চীনের পর এবার উ. কোরীয় সীমান্তে সেনা মোতায়েন করলো রাশিয়া

Send
বিদেশ ডেস্ক১৪:৫১, এপ্রিল ২১, ২০১৭

ট্রেনে করে সামরিক সরঞ্জাম যাচ্ছে কোরীয় সীমান্তেযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধের আশঙ্কায় সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে চীন আগেই। এবার উত্তর কোরিয়া সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়াও। বৃহস্পতিবার সকালে রুশ সেনা ও সামরিক যন্ত্রপাতি সীমান্তে পাঠানো হয়। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে রাশিয়ার ১১ মাইল সীমান্ত রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল অনলাইন এ খবর জানিয়েছে।

সীমান্ত সুরক্ষার জন্য উত্তর কোরীয় সীমান্তে একদিন আগে প্রায় দেড় লাখ সেনা মোতায়েন করে চীন। বেইজিংয়ের আশঙ্কা, উত্তর কোরিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে সীমান্ত পার হয়ে চীনে শরণার্থীরা প্রবেশ করতে পারেন।

একটি ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে ডেইলি মেইল অনলাইন জানিয়েছে,  বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর কোরীয় সীমান্তে সেনা ও সামরিক যন্ত্রপাতি মোতায়েন করেছে রাশিয়া। ফুটেজে দেখা গেছে, তিনটি ট্রেনের একটিতে সামরিক সরঞ্জাম সীমান্তে নেওয়া হয়েছে।

আরেকটি সূত্রের বরাত দিয়ে খবরে বলা হয়ে, উত্তর কোরিয়া সীমান্তে সামরিক হেলিকপ্টার পৌঁছেছে এবং সেনাবাহিনীর যুদ্ধের বেশ কয়েকটি সামরিক যানও পৌঁছেছে। অপর একটি খবরে বলা হয়েছে, সড়ক পথে সেনারা পৌঁছেছে সীমান্তে।

বেইজিংয়ের মতো মস্কোরও আশঙ্কা, যদি সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে তাহলে উত্তর কোরিয়ার মানুষ মানবিক আশ্রয়ের জন্য রাশিয়াগামী হতে পারে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দেশটির সেনা কর্মকর্তারা সতর্ক করে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায় তাহলে রাশিয়াতেও দূষণ ছড়াতে পারে।

রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ট্রেনে করে সামরিক সরঞ্জাম প্রিমোরস্কি অঞ্চলে পাঠানো হয়েছে। সাবেক রুশ সেনা স্টানিসভ্লা সিনিস্টিন বলেন, আলাদা আলাদা পথে দক্ষিণাঞ্চলে এসব সামরিক সরঞ্জাম আসার মানে হচ্ছে প্রিমোরস্কি অঞ্চলটি গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই নজরে রাখা হচ্ছিল। এর অনেক কিছুই কোরীয় উপদ্বীপের উত্তেজনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যে ধরণের সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন করা হচ্ছে তাতে স্পষ্ট এগুলো দিয়ে সেনারা হামলা অথবা আক্রমণকারীর মোকাবিলা করতে পারবে।

এই সাবেক সেনা জানান, পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব হচ্ছে প্রতিরোধমূলক কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।  তিনি বলেন, পরিস্থিতি যদি খারাপের দিকে মোড় নেয় তাহলে প্রতিবেশী দেশগুলো আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করবে। রাশিয়াও ব্যতিক্রম নয়। এর আগেও উত্তর কোরিয়া এ অঞ্চলের শান্তি নষ্ট করেছে। ফলে তা মনোযোগ দাবি করে।

রুশ সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আলেক্সান্দার গোরদেয়েভ সীমান্তে সেনা মোতায়েনের নির্দিষ্ট কারণের কথা জানাননি। তবে জানিয়েছেন, সাইবেরিয়ার ট্রান্সবাইকাল অঞ্চলে সম্প্রতি সেনাবাহিনীর মহড়া শেষ হয়েছে।

উত্তর কোরিয়া থেকে ১০০ মাইল দূরে ভ্লাদিভোস্তক এলাকায় রাশিয়ার নৌবাহিনীর বন্দর রয়েছে। এখানে অনেক রুশ সেনা অবস্থান করছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ঘাঁটিতে হামলা হলে তা ভ্লাদিভোস্তকে দুই ঘণ্টার মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, পারমাণবিক ও ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম চালানোর কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বেশ কয়েকবার নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও ওই কার্যক্রম থেকে সরে আসেনি উত্তর কোরিয়া। বরং দেশটি পাল্টা হুমকি অব্যাহত রেখেছে। গত ৫ এপ্রিল জাপান সাগরে একটি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে উত্তর কোরিয়া। এর আগে ৬ মার্চ উত্তর কোরিয়ার চীন সীমান্তের নিকটবর্তী তংচ্যাং-রি অঞ্চল থেকে জাপান সাগরে চারটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। তখন দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহ্যাপ জানায়, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্ভবত আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। এরপর উত্তর কোরিয়া দেশটির জাতীয় দিবসে ৬ষ্ঠ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা দিলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। সূত্র: ডেইলি মেইল অনলাইন।

/এএ/

লাইভ

টপ