পাকিস্তানকে জঙ্গি-অর্থায়নকারী দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৩৩, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:১৬, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৮

পাকিস্তানকে জঙ্গি অর্থায়নকারী দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে নজরদারিতে রাখার জন্য তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই অংশ হিসেবে ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছে তারা। আগামী ১৮ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এফএটিএফ বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হতে পারে। মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন।

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন মোকাবিলায় এফএটিএফ-এর ‘ধূসর’ ও ‘কালো’ নামে দুটি নিষিদ্ধ তালিকা রয়েছে। পর্যবেক্ষক এই গ্রুপটি কোনও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না। তবে এই তালিকা আন্তর্জাতিক বিনিয়োগে প্রভাব ফেলে। ফলে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকা দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে এবং এতে স্থানীয় ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর আগে ২০১২ সালে এফএটিএফ তালিকাভুক্ত হয়েছিল পাকিস্তান। প্রায় তিন বছর সে তালিকায় থাকে তারা।

রয়টার্স জানায়, ১৮ থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি ফিন্যানসিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)-এর বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আর ওই বৈঠকে পাকিস্তানকে এফএটিএফ-এর তালিকার অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো।  

পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মিফতাহ ইসমাইল রয়টার্সকে বলে, কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে অভিযুক্ত ‘নিষিদ্ধ তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করেছে। এরপর জার্মানি ও ফ্রান্সও তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তিনি বলেন, ‘এখন আমরা ‍যুক্তরাষ্ট্র, ‍যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্সের সঙ্গে কাজ করছি যেন তারা এই মনোনয়ন তুলে নেন। আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র মনোনয়ন তুলে না নিলেও আমরা নজরদারি তালিকা থেকে বের হয়ে যাব।

এক শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, তারা পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি বলেন ‘এখনই তাদের পদক্ষেপে নেওয়া উচিত। আমরা আমাদের মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে হাক্কানি ও তালেবানদের মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছি।’

এফএটিএফ বৈঠককে সামনে রেখে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেন ১৯৯৭ সন্ত্রাসবিরোধী আইন অনুযায়ী সংশোধন করে একটি অর্ডিন্যান্স জারি করেছেন। সংশোধিত আইন অনুযায়ী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে নিষিদ্ধ থাকা ব্যক্তি ও সংগঠনগুলো পাকিস্তানেও নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত হবে। 

জাতিসংঘের তালিকায় ২৭টি জঙ্গিগোষ্ঠীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসেন সন্ত্রাসবিরোধী আইন (এটিএ) ১৯৯৭ সংশোধন করার পর দেশজুড়ে জঙ্গিবিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরোপিত হয়েছে। কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা সংশোধিত সন্ত্রাসবিরোধী অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আর তাদের মিত্ররা ধারাবাহিক অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান ও তাদের মিত্র হাক্কানি নেটওয়ার্ককে পাকিস্তানে ‘নিভৃত আবাস’ গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে ইসলামাবাদ। নতুন বছরের টুইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদে মদদের অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে সহায়তা বন্ধের হুমকি দেওয়ার পর ৫ জানুয়ারি নিরাপত্তা সহযোগিতা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।অবশ্য, হাক্কানি নেটওয়ার্ক, তালেবান ও লস্কর-ই-তৈয়বার মতো জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে পাকিস্তান তহবিল জুগিয়ে যাচ্ছে বলে ক্রমাগত অভিযোগ করে যাওয়ার পরও দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ছিন্ন হয়নি। এবার ট্রাম্পের ঘোষণার পরও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার কথা জানিয়েছেন। বলেছেন, সহায়তা স্থগিত সাময়িক। আর এটি আপাতত স্থগিত করা হলেও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলবে যুক্তরাষ্ট্র।

/এমএইচ/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ