জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের নির্বাচন সময়মতো আয়োজনে অনিশ্চয়তা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৩৩, জুলাই ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৩৫, জুলাই ১৪, ২০১৮

এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি বড় ধরনের জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন সময়মতো আয়োজন নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার আকরাম দুররানি অল্পের জন্য বেঁচে গেছেন। তবে মাসতুংয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন অন্তত ১২৮ জন। একই দিন পৃথক বোমা হামলায় নিহত হয়েছেন আরও ৫ জন। আর মাত্র তিনদিন আগে এএনপি’র হারুন বিলৌর নিহত হন। এসব হামলার পর পাকিস্তানের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম অথরিটির সম্প্রতি দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনেট প্যানেলে ছয় রাজনীতিকের জীবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছিল। তাদের তালিকা অনুসারে পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খান, এএনপি’র প্রধান আফসানদিয়ার ওয়ালি, কওমি ওয়াটান পার্টির আফতাব আহমেদ খান শেরপাও এবং কয়েকজন পিএমএল-এন নেতা ছিলেন হুমকির মধ্যে।

এক বিবৃতিতে শুক্রবার সিনেটর রেহমান মালিক বলেন, রাজনীতিবিদদের জীবন বড় ধরনের হুমকির মুখে রয়েছে। এই বিষয়ে আদালতকে অবহিত করা প্রয়োজন। কোনও বিরতি ছাড়াই চলছে জঙ্গি কর্মকাণ্ড। সরকারের উচিত রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা জোরদার করা।

এই সিনেটর আরও বলেন, দেশবিরোধী তালেবান, আইএস ও আল কায়েদা পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ব্রিগেডিয়ার (অব) সৈয়দ নাজির মোহমান্দ জানান, দেশে অনেক স্থানেই জঙ্গি কর্মকাণ্ড বেড়েছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে থাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে মনোযোগ অন্যদিকে সরে যায় এবং অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।

মোহমান্দ আরও জানান, আগাম গোয়েন্দা তথ্য নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ এবং সতর্কতা জারির পর হুমকি নস্যাৎ করা উচিত ছিল। পেশাওয়ারে হারুন বিলৌর ও মাসতুংয়ের ঘটনায় একটি মিল ছিল। উভয় হামলার ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতির অপেক্ষায় ছিল হামলাকারী। তবে দুররানির সমাবেশে হামলার ধরন ছিল আলাদা। তিনি বলেন, আরও বড় ধরনের জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। যদি তা ঘটে তাহলে সময়মতো নির্বাচন আয়োজন পিছিয়ে যেতে পারে।

হুমকির বিষয়টি প্রকাশ করায় সন্ত্রাস দমন কর্তৃপক্ষের সমালোচনা করে এই সাবেক সেনাকর্মকর্তা জানান, সংবাদমাধ্যমে তা প্রকাশ না করে উচিত ছিল নির্দিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে বিষয়টি জানানো। তত্ত্বাবধায়ক সরকার এমন পরিস্তিতি মোকাবিলায় অনভিজ্ঞ। বিশেষ করে জঙ্গি হামলা বেড়ে যাওয়ার ফলে যে ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

রাজনীতিবিদ ও তাদের সমর্থক সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মোহমান্দ।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

 

/এএ/

লাইভ

টপ