ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা (ইউএনডাব্লিউআরএ) তহবিল প্রদান অব্যাহত রাখার আবেদন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সংস্থাটিকে বৈশ্বিক সাহায্য কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে সোমবার তিনি বলেছেন, বিশ্ব অবশ্যই এই শরণার্থী সংস্থাকে পরিত্যাগ করবে না।
সংস্থাটির তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যে আয়োজিত এক সম্মেলনে গুতেরেসে বলেন, ‘খাবার পৌঁছানো, স্কুল খোলা আর মানুষের আশা জিইয়ে রাখতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই অঞ্চল জুড়ে লাখ লাখ ফিলিস্তিনি তাদের দুর্ভোগ কমিয়ে একটি সুন্দর ভবিষ্যত গড়ে তুলতে সাহায্য করতে আমাদের ওপর ভরসা করে। তারা এখন আমাদের পদক্ষেপের ওপর তাকিয়ে আছে। আমি সবাইকে আনওয়ারার তহবিল সংকট কাটাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।’
ইসরায়েলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখন পশ্চিম তীর, গাজা, জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা দিয়ে থাকে সংস্থাটি। গত বছরের শেষ দিকে তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিলে শান্তি প্রক্রিয়ায় দেশটির একক মধ্যস্ততা মানতে অস্বীকার করে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। পাল্টা পদক্ষেপে চলতি বছরের শুরুতে এই সংস্থা থেকে নিজেদের দেওয়া বার্ষিক তহবিলের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনে যুক্তরাষ্ট্র। ১২৫ মিলিয়ন ডলারের সাহায্য দেশটি নামিয়ে আনে ৬৫ মিলিয়ন ডলারে।
সোমবারের সম্মেলন থেকে কী পরিমাণ তহবিলের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে তা অবশ্য এখনও জানা যায়নি। তবে এই সম্মেলন থেকে ২৫০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি তহবিল পূরণের প্রত্যাশা করছেন সংস্থাটির কমিশনার জেনারেল পিয়ারে কারহেনবুল। তার আশঙ্কা প্রত্যাশিত তহবিল পাওয়া না গেলে সেপ্টেম্বরে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল খোলা হুমকির মুখে পড়বে।
বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ সত্ত্বেও গত মাসে জেরুজালেমে দূতাবাস সরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের জামাতা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত জ্যারেড কুশনার সম্প্রতি ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম আল কুদসকে বলেছেন, ট্রাম্প প্রসাশন তাদের শান্তি পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত করে ফেলেছে।








