পাকিস্তানকে দেওয়া সহায়তা জঙ্গি দমনে কাজে লাগবে: যুক্তরাষ্ট্র

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৫:৪৮, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৩, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

আল কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) মতো জঙ্গিদের দমনে সহায়তার জন্য পাকিস্তানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে আবেদন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। আবেদনে আগামী অর্থবছরে পাকিস্তানকে বেসামরিক ও সামরিক সহায়তার জন্য ৩৩ কোটি ৬০ লাখ (৩৩৬ ‍মিলিয়ন) ডলার অনুমোদন করতে বলা হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন এ খবর জানিয়েছে।

188159

নতুন বছরের প্রথম ‍দিন পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে সাড়ে ২২ কোটি (২২৫ মিলিয়ন) ডলার আটকে দেয়। পাকিস্তান সন্ত্রাস দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না অভিযোগ করে নিরাপত্তা সহায়তা বাবদ এই সহয়তা বন্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে পাকিস্তান শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তবে এরই মধ্যে আগামী ২০১৯ অর্থ বছরে পাকিস্তানকে দেওয়ার জন্য সহায়তা বরাদ্দ চাইলো ট্রাম্প প্রশাসন। 

সহায়তা বন্ধের পরও পাকিস্তানের জন্য গত বছরের চেয়ে এবার মোটের ওপর মাত্র এক কোটি ডলার কম সহায়তার বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সামরিক সহায়তার আওতায় বিদেশি সামরিক অর্থায়ন (এফএমএফ) তহবিল থেকে ৮ কোটি (৮০ মিলিয়ন) ডলার বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গত বছর তা ছিল ১০ কোটি বা ১০০ মিলিয়ন ডলার।

২০১৭ সালে পাকিস্তানকে সহায়তার জন্য ২৪ কোটি ২২ লাখ ৫০ হাজার (২৪২.৫ মিলিয়ন) ডলার গ্রহণ করছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ২০১৯ সালের প্রস্তাবেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৭ ও ২০১৮ সালের মতো চলমান বছরে এই বাজেট ব্যবহার করা যাবে না। আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ২০১৯ অর্থবছরে তা ব্যবহার করা হবে।

আফগান জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে আগের বরাদ্দকৃত অর্থের বিশাল একটা অংশ পাকিস্তানকে দেওয়া থেকে বিরত ছিল যুক্তরাষ্ট্র। তাই এবারের বরাদ্দ পাকিস্তানের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। তবে সামরিক সহায়তার আবেদনে পরিষ্কার করে বলা হয়েছে যে, ২০১৯ অর্থ বছরের বরাদ্দ অর্থ অবশ্যই শর্তসাপেক্ষ। ট্রাম্প প্রশাসনের দক্ষিণ এশিয়া কৌশল অনুসারে পাকিস্তান যৌথ স্বার্থ রক্ষা সহায়তা বৃদ্ধি ও জাতীয় মতানৈক্যের ক্ষেত্রে যথাযথ পদক্ষেপ নিলেই কেবল এই অর্থ ছাড় করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, প্রস্তাবিত সামরিক সহায়তা স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা উন্নত করা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের সক্ষমতা বাড়াবে। আর এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ সমুন্নত থাকবে। এই সহায়তা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর নিরাপদ স্বর্গ ধ্বংস করতে উৎসাহিত করবে। এছাড়া এর মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গি বিদ্রোহ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উদ্যোগ নিতে পারবে পাকিস্তান।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছিল, আফগান তালেবানদের দমন করতে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তায় রাজি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করা হবে। তারই ধারাবাহিকতায় এই সহায়তা বরাদ্দ করা হলো।

পাকিস্তানের জন্য মোট বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে আন্তর্জাতিক সামরিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (আইএমইটি) তহবিল থেকে বরাদ্দ করা ৩৫ লাখ ডলারও রয়েছে। এই সহায়তা আগে বন্ধ করা হয়নি। এই বরাদ্দের পেছনে যু্ক্তি হিসেবে বলা হয়, আইএমইটি কর্মসূরি আওতায় আঞ্চলিক অংশীদার প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর পেশাদারিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে পেশাগত সামরিক শিক্ষা, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা, মানবাধিকার ও বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এই তালিকায় অগ্রাধিকার পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান রয়েছে।

/আরএ/

লাইভ

টপ