ঘূর্ণিঝড় মাইকেলের আঘাতে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৩৮, অক্টোবর ১১, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৪৬, অক্টোবর ১১, ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মাইকেল যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখন্ডে আঘাত হেনেছে। বৃহস্পতিবার এটি উত্তরপূর্বদিকে জর্জিয়া এবং ক্যারোলিনা উপকূলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। মাইকেলের আঘাতে বিধ্বস্ত ফ্লোরিডার কর্তৃপক্ষ এখন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা তৃতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী ঝড় মাইকেল। হারিকেনের তীব্রতা মাপা স্কেলে এর চাপ পৌঁছায় ৯১৯ মিলিবার-এ। এর আগে ১৯৬৯ সালে মিসিসিপি উপকূলে আগাত হানা হারিকেন ক্যামিলি এবং ১৯৩৫ সালে ফ্লোরিডায় আঘাত হানা লেবার ডে হারিকেন এর চেয়ে তীব্র ছিল। দেশটির জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র জানিয়েছে, ঘন্টায় ১৫০ মাইল বেগে আঘাত হানা ঝড়টি শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। এর সর্বোচ্চ বেগ ১৫৫ মাইল পর্যন্ত পৌঁছায়। ঝড়ের প্রভাবে ব্যাপক বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে গেছে। প্রায় চার লাখ মানুষকে ঘর-বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় গাছ উপড়ে একটি বাড়ির ওপর পড়ে এক ব্যক্তি এবং জর্জিয়ায় একটি আড়ির ওপর ধ্বংসস্তুপ পড়ে এক মেয়ে নিহত হয়েছে।

ক্যাটাগরি চার মাত্রার তীব্র হারিকেন বুধবার ফ্লোরিডা উপকূলে আছড়ে পড়ে। তবে জর্জিয়া পর্যন্ত পৌঁছে এর শক্তি কমতে পারে। বৃহস্পতিবার সকালের দিকে এর শক্তি কমে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হয়। তখন এর বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার।

তীব্র ঝড়ের পর বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোরিডা, আলবামা এবং জর্জিয়ার সাত লাখ বাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ বাড়ি ছেড়ে ঝড়ের আগেই আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়।

উত্তর ও দক্ষিণ ক্যারোলিনার গভর্নর বাসিন্দার একসঙ্গে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। একমাসেরও কম সময় আগে ক্যারোলিনায় আঘাত হানা ফ্লোরেন্সের পর সৃষ্ট বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটোনোর চেষ্টার মধ্যেই সেখানে আঘাত হানলো মাইকেল।

দেশটির জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র বলছে, বৃহস্পতিবার ক্যারোলিনা অতিক্রম করতে পার মাইকেল। এর প্রভাবে কয়েকটি এলাকায় আট ইঞ্চি এবং ফ্লোরিডায় এক ফুট বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের দিনে টেলিভিশনে প্রচারিত ছবিতে দেখা গেছে মেক্সিকো উপকূলে বন্যার পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় অনেকেই বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ অমান্য করে থেকে যাওয়া ২৮০ বাসিন্দার ভাগ্যে কি ঘটেছে সে সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ফ্লোরিডার পানামা সিটি এলাকার বহু বাড়িঘর ধ্বংস বা ছাদ উড়ে গেছে। রাস্তায় জড়ো পড়ে রয়েছে ধ্বংসস্তুপ, উপড়ে যাওয়া গাছ আর ছিঢ়ে পড়া তার।

৬৩ বছর বয়সী মুদি দোকানের কর্মচারি বিল ম্যানিং তার পরিবহন ভ্যান ছেড়ড়ে দিয়ে একটি হোটেলে আলো দেখতে পেয়ে আশ্রয় নেন। তিনি বলেন, ‘হায় ঈশ্বর, এটা ভয়াবহ। আমি কোনওভাবে এটা আশা করিনি’।

মেক্সিকো উপকূলের ২০ মাইল দক্ষিণে ২৩০০ বাসিন্দার শহর আপালাচিকোলাতে বন্যার পানি সাত ফুট পর্যন্ত উঠে যায় বলে জানান ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের প্রধান কেন গ্রাহাম। সেখানে বাতাসের ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্নও স্পষ্ট। আপালাচিকোলা  শহরের মেয়র ভ্যান জনসন বলেন, অনেক বিদ্যুতের লাইন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে আর শহরের মধ্য দিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

মাইকেল আঘাত হানার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ফেমা) ফ্লোরিডার পাঁচ লাখ বাসিন্দাকে উঁচু স্থানে আশ্রয় বা বাড়ি থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয। তবে আমেরিকান রেড ক্রসের সদস্য ব্রাড কিসারম্যান বলেন,  ফ্লোরিডা উপকূলীয় এলাকার প্রায় তিন লাখ ২০ হাজার মানুষ ওই নোটিশ অমান্য করে। তিনি জানান, ঘর ছেড়ে আসা প্রায় ৬ লাখ মানুষ জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে ঠাঁই নেয়, এদের বেশির ভাগই ফ্লোরিডার। সপ্তাহ শেষে পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

মেক্সিকো উপকূলের একেবারে দক্ষিণের বন্দর সেন্ট জোয়ে। সেখানকার মেয়র বো প্যাটারসন বাইরের পরিস্থিতি বর্ননা করতে গিয়ে বলেন, খুবই ভয়াবহ। শহরের সাড়ে তিন হাজার বাসিন্দার মধ্যে বাড়িতে থেকে যাওয়া আড়াই হাজার মানুষের মধ্যে তিনি একজন। তাদের অনেকেই বাড়ি ছাড়ার আগেই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। তিনি বলেন, খুব তাড়াতাড়ি এটা ঘটে গেছে।

ফেমার প্রধান ব্রক লং জানান যত দ্রুত ঘূর্ণিঝড়টি ঘণীভূত হয়েছে তার তুলনায় ওই এলাকায় বাড়ি ছাড়ার কার্যক্রম ধীরে চলেছে। গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঝড় থেকে প্রায় ৪০ ঘণ্টায় ক্যাটাগরি চার মাত্রার হারিকেনে রুপ নেয় মাইকেল।

ঝড়ের পর ফ্লোরিডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ঝড়ের পর উদ্ধার তৎপরতা চালাতে ফ্লোরিডা ন্যাশনাল গার্ডের সাড়ে তিন হাজার সদস্য এবং এক হাজার উদ্ধারকর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন গভর্নর রিক স্কট। পেন্টাগন বলেছেন প্রয়োজনে পাঠানোর জন্য তারা ২২০০ সেনা কর্মকর্তা, হেলিকপ্টার, এবং নৌযান প্রস্তুত রেখেছে।

উপকূলে আঘাত হানার আগে ঘূর্ণিঝড় মাইকেলের কারণে বিঘ্নিত হয় তেল ও গ্যাস সরবরাহ। ক্রুড অয়েল ও গ্যাস পরিবহনের পরিমান ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

সূত্র: রয়টার্স

/জেজে/

লাইভ

টপ