‘জিতেছি বলেই অবস্থান বদলাবো নাকি’!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৩৮, নভেম্বর ১৪, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৯, নভেম্বর ১৪, ২০১৬


ইলেক্টোরাল ভোটের সুবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেও ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতিকে এখনও সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পপুলার ভোটের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করার পক্ষপাতী তিনি। রবিবার (১৩ নভেম্বর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর সিক্সটি মিনিটস অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন পদ্ধতি সম্পর্কে নিজের পূর্ববর্তী দৃষ্টিভিঙ্গ বহাল থাকার কথা জানান তিনি।  প্রশ্ন রাখেন, ‌জিতেছি বলেই অবস্থান বদল করব নাকি’!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনগণের ভোট (পপুলার ভোট) নয়, ইলেক্টোরাল কলেজ আনুষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ৫৩৮ ইলেক্টরের সমন্বয়ে ইলেক্টোরাল কলেজ গঠিত। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে হলে প্রার্থীকে এর মধ্যে অন্তত ২৭০টি ইলেক্টোরাল ভোট পেতে হয়। মেইন ও নেবরাস্কাকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ক্ষেত্রেই পপুলার ভোটে জয়ী প্রার্থীকে সবগুলো ইলেক্টর দিয়ে দেওয়া হয়। মেইন ও নেবরাস্কায় প্রার্থীদের মধ্যে ভোটের সংখ্যানুপাতে ইলেক্টর বন্টন করা হয়। এর মধ্যে কিছু অঙ্গরাজ্য আছে যেগুলোর জনসংখ্যার অনুপাতে ইলেক্টর সংখ্যা বেশি, আবার কিছু অঙ্গরাজ্যে কম। আর সেকারণে অনেক সময় দেখা যায় কেউ বেশি ইলেক্টর পেলেও তার মোট প্রাপ্ত ভোট (পপুলার) পরাজিত প্রার্থীর চেয়ে কম হতে পারে। আর তেমনই হয়েছে এবারের নির্বাচনে। এর আগেও মার্কিন নির্বাচনের ইতিহাসে চারবার এমন হয়েছিল। একে ইলেক্টরাল পদ্ধতির সঙ্কট আকারে দেখে থাকেন অনেকেই। 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেক্টোরাল সিস্টেমের কল্যাণে সদ্য জয় পাওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই ইলেক্টোরাল সিস্টেমের সমালোচনা করেছিলেন। ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয় বলেই মনে করতেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১‌২ সালে এ নিয়ে ট্রাম্প একটি  টুইট করেছিলেন। ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আসা শুরু হওয়ার পর শোনা যাচ্ছিল মিট রমনি পপুলার ভোটে এগিয়ে আছেন, তবে ইলেক্টোরাল ভোটে হেরে যাচ্ছেন। আর তা জানার পর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ইলেক্টোরাল সিস্টেমকে ‘গণতন্ত্রের জন্য বিপর্যয়’ উল্লেখ করে টুইট করেছিলেন। আর সে তথ্য সামনে আসার পর প্রশ্ন ওঠে জয়ের পর ট্রাম্প ইলেক্টোরাল কলেজ পদ্ধতি নিয়ে তার অবস্থান পাল্টাচ্ছেন কিনা।

তবে রবিবার সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন তিনি তার আগের অবস্থানেই অটল রয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি জিতেছি, তার মানে এই নয় যে আমি আমার অবস্থান পাল্টে ফেলব তা নয়। আমি এখানে সাধারণ ভোট হিসেব করার পক্ষপাতী। এটা এমন হবে যে আপনি হয়তো ১০০ মিলিয়ন ভোট পেলেন এবং কেউ ৯০ মিলিয়ন ভোট পেলেন, সেক্ষেত্রে আপনি বিজয়ী বিবেচিত হতে হবে। এটা করার কারণ আছে। এর মধ্য দিয়ে সবগুলো রাজ্যের ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত হয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের জটিল প্রক্রিয়ার কারণে মঙ্গলবার (৮ নভেম্বর) পরাজিত হতে হয় হিলারি ক্লিনটনকে। যেসব মার্কিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন, তাদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠরা পছন্দ করেছেন হিলারি ক্লিনটনকে। জনগণের দেওয়া রায়ে হিলারির প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ট্রাম্পের চেয়ে ‌১ লাখেরও বেশি। তবু লক্ষাধিক ভোট কম পাওয়ার পরও যে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হতে পারলেন, তার নেপথ্যে রয়েছে সংকটময় ও বিতর্কিত মার্কিন নির্বাচন ব্যবস্থা।

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ