হারের জন্য এফবিআই পরিচালককে দুষছেন হিলারি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:১০, নভেম্বর ১৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:১১, নভেম্বর ১৩, ২০১৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের জন্য ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এফবিআই-এর পরিচালক জেমস কোমিকে দায়ি করলেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে হিলারির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালের ইমেইল নিয়ে পুনঃতদন্তের ঘোষণা দেন কোমি। এই কারণেই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয় হয়েছে বলে দাবি করেন হিলারি।

উল্লেখ্য, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকতে হিলারির পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালের ইমেইল নিয়ে পুনঃতদন্ত করার ঘোষণা দিয়ে রাজনৈতিক পক্ষপাতে অভিযুক্ত হন এফবিআই প্রধান জেমস কোমি। ডেমোক্র্যাট সিনেটর হ্যারি রেইড তখনই দাবি করেন, রিপাবলিকানদের নির্বাচন জেতাতেই কোমি হিলারির ইমেইল পুনঃতদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এবার হিলারি ক্লিনটনও একই অভিযোগ করলেন।

নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগেও জনপ্রিয়তায় ট্রাম্পের থেকে ১০ পয়েন্ট ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন হিলারি ক্লিনটন। তবে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীত্বের সময়কার ইমেইল পুনঃতদন্তের ঘোষণার কারণে ডেমোক্র্যাটদের প্রচারণা থমকে যায় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। হিলারির দাবি, এ কারণেই তিনি নির্বাচনে বড় ব্যাবধানে হেরেছেন।

অবশ্য প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের এ কথা বলেননি হিলারি। প্রচারণায় অর্থ সরবরাহকারী দুই ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোন কনফারেন্সে কথা বলছিলেন হিলারি। সেই দুইজন ব্যক্তিই সংবাদমাধ্যমকে হিলারির এই মন্তব্যেরে কথা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, তারা ভিন্নভিন্নভাবে ওই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে হিলারির মন্তব্যের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন।  

উল্লেখ্য, হিলারি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে ২০০৯-২০১৩ সাল পর্যন্ত ব্যক্তিগত সার্ভার থেকে ইমেইল আদান-প্রদান করেছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আদান-প্রদান করা ইমেইলগুলোতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয়েরও উল্লেখ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের নিয়ন্ত্রিত চ্যানেল ছাড়া ক্লাসিফায়েড তথ্য আদান-প্রদানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ ধরনের অনিরাপদ চ্যানেলের মাধ্যমে অতি গোপনীয় ইমেইল ফাঁস হওয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে মনে করে মার্কিন সরকার। তবে সরকারি ইমেইল আদান-প্রদানের জন্য ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও হিলারি দাবি করেছিলেন, তিনি অন্যায় কিছু করেননি। অবশ্য, সেপ্টেম্বরে হিলারি মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। এজন্য আমি দুঃখিত। আমি এর দায়িত্ব নিচ্ছি।’ অক্টোবরে উইকিলিকসের ফাঁস করা কিছু ইমেইলে দেখা যায়, দলীয় উৎকণ্ঠা আর হতাশার মুখেই হিলারি তার ভুল স্বীকার করেছিলেন।

গত ২৯ জানুয়ারিতে এফবিআইয়ের অনুরোধে হিলারির ২২টিরও বেশি ইমেইলকে ‘অতি গোপনীয়’ বলে ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর। আর জুলাই মাসে প্রথম ধাপের তদন্ত শেষ করে এফবিআই জানিয়েছিল হিলারিকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে না। তবে নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে এফবিআই-এর নতুন করে তদন্ত শুরু করার খবরটি সামনে আসে। ৮ নভেম্বরের নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এফবিআই প্রধান জানান, ‘হিলারি ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে তার কাছে আসা এবং তার পাঠানো সব ই–মেইল আমরা তদন্ত করেছি। গত জুলাইয়ে হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করছি না।’

/বিএ/

লাইভ

টপ