যুক্তরাষ্ট্র কোনও দিনও শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত করবে না: এরাকাত

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২:৩৩, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৫, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকট নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনও দিনও শান্তি প্রস্তাব চূড়ান্ত না হওয়ার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন সমঝোতা আলোচনায় ফিলিস্তিনের পক্ষে নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরাকাত। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে চুক্তির শর্ত নির্ধারণ করার পথে চলছে। তাদের অবস্থান ইসরায়েলের পক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র কোনও দিন ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবাসন, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠা ও ইসরায়েলি বসতি উচ্ছেদের পক্ষে অবস্থান নেবে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, এরাকাতের বক্তব্য প্রসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত জেসন গ্রিনব্লাট মার্কিন নেতৃত্বাধীন শান্তিচুক্তি প্রক্রিয়ার এগিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন।সায়েব এরাকাত

ফিলিস্তিনের পক্ষে নিয়োজিত মধ্যস্থতাকারী সায়েব এরাকাতের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে সেই একই সন্দেহ, যা ফিলিস্তিনসহ বিভিন্ন আরব দেশ এবং বিশ্লেষকদের মনে বহু দিন ধরেই উঁকি দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে কোনও গ্রহণযোগ্য সমঝোতার বদলে বরং ইসরায়েলকে এক্ত্রফাভাবে সহযোগিতা করতে থাকবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ক্রমেই দূরে সরে যাবে। ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যায় রয়টার্স তাদের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র ফিলিস্তিনিদের ত্রাণ সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে। ইউএনআরডব্লিউএ নামের জাতিসংঘের যে সংস্থাটি ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কাজ করে সেই সংগঠন থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তে বন্ধ হয়ে গেছে দেশটিতে থাকা ‘প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের’ (পিএলও) কার্যালয়।

রয়টার্সকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে এরাকাত বলেছেন, ‘আমি মনে করি তারা কোনও দিনও শান্তি প্রস্তাব দেবে না। তারা আসলে তাদের নিজেদের মতো করে টার্মস অব রেফারেন্স পরিবর্তন করছে। পুরো বিশ্বে তাদের তৎপরতা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।’ তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র যে শুধু ফিলিস্তিন–ইসরায়েল সংকটের মূল বিষয়েই ইসরায়েলর পক্ষে গেছে তা নয়। বরং জেরুজালেম কার অংশ থাকবে সে বিষয়সহ ১৯৪৮ সালের যুদ্ধে শরণার্থী হওয়া ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাবাসন ও দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে অবৈধ ইসরায়েলি স্থাপনা থাকার মতো অন্যান্য বিষয়েও তারা ইসরায়েলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, তার প্রস্তাবটি হবে ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি।’ কিন্তু গত ডিসেম্বরে ইসরায়েলের জন্য স্থাপিত মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ও পরে সত্যি জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে নেন। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। রয়টার্স লিখেছে, ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে জেরুজালেম। দুই পক্ষই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী হিসেবে দাবি করে। ফলে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে ফিলিস্তিনিরা। ট্রাম্প–জামাতা জেরেড কুশনারের নেতৃত্বে চলা শান্তি চুক্তির প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনিরা।

সায়েব এরাকাত রয়টার্সকে বলেছেন: তারা আমদের বলেছে, শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে সত্যর ভিত্তিতে। কিন্তু কুশনার ও নেতানিয়াহুর সত্য হচ্ছে ‘জেরুজালেম থাকবে ইসরায়েলের,’ ‘ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা ফিরতে পারবে না,’ ‘ইসরায়েলি বসতি বৈধ,’ ‘১৯৬৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী কোনও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হবে না’ এবং ‘গাজাকে পশ্চিম তীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হবে।’ এসবের কোনও কিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। এই সরকারের ক্ষমতায় আসার পর থেকে শুধু একটা কাজই করেছে; দ্বি-রাষ্ট্রিক সমাধান বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার বদলে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলকে শান্তির পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

এ বিষয়ে ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত জেসন গ্রিনব্লাট রয়টার্সকে বলেছেন, ‘ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সমালোচনা শোনার জন্যও প্রস্তুত। যুক্তরাষ্ট্র যা করতে চাইছে তাতে দুই পক্ষই কোনও কোনও বিষয়ে খুশি হবে এং অপর কিছু বিষয়ে অসন্তুষ্ট হবে।’ গ্রিনব্লাটকে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাব প্রক্রিয়ার ‘প্রধান কারিগর’ আখ্যা দিয়ে রয়টার্স লিখেছে, ফিলিস্তিনিরা মার্কিন নেতৃত্বে সমঝোতা প্রক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করলেও গ্রিনব্লাট মার্কিন মধ্যস্থতাকারীদের চুক্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দাবি করেছেন।

/এএমএ/

লাইভ

টপ