পালিয়ে আসার পথে চার সন্তানকে চিরতরে হারিয়ে ফেলা ফাতিমার গল্প

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:২৫, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪২, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭

‘গ্রাম ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছিলাম যখন, আমরা সাতজন একসঙ্গেই ছিলাম। আমি, আমার চার ছেলে আর দুই মেয়ে।  কিন্তু পাহাড়ের পথ ধরে পালিয়ে আসা খুবই কঠিন। পথেই চার ছেলেকে হারিয়েছি। সেনারা আমার ৫ বছর ও ১০ বছর বয়সী ছেলেকে গুলি করে মেরেছে। বাকী দুই ছেলের একজনের বয়স দুই, আরেকজন ছিল তিন বছর বয়সী। ক্ষুধার যন্ত্রণায় ওরা মরে গেছে।' ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজের কাছে এভাবেই চার সন্তানের চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার করুণ আখ্যান বলে চলেন এক রোহিঙ্গা মা।  প্রতিবেদক আশিষ জোশি জানিয়েছেন, ফাতিমা নামের ওই রোহিঙ্গা নারীর গল্প শুনে হৃদয় ভেঙে গেছে তার। 

সারিবদ্ধ হয়ে রাখাইন রাজ্য থেকে পালাতে থাকা রোহিঙ্গারা

সাম্প্রতিক ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের লক্ষ্যে সেনা অভিযান শুরুর কয়েকদিনের মাথায় ২৪টি পুলিশ চেকপোস্টে বিদ্রোহীদের সমন্বিত হামলায় অন্তত ১০৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়ে রোহিঙ্গাবিরোধী অভিযান জোরদার করে সরকার। তখন থেকে নিপীড়নের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। এরইমধ্যে সেই সংখ্যা চার লাখ ছাড়ার তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। পালিয়ে আসা এই মানুষদের বিপন্নতার গল্প শুনছিলেন সাংবাদিক জোশি। স্কাই নিউজের প্রযোজক নেভিলে লাজারাস ও ক্যামেরাপার্সন পিট মিলনেস-এর সঙ্গে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। 
স্কাই নিউজের পক্ষ থেকে ফাতেমার চার সন্তান হারানোর গল্প শোনার আগে আরও অনেকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। সেইসব কথা শুনে তিনি ভেবেছিলেন, কষ্ট আর যন্ত্রণার সব কথা বোধহয় শোনা হয়ে গেছে তার। ফাতিমার গল্প তাকে ধারণাতীত অভিজ্ঞতা দিয়েছিল। প্রতিবেদক জোশির ভাষায়, 'শোনার আগে ভাবতেও পারিনি যে এমন একটা কাহিনী শোনার অপেক্ষায় আছি, যা আমার হৃদয় দুমড়েমুচড়ে দিতে পারে'। 
চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন খবর দিয়েছিল, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রক্তাক্ত অভিযানের মুখে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম আটকা পড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার, পানি, ওষুধ সংকটের কারণে তাদের প্রাণহানির শঙ্কা প্রকাশ করেছিল মানবাধিকার কর্মীরা। এরা তখনও নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেননি। আবার পুড়িয়ে দেওয়া গ্রামে ফেরার কোনও উপায়ও ছিল না। ফাতিমাও এদেরই একজন কিনা, তা জানা যায়নি। তবে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। তবে মৃত দুই সন্তানের মরদেহ ফেলে এসেছেন সেই পাহাড়েই। তার ভাষায়, 'কেমন করে ওদের লাশ নিয়ে হাঁটব, তাই পাহাড়েই ফেলে এসেছি।'


দুই ছেলেকে পাহাড়ের কোলে চির-বিসর্জন দিয়ে দুই মেয়েকে জীবিত অবস্থায় নিয়ে বাংলাদেশে আসতে সক্ষম হয়েছেন ফাতিমা। ৩ বছর বয়সী বড় বোনের কোলে চেপে এসেছে ২ বছর বয়সী সহোদরা। শরীরজুড়ে তার জলবসন্তের মতো ফোস্কা। পায়ে রক্তাক্ত ক্ষতচিহ্ন।

/এফইউ/বিএ/

লাইভ

টপ