রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সাহায্যের আবেদন জাতিসংঘ মহাসচিবের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৫:০৫, জুলাই ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৩, জুলাই ১২, ২০১৮

মিয়ারমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ‘হাড়-হিম’ করা বর্ণনা শোনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাদের জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আরও সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির সফর করে যাওয়া গুতেরেস মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই আহ্বান জানিয়েছেন। শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি সমন্বিত পদক্ষেপ চূড়ান্ত করছে বলে জানান জাতিসংঘ মহাসচিব। তিনি বলেন, একশো কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক মানবিক আবেদনের মধ্যে মাত্র ২৬ শতাংশ যোগাড় করা গেছে।জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
গত বছরসহ বিভিন্ন সময়ে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর পদ্ধতিগত সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবস্থা দেখতে গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংক প্রধান জিম ইয়োং কিমকে নিয়ে বাংলাদেশ সফর করেন গুতেরেস। ওয়াশিংটনে ফিরে এই সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এক রোহিঙ্গার সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, কান্নায় ভেঙে পড়া ওই রোহিঙ্গা তাকে চোখের সামনে বড় ছেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনা বর্ণনা করেছেন। লোকটির মাকেও নৃশংসভাবে হত্যা করে বাড়ি পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তার কাছ থেকে শোনার কথা জানান গুতেরেস। তিনি বলেন, ওই লোকটি তখন এক মসজিদে আশ্রয় নেয়, সেখানে তাকে খুঁজে পায় মিয়ানমারের সেনারা। চালানো হয় নির্যাতন, পুড়িয়ে দেওয়া হয় ওই মসজিদ।

তিনি বলেন, ‘বাবা-মায়ের সামনে ছোট শিশুদের গলা কাটা হয়েছে। সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়েছে নারীদের, আর তাদের পরিবারের সদস্যদের নির্যাতন চালানো হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে।’ জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, হাড় হিম করা এসব বর্ণনা শোনার জন্য আমি কোনও ভাবেই প্রস্তুত ছিলাম না।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘এসব নিপীড়িতদের সম্পর্কে সঠিকভাবেই বলা হয় জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার। আর তারা যে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে তা দেখে যে কেউই মর্মবেদনা অনুভব করবে, ক্ষোভে ফেটে পড়বে।’

মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব থেকে শুরু করে নুন্যতম মৌলিক অধিকার রক্ষা করা হয় না। জাতিসংঘ মহাসচিব বিগত বছর গুলোতে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর পদ্ধতিগত মানবাধিকার হরণের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে সন্ত্রাসীদের ধীরে ধীরে প্রবেশ করিয়ে তাদের জন্য ভয়ঙ্কর বিকল্প রাখা হয়েছে: হয় মৃত্যুভয় নিয়ে থাকো, না হয় বেঁচে থাকতে সবকিছু ছেড়ে পালাও।’

জাতিসংঘের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে এসব শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া বাংলাদেশ তাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে আর সম্পদশালী রাষ্ট্রগুলো বাইরের মানুষের জন্য তাদের দরজা বন্ধ রেখেছে। গুতেরেস বলেন, বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের হৃদয় ও সীমান্ত খুলে দিয়েছে। তিনি বলেন এই উদারতার কারনে অনেক জীবন রক্ষা পেয়েছে।

শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো একটি সমন্বিত পদক্ষেপ চূড়ান্ত করছে জানিয়ে গুতেরেস বলেন, এর মধ্যে অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে বাংলাদেশের মতো সামনের সারির দেশগুলো যে মানবিক আবেদনে সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে একা নয় তা নিশ্চিত করা হবে। জাতিসংঘ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো শরণার্থী ও তাদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিপর্যয় এড়াতে আরও অনেক বেশি সম্পদ প্রয়োজন জানিয়ে গুতেরেস শরণার্থী সংকটে বৈশ্বিক দায় ভাগাভাগির নীতি তৈরির আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আবেদনের একশো কোটি ডলারের মধ্যে মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল যোগাড় করা গেছে।

জাতিসংঘ মহাসিচিব বলেন, অর্থ কম পড়া মানেই শিবিরে পুষ্টি ঘাটতি, বিশুদ্ধ পানি আর পয়নিষ্কাশনের অপর্যাপ্ততা, শরণার্থী শিশুদের মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়া।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, এই সংকট রাতারাতি সমাধান হবে না। এই পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে দেওয়াও যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাখাইনের সহিংসতার মূল কারণ আরও বিস্তৃতভাবে চিহ্নিত করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘৃণা ছড়ানো চলতে থাকলে তা সহিংসতার জ্বালানি হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা ভুলে যাওয়া নিপীড়িত হতে পারে না। সাহায্যের জন্য তাদের সুস্পষ্ট আবেদনে আমাদের দায়িত্ব নিয়ে সাড়া দিতে হবে।

 

/জেজে/

লাইভ

টপ