নেতানিয়াহুকে জেলে পাঠাতে পারে টাটার সস্তা গাড়ি!

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:০১, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৮, ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০১৮

 

কম দামে গাড়ি তৈরি করে সাড়া ফেলে দেওয়া ভারতীয় কোম্পানি টাটার সঙ্গে অনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সূত্র ধরে কারাগারে যেতে হতে পারে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম হারেৎজের খবরে পুলিশ রিপোর্টের সূত্রে বলা হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের জর্ডান, ফিলিস্তিন সীমান্তে ইসরায়েলের মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে টাটার একটি কারখানা স্থাপন করতে দেওয়ার বিনিময়ে উপহার নিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কয়েক মাসের তদন্তের পর দেশটির পুলিশের তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার সুপারিশ করেছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল পুলিশের বিশ্বাস হলিউড মুঘল আরনন মিলসানের কাছ থেকে পর্যাপ্ত উপহার নেওয়ার বিনিময়ে নেতানিয়াহু কম দামের টাটা গাড়ি উৎপাদন কারখানা স্থাপন করতে দিতে সম্মত হয়েছিলেন। পুলিশের বক্তব্য মিলসান ও তার ভারতীয় ব্যবসায়িক অংশীদার রতন টাটা যৌথভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ওই কারখানা স্থাপন করতে চেয়েছিলেন।

গত সেপ্টেম্বরে চ্যানেল টেন এর সাংবাদিক রাভিভ ড্রাকার প্রথম খবর দেন যে, মিলসান এবং টাটার প্লান্টে সহায়তা করায় নেতানিয়াহুকে সন্দেহ করছে পুলিশ।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের শেষ দিতে মিলসান নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করে ওই পরিকল্পনার বিস্তারিত জানান। আরব বিশ্বে টাটার গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ করতে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে ওই কারখানা স্থাপন করে ফিলিস্তিনি, ইসরায়লি ও জর্ডানের নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছিল ওই পরিকল্পনায়। ওই কারখানায় টাটা শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে আগ্রহী বলে জানান মিলসান। পরিকল্পনা পছন্দ হয় নেতানিয়াহুর।

পুলিশের অভিযোগ, ওই সময়ে তার ব্যুরো পরিচালক আইয়াল গাবির নেতৃত্বে একটি দল গঠন করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন নেতানিয়াহু। বিনিময়ে তিনি উপহার হিসেবে নিজের জন্য সিগারেট ও স্ত্রী সারা নেতানিয়াহুর জন্য শ্যাম্পেন নেন।

গাবির প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি নেতানিয়াহুর এই বিষয়ের উদ্যমকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের এক কর্মকর্তা দেখিয়ে দেন যে এই ধরনের উদ্যোগের ক্ষেত্রে নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরনের দরকার। তিনি বলেন, মিলসান এবং টাটাকে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে কারখানা স্থাপন করতে দেওয়ার কোনও বিশেষ কারন থাকতে পারে না। আরেক কর্মকর্তা উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, ফিলিস্তিনি নাগরিকদের দাস শ্রমের পরিবেশে কাজ করানো দিয়ে পরিচিত হয়ে উঠতে পারে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল। তবে এসব সতর্কতা আমলে না নিয়ে নেতানিয়াহু গাবিকে ওই পরিকল্পনার সম্ভাব্যতার দিকে নজর দিতে নির্দেশ দেন। তবে এতে কোনও লাভ হয়নি।

পুলিশ রিপোর্টের বরাতে হারেৎজের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিরোধিতা সত্ত্বেও নেতানিয়াহু চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিয়েছিলেন।

তবে হারেৎজ দাবি করেছে, পুলিশের অভিযোগের বিপরীত তথ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছে তারা। কারখানা স্থাপনের ওই পরিকল্পনা পরীক্ষা করতে কোনও টিম গঠন করা হয়নি আর ওই উদ্যোগের জন্য কোনও চাপও দেওয়া হয়নি বলে দাবি সংবাদমাধ্যমটির।

২০১০ সালের শুরুর দিকে ইসরায়েলে টাটার প্রতিনিধিদের প্রধানমন্ত্রীর দফতরের কর্মকর্তা ও গাবির সঙ্গে বৈঠকের জন্য ডাকা হয়। ওই বৈঠকের আলোচ্যসূচি পেয়েছে পুলিশ। ওই সূচি অনুযায়ী টাটার প্রতিনিধিরা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কোনও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। ওই বৈঠকে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সম্ভাব্যতা যাচাই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হলেও তা কখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

পুলিশের কাছে মিলসান দাবি করেছেন, অর্থনৈতিক শান্তি দর্শনের অংশ হিসেবেই ওই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে তা কোনও উপহারের বিনিময়ে নয় বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন তিনি। টাটার দাবি মিলসানের সঙ্গে কোনও ব্যবসায়িক সম্পর্কে নেই তাদের। আর ইসরায়েল পুলিশের দাবি তাদের মধ্যে একটি যৌথ বিনিয়োগ রয়েছে।

পুলিশ রিপোর্ট অনুযায়ী, মিলসানের কাছ থেকে উপহারের বিনিময়ে করতে চাওয়া পাঁচটি অভিযোগের একটি হলো টাটার কারখানা স্থাপন।

মঙ্গলবার ইসরায়েল পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ, জালিয়াতি ও আস্থা ভঙ্গের অভিযোগগুলোর পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ আছে।’সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে বিচারের মুখোমুখি করার প্রশ্নে সুপারিশগুলো অ্যাটর্নি জেনারেল বরাবর পাঠানো হবে।

তবে এসব অভিযোগে কিছুই হবে না দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

 

/জেজে/

লাইভ

টপ