behind the news
Vision  ad on bangla Tribune

ট্রাম্পের ফোনে ওবামার আড়িপাতার প্রমাণ মেলেনি: এফবিআই

বিদেশ ডেস্ক০১:০০, মার্চ ২১, ২০১৭

বারাক ওবামা এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পসাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগের কোনও প্রমাণ মেলেনি। এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক জেমস কমি। সোমবার মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের একটি প্যানেলে উপস্থিত হয়ে এ ব্যাপারে এফবিআই’র বক্তব্য জানান জেমস কমি। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রাশিয়ার হ্যাকিং, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রুশ সংযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে কংগ্রেস সদস্যদের প্রশ্নের উত্তর দেন।

হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটি’র সদস্যদের উদ্দেশে জেমস কমি বলেন, পূর্ববর্তী প্রশাসন কর্তৃক প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতা সম্পর্কিত যেসব টুইট প্রেসিডেন্ট করেছেন; সেগুলোর প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে। তবে এসব টুইটকে সমর্থনের মতো কোনও তথ্য আমার হাতে নেই।

জেমস কমি বলেন, আমরা গুরুত্ব সহকারে এ বিষয়টি দেখেছি। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস থেকে আমাকে বলা হয়েছে এ বিষয়ে আপনাদের অবহিত করতে। এর উত্তর হচ্ছে, আমার দফতরে প্রেসিডেন্টের টুইটের সমর্থনে কোনও তথ্য নেই।

এফবিআই পরিচালক বলেন, ২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার প্রভাব বিস্তার নিয়ে একটি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকালে তার ট্রাম্প টাওয়ারে আড়িপাতা হয়েছিল। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি শন স্পাইসার ব্রিটেনের দিকে ইঙ্গিত করে একই রকম দাবি করেন। অ্যান্ড্রু নাপোলিতানো নামের সাবেক এক বিচারককে উদ্ধৃত করে শন স্পাইসার বলেন, ‘তিনটি গোয়েন্দা সূত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ওবামা চেইন অব কমান্ড অতিক্রম করেছেন। তিনি সিআইএ বা এনএসএ’কে ব্যবহার করেননি। তিনি এফবিআই, আইন মন্ত্রণালয়কেও ব্যবহার করেননি। তিনি ব্যবহার করেছিলেন জিসিএইচকিউ।’

জেমস কমি

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনে আড়িপাতার এমন অভিযোগ অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির যোগাযোগ গোয়েন্দা সংস্থা (জিসিএইচকিউ) শুক্রবার বলেছে, ট্রাম্পের ফোনে আড়িপাতার অভিযোগ ‘পুরোপুরি হাস্যকর’।

জিসিএইচকিউ’র মুখপাত্র বলেছেন, বিচারক অ্যান্ড্রু নাপোলিতানো সম্প্রতি জিসিএইচকিউ’র বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা একেবারে অর্থহীন প্রলাপ। এগুলো একেবারেই হাস্যকর।’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস থেকে তাদের নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এ ধরনের অভিযোগের আর পুনরাবৃত্তি করা হবে না।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-এর একজন মুখপাত্র বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের কাছে এটা পরিষ্কার করেছি যে, এসব দাবি হাস্যকর। তাদের উচিত এসব বিষয় উপেক্ষা করা। আমরা নিশ্চয়তা পেয়েছি যে; তারা আর এর পুনরাবৃত্তি করবেন না।’

এর আগে চলতি মাসেই বারাক ওবামা’র বিরুদ্ধে ফোনে আড়িপাতার ওই অভিযোগ প্রমাণ করতে ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রিপাবলিকান নেতা জন ম্যাককেইন। আর প্রমাণ হাজির না করতে পারলে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে মার্কিন কংগ্রেসের হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির প্রধান ডেভিন নিউনেস মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ সানডে-এর এক অনুষ্ঠানে বলেন, ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশের কোনও প্রমাণ মেলেনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিন

সর্বশেষ মার্কিন নির্বাচনের প্রচারণার শুরু থেকেই রুশ হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠতে থাকে। এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়ও ছিল রুশ হস্তক্ষেপ ও ট্রাম্পকে জেতাতে রাশিয়ার সহযোগিতা। সর্বশেষ মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জয়ী করার জন্য অভিযান চালানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এনএসএ, সিআইএ এবং এফবিআই-এর দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ওই যৌথ প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে পুতিনকে দায়ী করা হয়। তিনি তার ‘পছন্দের’ প্রার্থীকে জয়ী করতে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছেন বলেও দাবি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘আমদের মূল্যায়নে বেরিয়ে এসেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাকে প্রভাবিত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। রাশিয়ার লক্ষ্য ছিল মার্কিন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি করা, হিলারি ক্লিনটনকে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং নির্বাচনে তার সমর্থনকে প্রভাবিত করে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। আমাদের মূল্যায়নে আরও উঠে এসেছে, পুতিন এবং রুশ সরকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নির্বাচনে জয়ী করার ক্ষেত্রে পরিষ্কার পক্ষপাতিত্ব ছিল।’

ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, নভেম্বরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে বিদেশি শক্তির হ্যাকিংয়ের কোনও প্রভাব ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুখ খুলেছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মস্কোতে সাংবাদিকদের বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগ শুনতে শুনতে রাশিয়া ‘ক্লান্ত’।

হ্যাকিংয়ে রুশ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে এর মধ্যেই বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৩৫জন রুশ কূটনৈতিককে বহিষ্কার করেছেন এবং বেশকিছু রুশ প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সূত্র: আল জাজিরা, বিবিসি।

/এমপি/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ