লক্ষাধিক ভোট কম পাওয়ার পরও যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন, তার নেপথ্যে রয়েছে সংকটময় ও বিতর্কিত মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা। ২০১২ সালের নির্বাচনের পর সে ব্যবস্থার সমালোচনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১‌২ সালে এ নিয়ে ট্রাম্প একটি  টুইট করেছিলেন। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আসা শুরু হওয়ার পর শোনা যাচ্ছিল মিট রমনি পপুলার ভোটে এগিয়ে আছেন, তবে ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে যাচ্ছেন। আর তা জানার পর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়’ উল্লেখ করে টুইট করেন। ট্রাম্প লিখেছিলেন, 'ইলেক্টোরাল কলেজ গণতন্ত্রের জন্য একটি বিপর্যয়'।
অবশ্য, শেষ পর্যন্ত ২০১২ সালের নির্বাচনে বারাক ওবামার কাছে পপুলার ইলেক্টোরাল দুই পদ্ধতিতেই হেরেছিলেন রমনি। কিন্তু এবার গত মঙ্গলবার তা ঘটেনি। ট্রাম্পের চেয়ে পপুলার ভোটে এগিয়ে থাকার পরও ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে গেছেন হিলারি। যে ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে ট্রাম্প প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন তার কল্যাণেই জয় নিশ্চিত হয় তার।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে গত মঙ্গলবার শুরু হওয়া বিক্ষোভ বৃহস্পতিবার আরও জোরালো হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ২শরও বেশি ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভকারী ম্যানহাটনের ইউনিয়ন স্কয়ার এলাকা থেকে ওয়াশিংটন স্কয়ার পার্ক এলাকার দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। ‘ট্রাম্প ও পেন্সের বোধশক্তি নাই’ সহ এমন আরও অনেক স্লোগানসম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করতে থাকেন তারা।
ট্রাম্পের মালিকানাধীন ভবন ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রায় ৫ হাজার মানুষ। এরমধ্যে হিলারির সমর্থক এবং পপ তারকা লেডি গাগাও ছিলেন।
অকল্যান্ড পুলিশের অভিযোগ, ‘বুধবার সন্ধ্যা থেকে একটি বড় দল কয়েকটি ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বেশ কিছু জায়গায় ভাঙচুর শুরু করে। বৃহস্পতিবার সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ৪০টি জায়গায় লাগানো আগুন নেভান জরুরি কর্মীরা। বিশৃঙ্খলা তৈরি, পুলিশ কর্মকর্তাদের হয়রানি করা, বেআইনি কর্মকাণ্ড সংঘটিত করা ও আগ্নেয়াস্ত্র বহনের অভিযোগে অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।
শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন। বুধবার বার্কেলি হাইস্কুলের ১৫০০ শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে বের হয়ে আসেন। সান ফ্রান্সিসকোতে ১ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বের হয়ে বিক্ষোভে সামিল হয়।

/এফইউ/

লাইভ

টপ