বিএনপিকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলতে অপারগ কানাডার আদালত

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০০:৫৪, মার্চ ১৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৮, মার্চ ১৮, ২০১৮





বিএনপি

অভিবাসন সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে কানাডার সর্বোচ্চ আদালত মন্তব্য করেছে, সংসদ অধিবেশন মুলতবি করার দাবিতে বা উপনির্বাচন দেওয়ার দাবিতে আহ্বান করা হরতাল কী করে সন্ত্রাসের সমার্থক হতে পারে, তা আদালতের বোধগম্য নয়। আর সে কারণে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা এবং সেই সংগঠনের সদস্য থাকার সূত্রে অভিবাসন আর্জি খারিজ করে দেওয়া যায় না। বিএনপিপন্থী আইনজীবী সংগঠনের সহকারী সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক একজন ছাত্রদল নেতার অভিবাসন বিষয়ক মামলার রায়ে এসব কথা উল্লেখ করা  হয়েছে। যে যুক্তিতে আবেদনকারীর আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল, তার অযথার্থতা তুলে ধরে কানাডার আদালত আবেদনকারীর অভিবাসনের আর্জি নতুন একজন কর্মকর্তার দায়িত্বে সম্পন্ন করার আদেশ দিয়েছেন।

কানাডার অভিবাসী হতে আবেদন করা বাংলাদেশি ওই নাগরিকের আবেদন যাচাই করতে গিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। কারণ, সরকারের বিরোধিতা করতে গিয়ে ডাকা হরতালে তারা ব্যাপক সহিংসতা করেছে এবং সহিংসতা বন্ধে সংগঠনটি কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। যেহেতু আবেদনকারী নিজেকে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের একজন সাবেক সদস্য ও পরে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী পরিষদের একজন পদস্থ নেতা হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন, সেহেতু সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপির কর্মকাণ্ডের দায় তাকে নিতে হবে। সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে তাকে কানাডায় শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে না।

কানাডার আদালতের আলোচ্য আদেশে আবেদনকারীকে ‘একে’ সংক্ষিপ্ত নামে সম্বোধন করে উল্লেখ করা হয়েছে—আবেদনকারী ২০১৩ সালে কানাডায় গিয়েছিলেন। পৌঁছানোর দুই মাস পরে তিনি অভিবাসনের জন্য আবেদন করেন। পরে তার স্ত্রী ও কন্যাও কানাডায় গিয়ে অভিবাসনের আর্জি জমা দেন। আবেদনকারী নিজেই জানিয়েছিলেন, তিনি ১৯৮০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৮০ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি ছাত্রদলের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ১৯৮৭ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামে যোগ দেন। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত তিনি এ সংগঠনের সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অভিবাসন কর্মকর্তা তাকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত  করেন এবং সেই দায়ে তার আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সরকারি -বেসরকারি উৎসসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে তদন্তকারী আমলে নিয়েছিলেন।

একে (ছদ্মনাম) বনাম কানাডা সরকার অভিবাসী মামলা

আত্মপক্ষ সমর্থনে ছাত্রদলের সাবেক সদস্য ওই আবেদনকারী জানিয়েছিলেন—তিনি শুধুমাত্র ছাত্রদল ও আইনজীবীদের সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা এবং ২০১৫ সালে বিএনপির ডাকা অবরোধ শুরুর আগেই ২০১৩ সালে সংগঠন ত্যাগ করেছেন তিনি । সেই সময় পর্যন্ত যে বিএনপির সঙ্গে তিনি ছিলেন, তাকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা যেতে পারে না, দাবি তার।

বিএনপি সন্ত্রাসী সংগঠন হওয়া না হওয়া নিয়ে আদালতের ভাষ্য—অভিবাসন কর্মকর্তা যে সার্চ টার্ম ব্যবহার করে বিএনপির সন্ত্রাসী কার্যকলাপের বিষয়ে ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করেছেন, তা স্বাভাবিকভাবেই পক্ষপাতমূলক ফলাফল দেখাবে। ইন্টারনেটে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি টেরোরিস্ট অ্যাক্টস’ সার্চ দিয়ে অভিবাসন কর্মকর্তা যেসব তথ্য পেয়েছেন, তার বেশিরভাগই বাংলাদেশের দুটি দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির চর্চা করা সহিংস রাজনৈতিক কর্মসূচির চিত্র। অভিবাসন কর্মকর্তা নিজেও এটা লক্ষ্য করেছেন, ক্ষমতায় না থাকলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই হরতাল কর্মসূচির ডাক দেয়।

আবেদনকারীর রায় নতুন করে বিবেচনার জন্য দেওয়া আদেশে বিচারক রিচার্ড জি মোসলে বলেছেন, আবেদনকারী নিজে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত কিনা, সে বিষয়ে কোনও প্রমাণ হাজির করা হয়নি। তাছাড়া আবেদনকারী বিএনপি নয় বরং তার সহযোগী সংগঠনের সদস্য ছিলেন। পূর্বে  অভিবাসন কর্মকর্তার উপস্থাপিত যুক্তি যথাযথ না হওয়ায়, আদালত আবেদনকারীর আর্জি মঞ্জুর করেছেন এবং নিষ্পন্ন করতে তার অভিবাসন সংক্রান্ত আর্জিটি অন্য একজন আভিবাসন কর্মকর্তার কাছে প্রেরণের আদেশ দিয়েছে।

 

/এএমএ/এপিএইচ/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ