অভিযানে নিহত ডুবুরির স্ত্রীর আর্তি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:৫৩, জুলাই ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৪, জুলাই ১২, ২০১৮

থাইল্যান্ডের গুহায় আটকে পড়া শিশুদের উদ্ধার অভিযানের সফলতায় সারা বিশ্বে যখন আনন্দের বন্যা, তখন ওই উদ্ধার অভিযানে প্রাণ হারানো সাবেক থাই ডুবুরির জন্য কাঁদছেন তার স্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, স্বামী ছিলেন তার পরম ভালোবাসার মানুষ। তাকে হারিয়ে শূন্যতা অনুভব করছেন। তবে এ ঘটনার জন্য গুহা থেকে উদ্ধার হওয়া কিশোর ফুটবল দলের সদস্যদের দোষারোপে রাজি নন নিহত ডুবুরির স্ত্রী। ছবি শেয়ারিংয়ের সামাজিক মাধ্যম ইন্সটাগ্রামে পোস্ট করা এক ছবির ক্যাপশনে এসব কথা জানিয়েছেন তিনি। এতে সাড়া দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। নিহত ডুবুরির বীরোচিত ভূমিকা স্মরণ করে তার স্ত্রীর জন্য শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন বিশ্ববাসী।

গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার থাম লুয়াং গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আটকা পড়ে। টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় ১২ কিশোর ফুটবলারসহ তাদের কোচকে শনাক্ত করেন ডুবুরিরা।
থাই নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য সামারান কুনান তাদের খোঁজে শুরু হওয়া অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ১ জুলাই। ৫ জুলাই (বৃহস্পতিবার) মধ্যরাতে অভিযান চলার সময় অক্সিজেন স্বল্পতায় পড়েন কুনান। নেভিসিল কমান্ডার জানান, আটকা পড়া শিশুদের বের করে আনতে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার রাতে গুহায় অক্সিজেনের ট্যাঙ্ক বসানো হচ্ছিলো। সেখানেই কাজ করছিলেন ৩৮ বছর বয়সী সামান কুনান। তবে অক্সিজেনের লাইন টানার সময় নিজেই অক্সিজেন স্বল্পতায় পড়ে অচেতন হয়ে পড়েন। শুক্রবারের প্রথম প্রহরেই তিনি মারা যান।
থাই নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য সামারান কুনান এখন ব্যাংককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে উদ্ধারকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। তিনিই একমাত্র ব্যক্তি, যিনি এই সামগ্রিক উদ্ধার অভিযানে প্রাণ হারিয়েছেন। তার স্ত্রী ভ্যালিপোয়ান ইন্সটাগ্রামে স্বামীর একটি সাদাকালো ছবি পোস্ট করে এর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি’। ‘তোমার শূন্যতা অনুভব করছি। সমস্ত হৃদয় দিয়ে তোমাকে ভালোবাসি’। এখন থেকে ঘুম থেকে জাগার পর আমি কাকে আলিঙ্গন করব?’
উদ্ধার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা চিয়াং রাই’র ভারপ্রাপ্ত গভর্নর নারোংসাক ওসোটানাকর্ন উদ্ধার অভিযানের শেষ দিনে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, সামারানের মৃত্যুর দিনে কিশোর ফুটবলারদের ওই পুরো দল শোকাহত ছিল। তবে সেই শোককে আমরা শক্তি বানিয়েছি। জীবন বাঁচাতেই তিনি জীবন দিয়েছেন। সামারান প্রকৃত বীর। বিশ্ব তাকে মনে রাখবে।’
একদিন আগে আরেকটি ছবি পোস্ট করেছিলেন কুনানের স্ত্রী ভ্যালোপিয়ান। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার স্বামীর বীরোচিত মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তাকে সমবেদনা জানিয়েছেন মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম গুহায় বৃষ্টি সত্ত্বেও প্রবেশের কারণে অনেকেই কিশোর ফুটবল দলটিকে দুষেছেন। তবে ভ্যালোপিয়ান তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘শোন ছেলেরা, কোনোভাবেই নিজেদের দায়ী ভাববে না তোমরা’।

/বিএ/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ