ট্রাম্প টাওয়ার পরিণত হলো দুর্গে!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:০৩, নভেম্বর ১৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৮, নভেম্বর ১৩, ২০১৬

নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠা ম্যানহাটনের সুউচ্চ ভবন ট্রাম্প টাওয়ারকে রীতিমতো পরিণত করা হয়েছে ‘দুর্গে’। এখানেই বাস করেন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর তার নিরাপত্তার জন্যই এমনটা করা হয়েছে।  

ট্রাম্প টাওয়ারে বালুভর্তি ট্রাক

নির্বাচনে জয়ের খবর আসার পর থেকেই ট্রাম্প এবং তার বাসস্থানকে দেওয়া হচ্ছে প্রেসিডেন্টের জন্য নির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা। ট্রাম্প টাওয়ার ও আশেপাশের এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে নো-ফ্লাই জোন।

ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে চলে আসা বিক্ষোভের শুরু থেকেই এখানে জড়ো হন বিক্ষোভকারীরা।

ভবন ও ট্রাম্পের নিরাপত্তার জন্য টাওয়ারের সামনেই রাখা হয়েছে বালুভর্তি ট্রাকের সারি। গত শুক্রবার থেকে বালুর ট্র্রাকগুলো ৭৪ তলা ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে অবস্থান করছে। গাড়িবোমা হামলাসহ যে কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অবস্থা এড়াতে স্যানিটেশন বিভাগের ট্রাকগুলো সেখানে দাঁড় করানো হয়েছে। ভবনের পাশের একটি রাস্তায় জনসাধারণের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। দেওয়া হয়েছে কংক্রিটের ব্যারিকেড।  

কংক্রিটের ব্যারিকেড

ভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) ও সিক্রেট সার্ভিসের গোয়েন্দাদের। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই ভবনে একাংশ, এমনকি প্রধান অংশটিই বন্ধ রাখতে হতে পারে। ভবনের বিভিন্ন তলায় অস্ত্রধারী কমান্ডো পাহারা থাকবে।

ট্রাম্প টাওয়ার ও তার আশেপাশে আগেই নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে তা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এখন সেদিক দিয়ে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল করতে পারবে।

সাংবাদিকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সাংবাদিকরাও ট্রাম্প টাওয়ারে প্রবেশ করতে পারবেন না। তাদের টাওয়ার প্রাঙ্গন থেকে রাস্তায় সরিয়ে দেওয়া হয়।

ওই ভবনে সোডা, ড্রাই ক্লিনিং, স্ট্যাশনারি, ক্যাটারিং – এসব সেবা সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রাম্প টাওয়ারে আসা লোকজনদেরও বিষয়টি জানানো হয়।

ভবনের নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ

ওই ভবনেই আছে বিশ্বখ্যাত জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান টিফানি অ্যান্ড কোম্পানির শোরুম। আছে ফ্যাশন সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গুচ্চির শোরুম। বড়দিন উপলক্ষে দোকানে আলোকসজ্জাও করতে পারছেন না তারা। দোকান মালিকরা অভিযোগ করেন, দোকানে লোকজন আসার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন নিরাপত্তা বাধা রয়েছে, তাই তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকেই ওই টাওয়ারে জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেউ যথাযথ পরিচয় ছাড়া সেখানে প্রবেশ করতে পারছিলেন না।

ট্রাম্প টাওয়ারকে দুর্গের মতো গড়ে তোলার বিষয়টি অবশ্য আকস্মিক বা নতুন কিছু নয়। ২০০৮ সালে নির্বাচনে জয়ের পর বারাক ওবামার শিকাগোর বাড়িটিও পরিণত হয়েছিল দুর্গে। তখন তিনি চুল কাটাতে বাড়ি থেকে বের হলেই তার পিছু নিতেন একদল গোয়েন্দা। এর আগে বিল ক্লিনটন নির্বাচিত হওয়ার পরেও সিক্রেট সার্ভিস তার বাসভবনের বিভিন্ন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করেছিল।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ

৮ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের খবর পাওয়া মাত্রই ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। যা গত পাঁচদিন ধরে চলছে। ৭৪ তলা ট্রাম্প টাওয়ারের নিচে প্রতিদিনই জড়ো হচ্ছেন বিক্ষোভকারীরা। এটি পরিণত হয়েছে নিউ ইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভের কেন্দ্রে। এর আগে মার্কিন ইতিহাসে এমনটা দেখা যায়নি। আর তাই নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও পুলিশ ও গোয়েন্দাদের অতিরিক্ত খেয়াল রাখতে হচ্ছে।

সূত্র: ফক্স নিউজ, সিএনএন, এবিসি, ব্লুমবার্গ।

/এসএ/

লাইভ

টপ