সূর্যছোঁয়ার অভিযানে যাত্রা শুরু নাসার

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:১৪, আগস্ট ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:১৯, আগস্ট ১২, ২০১৮

সূর্যছোঁয়ার অভিযানে যাত্রা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা’র নভোযান 'পার্কার সোলার প্রোব'। স্থানীয় সময় রবিবার ৩টা ৩১ মিনিটে (জিএমটি ০৭:৩১) নভোযানটি সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়। ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে ডেলটা-ফোর হেভি রকেটে করে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করে এটি। নির্ধারিত সময়ের একদিন পর নভোযানটি উৎক্ষেপণ করা হলো।

পার্কার সোলার প্রোবের উৎক্ষেপণএটি সূর্যের ৬০ লাখ কিলোমিটারের মধ্যে গিয়ে পৌঁছাবে। এত কাছাকাছি এর আগে কোনও যান যেতে পারেনি। এজন্য নাসা’র এই অভিযানকে বলা হচ্ছে ‘সূর্যছোয়াঁর মিশন’ (টাচ দ্য সান)।

সূর্যের যে উজ্জ্বল আলোকচ্ছটার অংশটি সূর্যগ্রহণের সময় দেখা যায়, যাকে বলে 'করোনা', এই যানটি তার ভেতর দিয়ে উড়ে যাবে। এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি তাপ সহ্য করার ক্ষমতা রয়েছে প্রোবের।

চারটি ডেল্টা-ফোর রকেট দিয়ে উপগ্রহটি মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল থেকে 'প্রোব' কে উৎক্ষেপণের কথা ছিল শনিবার সকালে। তবে শেষ মূহুর্তে বাড়তি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা ১৪ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়।

অবিশ্বাস্য গতির নভোযান

সাত বছর ধরে সূর্যের চারদিকে ২৪ বার প্রদক্ষিণ করবে এই স্যাটেলাইট। সে সময় এর গতি হবে ঘণ্টায় কমপক্ষে ৬ লাখ ৭০ হাজার কিলোমিটার। ৬০ লাখ কিলোমিটার দূর থেকে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে তথ্য সংগ্রহ করতে থাকবে।

এই প্রকল্পের অন্যতম বিজ্ঞানী ড. নিকি ফক্স বলেন, ‘আমি বুঝতে পারছি ৬০ লাখ কিলোমিটার দূরত্বকে কখনোই নিকট দূরত্ব বলে মনে হবে না। কিন্তু যদি ধরে নেওয়া হয়, ভূপৃষ্ঠ এবং সূর্যের দূরত্ব এক মিটার, তাহলে প্রোব সূর্য থেকে মাত্র ৪ সেন্টিমিটার দূরে থাকবে।’

প্রোব যে গতিতে চলবে তা নজিরবিহীন। ড ফক্স বলেন, ‘এত দ্রুতগতির কোনও কিছু আগে তৈরি হয়নি। সূর্যের চারদিকে এটি প্রতি ঘণ্টায় ৬ লাখ ৯০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে ঘুরবে। অর্থাৎ এই গতিতে নিউইয়র্ক থেকে টোকিও যেতে লাগবে এক মিনিটেরও কম সময়।’

সূর্যের চারদিকে উজ্জ্বল আভাযুক্ত যে এলাকা, যেটি 'করোনা' নামে পরিচিত, সরাসরি সেখানে গিয়ে ঢুকবে এই স্যাটেলাইট। তারপর সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করতে করতে বোঝার চেষ্টা করবে এই নক্ষত্রের আচরণ।

কেন এই অভিযান গুরুত্বপূর্ণ?

সূর্য কীভাবে কাজ করে, তা বুঝতে সাহায্য করবে পার্কার নামের এই স্যাটেলাইট। সূর্য তার বৈদ্যুতিক বিভিন্ন কণা এবং চৌম্বক শক্তি দিয়ে পৃথিবীকে সবসময় প্রভাবিত করছে। এই 'সোলার উইন্ড' বা সূর্য থেকে নিঃসরিত বাতাসের প্রভাবে উত্তর মেরুর আকাশে তৈরি হয় অদ্ভুত সুন্দর রঙচঙে আলোর খেলা। কিন্তু সূর্যের কিছু প্রবাহ পৃথিবীর চৌম্বক শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত করে ফেলতে পারে। সেক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে, মহাকাশে স্যাটেলাইটগুলো কক্ষচ্যুত হতে পারে, এমনকি বৈদ্যুতিক গ্রিড বিকল হয়ে যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা সেই সব বিপদ আগে থেকে বোঝার চেষ্টা করছেন। পার্কার আগাম তথ্য দিয়ে এ কাজে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে।

কেন সূর্যের এত কাছাকাছি যাওয়া দরকার?

'করোনা' বা সূর্যের চারদিকের উজ্জ্বল আভাযুক্ত যে এলাকা সেটির অদ্ভুত আচরণ বিজ্ঞানীদের কাছে বড় রহস্য। সূর্যপৃষ্ঠের চেয়ে করোনার তাপমাত্রা বেশি। সূর্যপৃষ্ঠের তাপমাত্রা যেখানে ছয় হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো, করোনা অঞ্চলের তাপমাত্রা সেখানে কয়েক মিলিয়ন ডিগ্রি হতে পারে। কেন এই ফারাক, তার সুনির্দিষ্ট উত্তর এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে নেই।

সূর্য থেকে নিঃসরিত বাতাস যখন করোনায় প্রবেশ করে তখন তার গতি হঠাৎ তীব্রভাবে বেড়ে যায়। এই গরম বাতাস তখন প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ কিলোমিটার বেগে সোলার সিস্টেমের ভেতর দিয়ে ধেয়ে চলে। পার্কার করেনার বৈদ্যুতিক এবং চৌম্বক ক্ষেত্রের বিভিন্ন তথ্য পাঠাতে সক্ষম হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

কিভাবে টিকে থাকবে পার্কার?

এখন থেকে ৬০ বছর আগে প্রথম সূর্যের কাছাকাছি নভোযান পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু সূর্যের কাছে পাঠানোর জন্য যে ধরনের নভোযান তৈরির প্রয়োজন সেই প্রযুক্তি এতদিন পরে বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন। সোলার চালিত এই নভোযানের যন্ত্রপাতি থাকবে ৪.৫ ইঞ্চি পুরু কম্পোজিট কার্বনের আবরণে দিয়ে মোড়া। ফলে ভেতরের তাপমাত্রা সবসময় ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ভেতরে থাকবে। এতে রক্ষা পাবে পার্কারের ভেতরে থাকা যন্ত্রপাতি। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ