পাকিস্তানের মাজারে হামলাকাছের হাসপাতালও ৭০ কিলোমিটার দূরে, তোপের মুখে সরকার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:৪৮, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৫৬, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৭

এক আহতপাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শেহওয়ান এলাকার মাজারে বোমা হামলায় বহু হতাহতের পর সামনে এসেছে সেখানকার চিকিৎসাব্যবস্থার করুণ পরিস্থিতি। ওই এলাকায় কোনও হাসপাতাল নেই। সবচেয়ে কাছের শহরের হাসপাতালে যেতে হলেও তার দূরত্ব ৭০ কিলোমিটার। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন বলছে, কাছের হাসপাতালেও গাড়ি চালিয়ে যেতে অন্তত ২ ঘণ্টা প্রয়োজন হয়। আর তাই বোমা বিস্ফোরণের পর আহতদের নিয়ে ভোগান্তি তৈরি হয়। কারও কারও দাবি, শেহওয়ান এলাকাতে হাসপাতাল থাকলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও কম হতো। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৭০ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছে ডন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স সংকটও রয়েছে। আহতদের অনেককে মোটরবাইক কিংবা রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। আর এ নিয়ে পিপিপি (পাকিস্তান পিপল'স পার্টি) সরকারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা চলছে। সিন্ধু প্রদেশের প্রত্যন্ত এলাকায় পিপিপি সরকার হাসপাতাল নির্মাণে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে রাগ, ক্ষোভ আর হতাশার বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন তারা।

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের শেহওয়ান এলাকার লাল শাহবাজ কালান্দার নামের সুফি মাজারে বৃহস্পতিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় অর্ধশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে দেড়শ’ মানুষ। পাকিস্তানে শতাব্দী ধরে সুফিবাদ চর্চা হয়ে আসছে। লাল শাহবাজ কালান্দার হলো দেশটির সবচেয়ে সম্মানিত সুফি মাজার। বৃহস্পতিবার ছিল স্থানীয় সুফিদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন। মাজারে ব্যাপক লোক সমাগম হওয়ার পর বোমা হামলা ঘটানো হয়।পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করে যখন আহতদের জন্য হাসপাতাল পাওয়া যাচ্ছিল না। আহতদেরকে জামশোরো শহরের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু সেখানকার দূরত্বও ৭০ কিলোমিটার। আর তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন পাকিস্তানিরা। পিপিপি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে অনেকে টুইট করেছেন।

অমর গুরিরো নামের একজন টুইটারে লিখেছেন, ‘শেহওয়ানে একটিও অ্যাম্বুলেন্স নেই। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, লাল শাহবাজ কালান্দার মাজারে বিস্ফোরণের ঘটনায় আহতদেরকে মোটরবাইক ও রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’

আদিনা কাদির নামের একজন লিখেছেন, ‘পিপিপি সরকারের শাসনাধীন এ প্রদেশে না কোনও অ্যাম্বুলেন্স আছে, না আছে নিরাপত্তা, না আছে সুযোগ-সুবিধা; কেবল; ‘ভুট্টো বেঁচে আছে’ কোনও শব্দ দিয়ে এ ব্যথা বর্ণনা করা যাবে না, কেবল চোখের পানিই ফেলতে পারি।’

সৈয়দ হুসাইন নামের একজন টুইটারে লিখেছেন, ‘লাল শাহবাজ পাকিস্তানের একটি ব্যস্ততম মাজার। কিন্তু শেওয়ান শরিফে কোনও বড় হাসপাতাল নেই। খুবই দুঃখজনক।’

শেহজাদ হামিদ আহমেদ লিখেছেন, ‘এ রক্তবন্যার জন্য সিন্ধু সরকারও একইভাবে দায়ী। কারণ তারা কাছাকাছি কোনও কার্যকরী হাসপাতাল নির্মাণ করতে পারেনি।’

আফতাব আলম নামের একজন লিখেছেন, ‘ইশ! পিপিপি যদি সিন্ধুর গ্রাম্য এলাকায় একটি হাসপাতাল নির্মাণ করতো তাহলে শেহওয়ানের বিস্ফোরণের পর অনেক মানুষেরই জীবন বাঁচানো যেত!’

আহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে
পাকিস্তান পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা শাব্বির সেথার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে টেলিফোনে নিশ্চিত করে বলেন, এই হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত ও ১৫০ জন আহত হয়েছেন। মৃতদের তালিকা ক্রমেই বাড়ছে। নিহতদের সংখ্যা এখনও সঠিকভাবে জানা যায়নি। তবে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং রয়টার্সের মতে, এখন পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। তবে ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার দাবি, নিহতের সংখ্যা প্রায় ১০০। 

ধারণা করা হচ্ছে, মাজারে সমবেত নারীদের অংশকেই মূলত লক্ষ্য বানাতে চেয়েছে হামলাকারী। এ কারণে মায়েদের সঙ্গে থাকা প্রায় ৩০টি নিরপরাধ শিশু এ হামলার শিকার হয়ে নির্মমভাবে মারা গেছে। ডন নিউজ টেলিভিশন চ্যানেলকে এক নারী আর্তনাদের স্বরে বলেন,‘আল্লাহর ইবাদতের জন্য আমরা মাজারে এসেছিলাম। প্রার্থনা করার সময় কেউ হামলা চালাবে কে ভেবেছিল?’ এরইমধ্যে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনাটির দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মাজারে হামলার দায় স্বীকারের বিষয়টি আইএস স্বীকৃত বার্তা সংস্থা আমাক-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারেও প্রকাশ করা হয়।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দেশটির উত্তরপশ্চিমে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় প্রশাসনিক সদর দফতরের বাইরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হন অন্তত পাঁচজন। মোহমান্দ এজেন্সির উপজাতীয় অঞ্চলের ঘালানাইয়ে অবস্থিত ওই সদর দফতরের মূল ফটকের সামনে এ বিস্ফোরণ হয়। বুধবার থেকে শুরু হওয়া কার্যদিবসে এমন ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানি তালিবানের ভেঙে যাওয়া উপদল জামায়াত-উল-আহরার ওই হামলার দায় স্বীকার করে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছে।

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ