হিলারিকে ভোট দিতে ট্রাম্পের ইলেক্টরদের প্রতি পিটিশন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:২৪, নভেম্বর ১৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২৪, নভেম্বর ১৩, ২০১৬

ট্রাম্প ও হিলারিডোনাল্ড ট্রাম্পের বদলে হিলারি ক্লিনটনকে পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করতে ইলেক্টোরাল কলেজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একটি পিটিশন তৈরি করা হয়েছে। এরইমধ্যে এতে ৩২ লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছেন। ট্রাম্প ইলেক্টোরাল ভোটে জয় পেলেও হিলারি পপুলার ভোট বেশি পাওয়ায় এ দাবি তুলেছেন তারা। আয়োজকদের লক্ষ্য পিটিশনে ৪৫ লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। আন্তর্জাতিক পিটিশনগুলো দায়েরের জন্য প্ল্যাটফর্ম বলে বিবেচিত চেঞ্জ.অর্গ-এ পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে।  
ওই পিটিশনে বলা হয়, ‘ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার যোগ্য নন। বহু আমেরিকানকে তিনি বলির পাঠা বানিয়েছেন। তার যুক্তিহীন আবেগীয় অবস্থান, মিথ্যাচার, তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং রাষ্ট্র পরিচালনাজনিত জ্ঞানের অভাব তাকে এই (যুক্তরাষ্ট্র) প্রজাতন্ত্রের জন্য এক বিপজ্জনক ব্যক্তিকে রূপান্তর করেছে।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ভোট (পপুলার ভোট) নয়, ইলেক্টোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ৫৩৮ ইলেক্টরের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে এর মধ্যে অন্তত ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হয়। মেইন ও নেবরাস্কাকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রেই জয়ী প্রার্থীকে সবগুলো ইলেক্টর দিয়ে দেওয়া হয়। মেইন ও নেবরাস্কায় প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের সংখ্যানুপাতে ইলেক্টর বন্টন করা হয়। এর মধ্যে কিছু অঙ্গরাজ্য আছে যেগুলোর জনসংখ্যার অনুপাতে ইলেক্টর সংখ্যা বেশি, আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে কম। আর সেকারণে অনেক সময় দেখা যায় কেউ বেশি ইলেক্টর পেলেও তার মোট প্রাপ্ত ভোট (পপুলার) পরাজিত প্রার্থীর চেয়ে কম হতে পারে। আর তেমনই হয়েছে এবারের নির্বাচনে। এর আগেও মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে চারবার এমন হয়েছিল। একে ইলোক্টরাল পদ্ধতির সঙ্কট আকারে দেখে থাকেন অনেকেই। তেমন জায়গা থেকেই পিটিশনটি দায়ের করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন অনুযায়ী পরবর্তী প্রেসিডেন্ট বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এখনও আরও কিছু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে। আর তা হলো ইলেক্টোরাল কলেজ ভোট। অর্থাৎ ইলেক্টররা ১৯ ডিসেম্বর তাদের ভোট দেবেন। সাধারণত যে প্রার্থীদের নিয়োজিত ইলেক্টররা দলীয় কর্মী হয়ে থাকে। সেকারণে ইলেক্টররা বিশ্বাসভঙ্গ করা ছাড়া প্রাথমিক ফলাফল অপরিবর্তিত থাকে। তবে এবার ইলেক্টরদের সিদ্ধান্ত পাল্টানোর দাবি উঠেছে।

পিটিশনে ইলেক্টরদেরকে আহ্বান করা হচ্ছে, তারা যেন ট্রাম্পকে ভোট না দিয়ে হিলারিকে দেন। কারণ ইলেক্টররা যদি হিলারিকে নির্বাচিত করেন তবে তখন ফলাফল বদলে যাওয়া সম্ভব। অতীতে মাঝে মাঝে অঙ্গরাজ্যের পপুলার ভোটে যে প্রার্থী জিতেছেন তাকে অস্বীকার করে কোনও কোনও ইলেক্টরকে দেখা গেছে অন্য প্রার্থীকে ভোট দিতে। তবে ২৪টি অঙ্গরাজ্যে সে সুযোগ নেই। সেখানে এ ধরনের বিদ্রোহের অনুমতি নেই এবং ইলেক্টররা নির্দিষ্ট প্রার্থীকে ভোট দিতে বাধ্য। সেক্ষেত্রে জরিমানা দিয়ে ক্রস ভোটিং করতে পারেন ইলেক্টররা। হিলারির সমর্থকরা এখন সে জরিমানা গুণতেও রাজি। চেঞ্জ.অর্গ-এর পিটিশনে এখন ইলেক্টরদেরকে আহ্বান জানানো হচ্ছে, তারা যেন নিজেদের অঙ্গরাজ্যের রায়কে অস্বীকার করে হিলারি ক্লিনটনের জন্য ভোট দেন।

ফেইথলেসনাউ.কম থেকেও ট্রাম্পবিরোধী একটি পিটিশন চলছে বলে জানিয়েছে ইয়াহু নিউজ। তবে পিটিশনটিতে মূলত ১৫টি অঙ্গরাজ্যের ১৬০ জন রিপাবলিকান ইলেক্টরেটকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানানো হচ্ছে। এসকল ইলেক্টরেটের ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। অর্থাৎ ট্রাম্পকে যে ভোট দিতে হবে এমন কোনও আইনি জটিলতা তাদের জন্য বহাল নেই। সূত্র: চেঞ্জ.অর্গ, টাইমস অব ইন্ডিয়া

/এফইউ/বিএ/ 

লাইভ

টপ