‘বিশুদ্ধ’ বোতলজাত পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৪:১৯, মার্চ ১৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:২৯, মার্চ ১৫, ২০১৮

বোতলজাত পানিকে যতটা বিশুদ্ধ দাবি করা হয়, ততটা বিশুদ্ধ এসব পানি নয় (ছবি- অরব মিডিয়া)

 

কোকাকোলা, পেপসি থেকে শুরু করে নেসলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের বোতলে বাজারজাত করা পানিতেও মিলেছে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা। ওয়াশিংটনভিত্তিক অলাভজনক সংবাদ প্রতিষ্ঠান অরব মিডিয়ার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ওই গবেষণায় ১১টি প্রতিষ্ঠানের ২৫৯টি বোতলের নমুনা পরীক্ষা করে গড়ে প্রতি লিটার পানিতে ৩২৫টি প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ৯৩ শতাংশ নমুনাকৃত বোতলের ক্ষেত্রেই এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। কয়েকটি ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতি দেখা গেছে কাচের বোতলে বাজারজাত করা পানিতেও।
সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ শেষে ধারণা করা হচ্ছে, নমুনায় পরীক্ষিত কোনও কোনও পানি বোতলজাত ও মোড়কজাত করার সময়ে দূষণের কবলে পড়ে থাকতে পারে। এই গবেষণায় যে গবেষণা পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছে, তার যথার্থতা নিয়ে নিঃসংশয় নন বিজ্ঞান গবেষকরা। কেউ কেউ মনে করছেন, পানিতে যে পরিমাণ ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতির কথা গবেষণায় উঠে এসেছে, বাস্তব পরিমাণ তার চেয়ে কম। বিপরীতটাও বলছেন কেউ কেউ। তাদের মত, বোতলজাত পানিতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণার পরিমাণ গবেষণায় পাওয়া ফলাফলের পরিমাণের চেয়েও বেশি। আবার পানি বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের বোতলজাত পানিতে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব স্বীকার করছে। তবে তাদের দাবি, এর পরিমাণ গবেষণায় পাওয়া ফলাফলের চেয়ে অনেক কম। যদিও সেই পরিমাণ প্রকাশ করতেও নারাজ তারা। উল্লেখ্য, পানিতে বাড়তে থাকা প্লাস্টিক কণার ব্যাপারে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তবে মানব শরীরে এই কণার প্রভাব সম্পর্কে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
বিসলারি; কোকাকোলার দাসানি; ডানোনের ইভিয়ান ও অ্যাকুয়া; গেরোলস্টেইনার; মিনালবা; নেসলের নেসলে পিওর লাইফ ও স্যান পেলারগ্রিনো; পেপসির অ্যাকুয়াফিনা ও ই-পুরা এবং ওয়াহাহা ব্র্যান্ডের পানিকে গবেষণায় নমুনা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। পরীক্ষায় নেসলের পিওর লাইফ ও গেরোলস্টেইনারের বোতলজাত পানিকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার ঘনত্বসম্পন্ন পানি হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এই দুই ব্র্যান্ডের বোতলজাত পানির নমুনায় ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি লিটারপ্রতি যথাক্রমে ৯৩০ ও ৮৭০টি। নমুনাকৃত কিছু বোতলে ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি একেবার শূন্য। আবার কিছু নমুনাকৃত পানির বোতলের ক্ষেত্রে লিটারপ্রতি ১০ হাজার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার উপস্থিতিও পাওয়া গেছে। ফলাফলে সংগৃহীত নমুনার ৯৩ শতাংশেই প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার উপস্থিতির ভয়াবহতা উঠে এসেছে। আর লিটারপ্রতি গড়ে প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা পাওয়া গেছে ৩২৫টি।
অরব মিডিয়া নেটয়ার্কের উদ্যোগে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বোতলজাত পানিতে প্রতি লিটারে ১০.৪টি ১০০ মাইক্রন (০.১০ মিলিমিটার) আকারের প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি গবেষণার সূত্রে সমুদ্র, মাটি, বাতাস, হ্রদ ও নদীতে ৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট আকারের প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব রয়েছে বলে জানিয়েছে অরব। ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণার মাধ্যমে বোতলজাত পানির এই দূষণের ক্ষেত্রে মোড়ক বা বোতলজাত করার প্রক্রিয়াকে অংশত দায়ী হিসেবে শনাক্ত করেছে তারা।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা ফাওয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্লাস্টিকের ৯০ শতাংশ ক্ষুদ্র কণা শরীর থেকে বেরিয়ে গেলেও ১৫০ মাইক্রন বা ০.১৫ মিলিমিটারের চেয়েও ছোট আকারের বাকি ১০ শতাংশ ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষের বৃক্ক ও যকৃতে প্রবেশ করতে পারে। আর অরব-এর পরীক্ষায় ওই আকারের প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে।
ইকোনোমিস্ট পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, পানীয়ের বাজারে বোতলজাত পানিই বিশ্বে এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প খাত। এর বর্তমান বাজার ১৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের। অচিরেই এই খাতের সম্ভাব্য উৎপাদন সক্ষমতা প্রতি বছরে ৩০ হাজার কোটি লিটারে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৪৮ হাজার কোটিরও বেশি পানির বোতল বিক্রি হয়েছে। ২০২১ সাল নাগাদ এর পরিমাণ ৫৮ হাজার ৩৩০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বোতলজাত পানির এই বর্ধনশীল জনপ্রিয়তার কারণে পানিতে থাকা ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার প্রভাব নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে ক্রমেই দুশ্চিন্তা বাড়ছে। দুশ্চিন্তা বাড়ছে বিভিন্ন দেশের সরকারের মধ্যেও।
নরওয়েজিয়ান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিষ বিশেষজ্ঞ মার্টিন ওয়াগনার বলেছেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত যা জানতে পেরেছি তা বিক্ষিপ্ত ও অসম্পূর্ণ। তা সত্ত্বেও এটা বলা যায়, প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণার সঙ্গে স্বাস্থ্য ঝুঁকির যোগাযোগ নেই বললেই চলে।’ অবশ্য মানুষ ও প্লাস্টিকের মধ্যকার ‘ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ’ তুলে ধরা এই গবেষণাকে ‘অত্যন্ত উজ্জ্বল উদাহরণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
জুরিখভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফুড প্যাকেজিং ফোরামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেন মানকে বলেছেন, প্লাস্টিকে থাকা সব রাসায়নিক সম্পর্কে জানা যায়নি। প্লাস্টিক পেটে গেলে তার প্রভাব কী হবে সে বিষয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে কিছু সম্ভাব্য ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে গবেষণাগারে এ নিয়ে কোনও পরীক্ষা হয়নি।


বিভিন্ন কোম্পানির বোতলজাত পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণার ঘনত্ব (তথ্য সূত্র: অরব মিডিয়া)

 

পরীক্ষাটি যেভাবে করা হয়েছে
গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউ ইয়র্কে। তত্ত্বাবধান করেছের অধ্যাপক শেরি ম্যাসন। তার সহযোগীরা বোতলজাত পানিতে ‘নাইল রেড’ নামের একটি রঞ্জক পদার্থ মেশান (এটি প্লাস্টিকের সঙ্গে বিক্রিয়া করে)। তারপর ওই পানিকে মানুষের লাল রক্তকণিকার চেয়েও ছোট ১.৫ মাইক্রন ও ০.০০১৫ মাইক্রন ছিদ্রের ছাকনিতে ছেঁকে নেন। গবেষণায় দুই ছাকনিতেই রঞ্জক পদার্থের উপস্থিতির কারণে রঙিন হয়ে ওঠা প্লাস্টিকের কণাগুলোকে অণুবীক্ষণ যন্ত্রে জ্বলজ্বল করে উঠতে দেখা গিয়েছিল। অবশ্য একেক ছাকনিতে জমা কণার পরিমাণ ছিল একেক রকম। কোনও কোনও ছাকনিতে প্রায় ১০ হাজার কণা জমলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কণার পরিমাণ ছিল এর চেয়ে কম। কোনটায় আবার কোনও প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব মেলেনি। গবেষণার ফলাফলে নমুনাকৃত প্রতিটি বোতলজাত পানিতে পাওয়া সর্বমোট কণার গড়ভিত্তিক হিসাব হাজির করা হয়েছে।
বড় কণাগুলো (০.১০ মিলিমিটার) পর্যবেক্ষণে অধ্যাপক ম্যাসন ব্যবহার করেছেন ফুরিয়ার-ট্রান্সফর্ম ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি (এফটিআইএস)। এফটিআইএস প্লাস্টিকের কণার মতো ক্ষুদ্র কণা শনাক্তে লেজার লাইটের মাধ্যমে পদার্থের আণবিক গঠন পরীক্ষা করে। এসব পদার্থের মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলো হলো পলিপ্রোপিলিন, যা পানির বোতলের ছিপি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। তবে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকারী নাইল রেডের উদ্ভাবক অ্যান্ড্রু মায়েস বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, এফটিআইএস দিয়ে বিশ্লেষণ করে পাওয়া ক্ষুদ্রতম কণাগুলো প্লাস্টিকের কণাও হতে পারে, আবার অন্য কোন কিছুর কণাও হতে পারে।
নেসলের মান নিয়ন্ত্রণ বিভাগের প্রধান ফ্রেডরিক ডি ব্রুয়েন অভিযোগ করেছেন, ম্যাসনের পরীক্ষায় জৈবিক পদার্থ অপসারণের কোনও ধাপ ছিল না। জ্বলজ্বল করা যে কণাগুলোকে প্লাস্টিকের কণা বলা হচ্ছে, সেগুলো প্লাস্টিকের কণা নাও হতে পারে; প্রাকৃতিক উপাদানগুলোকেও নাইল রেড রঙিন করে দিয়ে থাকতে পারে। তবে ম্যাসনের দাবি, কথিত ‘পরিপাক ধাপ’ ব্যবহার করা হয় বর্জ্যতে পরিপূর্ণ নমুনার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমুদ্র বা সমুদ্র তীরবর্তী স্থান থেকে সংগ্রহ করা এবং সেটা বোতলজাত পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।’ তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বিশুদ্ধ, পরিশ্রুত পানিতে তারা কি কাঠ, শৈবাল বা চিংড়ির খোসা দেখছেন?’
ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাংলিয়ার রসায়নের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মায়েস নমুনাকৃত পানিতে প্লাস্টিক কণার ‘যথেষ্ট পরিমাণ’ উপস্থিতির কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘… বিশেষ করে ক্ষুদ্রাকৃতির মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষেত্রে (ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার) যে পরিমাণ এখানে উল্লেখ করা হয়েছে তা বেশ কম এবং সম্ভবত প্রকৃত পরিমাণের চেয়ে কম। এই পরিমাণ ১০০ মাইক্রোমিটারের (গড়ে ৫ শতাংশ) চেয়ে বড় আকৃতির কণার সঙ্গে তুলনা করলে এর পরিমাণ অনেক বেশি দৃশ্যমান (গড়ে ৯৫ শতাংশ)।’
ট্যাপ ও বোতলজাত পানির ক্ষেত্রে অরব-এর পরীক্ষায় ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হলেও এই পরীক্ষার সঙ্গে ম্যাসনের পরীক্ষার ফল তুলনা করার সুযোগ রয়েছে। এই পরীক্ষায় বোতলজাত পানির নমুনা পরীক্ষায় ১০০ মাইক্রোমিটারের চেয়ে বড় আকৃতির প্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে ট্যাপের পানির চেয়ে দ্বিগুণ (লিটারে ৫.৪৫ কণার বিপরীতে ১০.৪)।
নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভার্সিটির টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক স্কট বেলচার বলেন, ‘ট্যাপের পানি যদি মানসম্মত হয়, তবে সেটাই সবসময় ভালো। এই পানি দূষিত ও অনিরাপদ হলেই কেবল বোতলজাত পানি আপনার জন্য বিকল্প হতে পারে।’
বোতলজাত পানি উৎপাদনকারীরা যা বলছেন
বোতলজাত পানি যারা উৎপাদন করে থাকেন তারা বলছেন, তাদের পণ্য সরকারের সব নির্দেশনা মেনেই উৎপাদন করা হয়। এর মধ্যে বোতলজাত পানির শীর্ষ দুই উৎপাদনকারী ব্র্যান্ড নিশ্চিত করেছে, তাদের বাজারজাত করা পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। তবে অরব-এর পরীক্ষায় সেই মাত্রা বাড়িয়ে বলা হয়েছে বলেও দাবি তাদের।
জার্মান বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী গেরোলস্টেইনার বলছেন, অরব-এর পরীক্ষার তুলনায় তাদের নিজেদের পরিচালিত পরীক্ষায় প্রতি লিটার পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে ‘উল্লেখযোগ্য কম পরিমাণে’। নেসলে বলছে, অরব-এর অনুসন্ধানের পর তারা নিজেরা তিনটি ভিন্ন ভিন্ন স্থান থেকে ছয়টি পানির বোতল সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালিয়েছে। এতে প্রতি লিটারে সর্বোচ্চ ৫টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন নেসলের ডি ব্রুইন। যদিও বোতলজাত পানি উৎপাদনকারী কোনও কোম্পানিই প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ক তাদের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। এর মধ্যে আমেরিকান বেভারেজ অ্যাসোসিয়েশন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের বোতলজাত পানির নিরাপত্তার পক্ষেই অবস্থান নিচ্ছি।’

এদিকে, খাদ্য বা পানীয়তে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট কোনও নীতি নেই। ইউরোপীয় কমিশনের খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক এক মুখপাত্র আনকা পাদুরারু বলেন, বোতলজাত পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির বিষয়টি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা না হলেও আইনে স্পষ্ট বলা আছে, পানিতে কোনও দূষণ থাকতে পারবে না।

 

 

/এএমএ/টিআর/বিএ/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ