Vision  ad on bangla Tribune

জার্মানিতে হয়রানির শিকার বাংলাদেশি দম্পতি

বিদেশ ডেস্ক২৩:৫৯, এপ্রিল ২১, ২০১৭

আসগর হোসেইন এবং ইউসরা জাফরিনজার্মানিতে এক বাস চালকের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন এক বাংলাদেশি দম্পতি। অভিযোগ উঠেছে, বিদেশি বলেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভুক্তভোগী আসগর হোসেইন পোস্ট দেওয়ার পর বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। হোসেইন জার্মানিতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন। সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানি দুঃখ প্রকাশ করে টিকিটের টাকা ফেরত দিলেও ভুক্তভোগী দম্পতি বলছেন, ‘এটা যথেষ্ট নয়।’ জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে এ খবর জানিয়েছে।

ইউরোপে সেবা দানকারী জার্মানিভিত্তিক বাস কোম্পানি ফ্লিক্সবাসে করে জুরিখ থেকে হাইডেলসহাইমে ফিরছিলেন বাংলাদেশি দম্পতি আসগর হোসেইন এবং ইউসরা জাফরিন। হাইডেলবার্গে যাত্রাবিরতির সময় স্বামীকে বাসে রেখেই পাশ্ববর্তী ম্যাকডোনাল্ডস রেস্তোরাঁর টয়লেটে গিয়েছিলেন জাফরিন। কিন্তু ফিরে দেখেন বাস তার স্বামীকে নিয়ে চলে গেছে। সঙ্গে চলে গেছে জাফরিনের শীতের জ্যাকেট, মোবাইল, পার্স, সবকিছু।

জার্মান ভাষা না জানা, জার্মানিতে নতুন আসা জাফরিন আতঙ্কে কেঁদেছেন তখন, ঠাণ্ডার মাঝে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে খুঁজেছেন স্বামীকে। অন্যদিকে, স্বামী তখন বাসচালকের কাছে কাকুতি মিনতি করছেন বাস থেকে যাতে তাকে অন্তত নামিয়ে দেওয়া হয়। যাতে স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে পারেন তিনি। এক পর্যায়ে ক্ষণিকের জন্য বাসের দরজা খুলে দেন চালক। তবে লাগেজ, জ্যাকেট ছাড়াই নামতে হয় স্বামীকেও। ততক্ষণে স্টেশন থেকে বাস চলে গেছে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে।

পাঁচ ঘণ্টা যাত্রার পর টয়লেট ব্যবহারের চাহিদা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর বাসের টয়লেট ‘অপরিচ্ছন্ন’থাকায় ম্যাকডোনাল্ডসে গিয়েছিলেন জাফরিন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বাসের চালক তাকে না নিয়ে চলে গেলেন কেন? আসগর হোসেইন পুরো ঘটনাটি ফেসবুকে লিখেছেন। তার দাবি, বিদেশি বলেই তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করেছেন বাসের চালক। তার পোস্টটি ইতোমধ্যে ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার হয়েছে। অনেকেই বাস চালকের এমন আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন।

ফ্লিক্সবাসের এক মুখপাত্র ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন, হাইডেলবার্গে গত ১৮ এপ্রিল হোসেইন এবং তার স্ত্রীর সঙ্গে যা ঘটেছে, তার জন্য তারা অত্যন্ত দুঃখিত। এজন্য তাদের বাসের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

ফ্লিক্সবাসের কর্পোরেট কমিউনিকেশন্স-এর প্রধান বেটিনা এনগার্ট বাস কোম্পানির পক্ষে যুক্তি দিচ্ছেন, তাদের বাসগুলো নির্দিষ্ট সময় মেনে চলে এবং হাইডেলবার্গে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য দাঁড়িয়েছিল। ওই বাসের চালকের বিষয়ে তার দাবি, ‘যে চালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি নিজেও বিদেশি বংশোদ্ভূত এবং তিন বছর ধরে কোম্পানির বাস চালালেও তার বিরুদ্ধে এর আগে কোনও অসদাচরণের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’

হোসেইন জানিয়েছেন, হাইডেলবার্গে যখন বাস ছাড়ছিল, তখন তার স্ত্রীকে ম্যাকডোনাল্ডস থেকে ফিরতে দেখা যাচ্ছিল। হোসেইন বলেন, ‘জাফরিন হয়ত দুই মিনিট দেরি করেছেন। আর তাতে তাদের সঙ্গে যে ব্যবহার করা হয়েছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরে যে বাসে করে ফিরেছি, সেটাও ফ্লিক্সবাস ছিল, সে বাসের চালক এবং সহকারি জানিয়েছেন যে, কোনও প্রয়োজন হলে আমরা পাঁচ থেকে দশ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি। এটা কোনও সমস্যা নয়।’

এ প্রসঙ্গে বেটিনা এনগার্ট জানিয়েছেন, ‘ফ্লিক্সবাস একটি বহুজাতিক কোম্পানি এবং যাত্রী বা কর্মীদের সঙ্গে কোনও রকম বৈষম্যমূলক আচরণ প্রতিষ্ঠানটির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।’ হোসেইনের ঘটনার বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্ট বাস এবং চালকের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

হোসেইন অবশ্য বাস কোম্পানির এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।এখনো তাঁরা নিজেদের লাগেজ এবং অন্যান্য জিনিসপত্র ফেরত পাননি। যে হয়রানির শিকার তারা হয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থানেওয়ারকথাও বিবেচনা করছেন বলে হোসেইন জানিয়েছেন।

/এসএ/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ