রোহিঙ্গা সংকটের গ্রহণযোগ্য তদন্ত চাইলেন টিলারসন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:২১, নভেম্বর ১৫, ২০১৭ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৩, নভেম্বর ১৫, ২০১৭

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতায় গ্রহণযোগ্য তদন্ত করার জন্য দেশটির ডি ফ্যাক্টো নেত্রী অং সান সু চিকে আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার একদিনের সংক্ষিপ্ত সফরে নেপিদোতে সু চির সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানান তিনি।

মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের সঙ্গে টিলারসন

বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে টিলারসন বলেন, যা ঘটেছে তা ভয়াবহ।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাখাইন রাজ্যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সহযোগীদের ব্যাপক সহিংসতার গ্রহণযোগ্য খবরে আমরা গভীর উদ্বেগবোধ করছি।

টিলারসন আরও বলেন, কয়েক লাখ নারী, পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়ার ঘটনায়ও আমরা মর্মাহত।

সু চির সঙ্গে বৈঠকের আগে টিলারসন দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অংয়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন।

রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের ডি ফ্যাক্টো নেত্রী ও দেশটির প্রভাবশালী সেনাবাহিনীকে চাপ দিতে বুধবার নেপিদো পৌঁছান তিনি। রাখাইনে সামরিক অভিযানকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে আখ্যায়িত করে জাতিসংঘ।

বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, টিলারসন রাখাইনে সহিংসতা বন্ধে সেনাপ্রধানকে আহ্বান জানাবেন। যাতে করে রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে নিপীড়নের একটি গ্রহণযোগ্য তদন্ত পরিচালনারও আহ্বান জানাবেন টিলারসন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এই মার্কিন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমরা মনেকরি গত কয়েক বছরে মিয়ানমান অনেক উন্নতি করেছে। আমরা চাই না এমন সংকটের কারণে এই উন্নতি পিছিয়ে যাক।

রাখাইনে সেনা অভিযানে ব্যাপক সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ ও নিপীড়নের অভিযোগে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা ও চাপের মুখে রয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।  ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলার পর সামরিক অভিযান জোরদার করে মিয়ানমার। এ অভিযানের পর ৬ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞের অভিযোগ এনেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা, রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হচ্ছে বলে দাবি করেছে। মিয়ানমার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আমন্ত্রণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব এনেছে। সূত্র: রয়টার্স।

 

/এএ/

লাইভ

টপ