ইন্দোনেশিয়ার শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মাটি ধসে পাহাড় থেকে বেরিয়ে আসার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দুই শতাধিক পর্বতারোহী পাহাড়ে আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, মাউন্ট রিনঝানিতে আটকা পড়া পর্বতারোহীদের সরিয়ে নিতে হাজারো উদ্ধারকর্মীর জোর তৎপরতাও শুরু হয়েছে।
পর্যটকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় মাউন্ট রিনঝানি। এর পাদদেশ থেকে গতকাল ভূমিকম্পের কবলে পড়া পর্যটন দ্বীপ লোম্বকের দূরত্ব খুবই কম । রোববার স্থানীয় সময় সকালে আঘাত হানা ৬ দশমিক ৪ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে অন্তত ১৪ জন নিহত ও দেড়শতাধিক আহত হওয়ার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। নিহতদের মধ্যে রিনঝানি আরোহনে যাওয়া মালয়েশিয়ার এক পর্যটকও আছে। শক্তিশালী এ ভূমিকম্প হাজারো বাসিন্দাকে উদ্বাস্তুতে পরিণত করেছে, ক্ষতিগ্রস্তও হয়েছে অসংখ্য বাড়িঘর। লোম্বকের পাশাপাশি বালি দ্বীপও বেশ কয়েকটি পরাঘাতে কেঁপে উঠেছে।
বিবিসি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর বিদেশি পর্যটকসহ পাঁচ শতাধিক পর্বতারোহী রিনঝানি থেকে নেমে আসতে পারলেও ২৬৬ জন আটকা পড়েছেন; হেলিকপ্টার দিয়ে তাদের খোঁজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আগ্নেয় পর্বত রিনঝানি প্রতিবছর লাখো দেশি-বিদেশি পর্বতারোহীকে আকৃষ্ট করে। ভূমিকম্পের সময় এর জ্বালামুখ হ্রদের কাছে ভূমিধসের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেও ঘুরছে। ‘কিছু মানুষ ওই হ্রদের কাছে আছে, হ্রদটির অবস্থান একদম মাঝামাঝি। আটকে পড়ারা কোথাও যেতেও পারছে না, তাদেরকে হ্রদের কাছাকাছিই থাকতে হচ্ছে,” রিনঝানিতে আটকা পর্বতারোহীদের পরিস্থিতির বর্ণনায় এমনটাই বলেন নিজেকে সুকান্ত নামে পরিচয় দেওয়া এক ট্যুর গাইড।
বিবিসি জানিয়েছে, রিং অব ফায়ারের মধ্যে হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাত দেখা যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠের ওপরে থাকা সক্রিয় আগ্নেয়গিরিগুলোর অর্ধেকেরও বেশি প্রশান্ত মহাসাগরজুড়ে বিস্তৃত ওই রিং অব ফায়ারের ভেতরেই অবস্থিত।






