ইউরোপে ‘ছোট ছোট মুসোলিনির’ উত্থান হয়েছে: সাবেক ফরাসি অর্থমন্ত্রী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৪৯, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫২, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৮

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক কমিশনার ও সাবেক ফরাসি অর্থমন্ত্রী পিয়েরে মস্কোভিচ মন্তব্য করেছেন, ইউরোপে অ্যাডলফ হিটলার ও মুসোলিনির সময়কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আসল মুসোলিনি না থাকলেও সেখানে ‘ছোট ছোট’ মুসোলিনির উত্থান হয়েছে। তার এই বক্তব্যে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে ইতালির ডানপন্থী রাজনীতির সমর্থকরা। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি বলেছেন, ‘মস্কোভিচের উচিত তার মুখ পরিষ্কার করে আসা।’ যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান লিখেছে, ফ্রান্সের ওপর অভিবাসী নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ সালভিনি। তার অভিযোগ, আফ্রিকা থেকে ইউরোপে ঢোকার জন্য সাগর পাড়ি দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরা মূলত ইতালিতে ঢোকে। এসব শরণার্থীদের বিষয়ে ফ্রান্স যথেষ্ঠ সহায়তা করেনি।

মস্কোভিচের ভাষ্য ছিল, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে চরম ডানপন্থীদের উত্থান হতে দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে ১৯৩০ সালে জার্মানির অ্যাডলফ হিটলার ও ইতালির ফ্যাসিস্ট বেনিতো মুসলিনি যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন এমন আবহ দেখা গিয়েছিল। তার ভাষ্য, ‘আশাবাদী হওয়ার মতো বিষয় হচ্ছে, হিটলার নেই। কিন্তু মনে হয় কিছু ছোট ছোট মুসোলিনি আছে।’

গার্ডিয়ানের ভাষ্য, সাবেক ফরাসি অর্থমন্ত্রী ‘ছোট মুসোলিনি’ হিসেবে কারও নাম নেননি। কিন্তু অভিবাসীবিরোধী অবস্থান নিয়ে আলোচনায় থাকা ইতালীয় উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও সালভানি মস্কোভিচের বক্তব্যকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে দেখেছেন। মস্কোভিচের মন্তব্যের জবাবে সালভিনি বলেছেন, ‘তার উচিত ইতালি, ইতালির জনগণ ও ইতালির বৈধ সরকারের বিষয়ে কোনও কিছু বলার আগে মুখ পরিষ্কার করে আসা।’

ফ্রান্সের বিষয়ে ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ রয়েছে আরও আগে থেকে । লিবিয়াসহ অন্যান্য দেশ, বিশেষ করে আফ্রিকা, থেকে যেসব শরণার্থী ইউরোপে সাগর পাড়ি দিয়ে ঢোকে তাদের অনেকেই ইতালিতে আশ্রয় নেয়। কারণ ভূমধ্যসাগরের এক পাড়ে লিবিয়া, ওপর পাড়ে ইতালি। অভিবাসীদের এই চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়া ইতালি ফ্রান্সকে অভিবাসীদের একাংশের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। ফ্রান্স তাতে সাড়া দেয়নি। লিবিয়ার মতো দেশ থেকে শরণার্থীদের আশ্রয় দিতে রাজি না হওয়া প্রসঙ্গে ফ্রান্সের সমালোচনায় সালভিনি বলেছেন, লিবিয়ার শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত করার যুদ্ধে ফ্রান্সও অংশগ্রহণ করেছিল অথচ এখন ফ্রান্স সেখানকার শরণার্থীদের নিচ্ছে না।

/এএমএ/

লাইভ

টপ