রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারে বিক্ষোভ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৩৮, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:২২, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের মুক্তির দাবিতে মিয়ানমারে বিক্ষোভ করেছেন শতাধিক তরুণ ও সাংবাদিক। তারা সতর্ক দিয়ে বলেছেন, দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলে তা মিয়ানমারের জনগণের তথ্যের অধিকারের প্রতি হুমকি হয়ে দেখা দিবে।

রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দাবিতে মিয়ানমারে বিক্ষোভ

রবিবার মিয়ানমাররের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনের প্রাণকেন্দ্রে শতাধিক কলেজ শিক্ষার্থী শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়ে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেন। তাই রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া রায়ের নিন্দা জানিয়ে স্লোগান দেন। বিক্ষোভকারীরা সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াউ সোয়ে উ’র মুক্তি দাবি সম্বলিত বেলুন উড়ালে সেখানে কয়েকজন পুলিশ উপস্থিত হয়।

গত ৩ সেপ্টেম্বর উপনিবেশিক আমলের দাফতরিক গোপনীয়তা আইনে রয়টার্সের দুই সাংবাদিককে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তারা গত বছরের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের হাতে ১০ জন রোহিঙ্গার নিহত হওয়ার ঘটনার অনুসন্ধান করছিলেন। ওই সময় সামরিক নৃশংসতার মুখে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা গত মাসে ওই ঘটনায় জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার আলামত’ পেয়েছে।

রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রায় নিয়ে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তারা, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিশ্বজুড়ে থাকা মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা সবাই দুই সাংবাদিকের মুক্তি দাবি জানিয়েছেন। এই বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের মুখপাত্র জো হতাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

রবিবারের বিক্ষোভের সংগঠক সাংবাদিক থার লুন জাউং হতেত বলেন, ‘শুধুমাত্র দায়িত্ব পালনের অপরাধে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে রায় হলে তা মিয়ানমারে সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করবে।’ তিনি বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হারানো মানে আমাদের গণতান্ত্রিক রূপান্তর পিছিয়ে পড়া।’

বিক্ষোভকারীরা তাদের স্বাক্ষর কর্মসূচিতে স্লোগান দেন, ‘হত্যা কোনও রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা নয়’, ‘সত্য প্রকাশ করা কোনও অপরাধ নয়’। বিক্ষোভের অন্যতম সংগঠক মাউং সাউং খা একটি পথনাটক করেন। নাটকে তিনি সু চি’র দলের সদস্যদের মতো জ্যাকেট পরেন। তার ওপর সেনা কর্মকর্তার পোশাক পরে তিনি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র দ্য মিররের একটি কপি রোল করেন। পরে ওই রোলার দিয়ে তিনি অন্য সাংবাদিকদের মারতে থাকেন।

মিয়ানমারে বিক্ষোভকারীদের পথ নাটক

আন্দোলনকর্মী হতেত খিনে সোয়ে বলেন, এই সাংবাদিকদের ওপর অবিচারের প্রতিবাদে তিনি দুই সাংবাদিকের মুখচ্ছবি নিয়ে একটি টি-শার্টের নকশা করেছেন। আন্দোলনকারীদের অনেকেই ওই টি-শার্ট পরেছিলেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বে যা ঘটছে তা আমাদের জানতে হবে। এজন্য আমাদের সাংবাদিকদের প্রয়োজন। তাদের ছাড়া আমরা চোখ-কান ছাড়া বোকা জনতা হয়ে থাকবো।’

গত সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠানে মিয়ানমার নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, এই মামলায় মত প্রকাশের স্বাধীনতার কিছুই হবে না। দাফতরিক গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দুই সাংবাদিককে সাজা দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকতা করার জন্য তাদের সাজা দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার মিয়ানমারের সাংবাদিকদের ৬টি সংগঠন সু চির এমন মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এক বিরল বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলেছে, সু চির এমন বক্তব্য তাদের হতাশ করেছে। সূত্র: রয়টার্স।

/আরএ/

লাইভ

টপ