বিক্ষোভের কেন্দ্র যখন ট্রাম্প টাওয়ার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:২৭, নভেম্বর ১২, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৪০, নভেম্বর ১২, ২০১৬

নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ম্যানহাটনের একটি সুউচ্চ ভবন – ট্রাম্প টাওয়ার। এখানেই বাস করেন রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর দেশজুড়ে চলে আসা বিক্ষোভের শুরু থেকেই এখানে জড়ো হয় বিক্ষোভকারীরা।

ট্রাম্প টাওয়ারে নিরাপত্তা জোরদার

তবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের খবর আসার পর থেকেই ট্রাম্প এবং তার বাসস্থানকে দেওয়া হচ্ছে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা। ট্রাম্প টাওয়ার ও আশেপাশের এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে নোল-ফ্লাই জোন।

তা সত্ত্বেও তিনদিন ধরে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হচ্ছেন ৭৪ তলা ট্রাম্প টাওয়ারের নিচে। এটি পরিণত হয়েছে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রে।

শুক্রবারও কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন ট্রাম্প টাওয়ারের নিচে। সেখানে বিক্ষোভকারীরা ছাড়াও ছিলেন অনেক পর্যটক এবং সাংবাদিক। এক নারীকে স্লোগান দিতে শোনা যায়, ‘তিনি একজন পুরুষতান্ত্রিক, একজন ধর্ষক।’

উর্দি পরা এক পুলিশ কর্মকর্তা টাওয়ারের সামনে ব্যারিকেড দিচ্ছিলেন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে পর্যন্ত এই ভবনটি কখনোই গুরুত্বপূর্ণ ছিল না।

এক ইহুদি বিক্ষোভকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘অ্যান্টি-সেমিটিজম ইজ নট ওকে’। তিনি নিজেকে জেমস জি বলে পরিচয় দিয়ে অভিযোগ করেন, ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা চলার সময় কয়েকজন ইহুদি সাংবাদিকের ওপর আক্রমণ করা হয়। তিনি বলেন, ‘এবারই প্রথম কোনও কিছুর বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ জানালাম।’

ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ

পুলিশ ও গোয়েন্দারা যথাযথ পরিচয়পত্র ছাড়া টাওয়ারে কাউকে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন না। টাওয়ারের অনেক বাসিন্দারা সেখান থেকে চলে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। অজ্ঞাত এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী বলেন, ‘তারা ধনী। তারা এসব সহ্য করতে পারেন না। তারা ইতোমধ্যে এখান থেকে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। কেউ কেউ নিজের ফ্ল্যাট বিক্রিও করতে চাইছেন।’

ওই ভবনে সোডা, ড্রাই ক্লিনিং, স্ট্যাশনারি, ক্যাটারিং – এসব সেবা সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের এক স্বেচ্ছাসেবী এসে দেখলেন তাদের দফতরও বন্ধ রয়েছে।  

উল্লেখ্য, গত ৮ নভেম্বরের ভোটে নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পর থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের একাংশ। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যগুলোর তথ্যমতে, সাম্প্রতিক মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীনভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষজন বিক্ষোভে নেমেছেন। এর পর থেকে অন্তত ৩০টি শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ওয়াশিংটন ডিসিসহ ওয়েস্ট কোস্ট, নিউ ইয়র্ক, বোস্টন, অস্টিন, সিয়াটল, ওকল্যান্ড, কালিফ, ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন শহর। এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে ডেনভার, মিনিয়াপোলিস, মিলওয়াউকি, পোর্টল্যান্ড, ওকল্যান্ডসহ বিভিন্ন শহরে। শুক্রবারও বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে।  

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

/এসএ/

লাইভ

টপ