জায়নবাদবিরোধী আন্দোলন সমর্থক মার্কিন শিক্ষার্থীকে আটক রেখেছে ইসরায়েল

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৭:৪৪, অক্টোবর ১২, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩২, অক্টোবর ১২, ২০১৮

ফিলিস্তিন থেকে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অবসানে পরিচালিত জায়নবাদবিরোধী আন্তর্জাতিক আন্দোলন ‘বিডিএস’ সমর্থক এক মার্কিন শিক্ষার্থীকে আটক করেছে ইসরায়েল। ২২ বছর বয়সী লারা আল কাসেম নামের মার্কিন ওই স্নাতক শিক্ষার্থী বৈধ ভিসা নিয়ে ইসরায়েলে পৌঁছানোর পর তাকে বিমানবন্দরে আটক করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে তেলআবিবের আদালতে হাজির করা হলে ওই শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে মুক্তির আবেদন করা হয়। তবে আদালত তাকে আটক রাখার নির্দেশ দেন। পরবর্তী আদেশের দিনও ধার্য করেননি আদালত। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, আল কাসেমের মামলা পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক নিন্দার মুখে পড়েছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলে আটক মার্কিন শিক্ষার্থী লারা আলকাসেম
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আলকাসেমকে ইসরায়েলের বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে আটক করা হয়। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে বৈধ ভিসা নিয়ে দেশটিতে আসেন তিনি। বুধবার ইসরায়েলের ঊর্ধ্বতন এক মন্ত্রী আল কাসেমের মামলা পরিচালনা নিয়ে সরকারের অবস্থানের সাফাই গেয়েছেন। গিলাদ এরদান নামের ওই মন্ত্রী বলেন, নিজেদের রক্ষা করার প্রয়োজনে সীমান্তে কে প্রবেশ করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, আল কাসেম যদি ব্যক্তিগতভাবে বিডিএস আন্দোলনের নিন্দা জানায় তাহলে নিজের অবস্থান বদলাবেন তিনি।

২০০৫ সালে শুরু হয় বয়কট, ডিভাস্টমেন্ট অ্যান্ড স্যাঙ্কশন্স অর্থাৎ বয়কট, বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা (বিডিএস) আন্দোলন। দুনিয়াজুড়ে ইসরায়েলি পণ্য বর্জন, দেশটি থেকে পুঁজি প্রত্যাহার এবং ইসরায়েলি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত এ আন্দোলন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বহু খ্যাতিমান শিল্পী-বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের তারকা ব্যক্তিত্ব এই আন্দোলনে জড়িত। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাসিন্দা আল কাসেম বিডিএস আন্দোলনের ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আদালত তাকে আটক রাখার নির্দেশ দিলেও ইসরায়েলের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে তাকে মুক্তি দিয়ে পড়াশোনা করতে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। আল কাসেমের আবেদনেও সমর্থন দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে আটক রয়েছেন আল কাসেম। বয়কট আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনও ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় আটক রাখার ঘটনা এটি। নিজের আবেদনের শুনানির আগে আল কাসেমকে একটি বদ্ধ জায়গায় আটক রাখা হয়। যে বিছানায় তাকে ঘুমাতে দেওয়া হয় সেখানে ছারপোকা ছিল বলে তার সঙ্গে দেখা করে আসা মানুষেরা বলেছেন। সেখানে টেলিফোন ও ইন্টারনেটের সীমিত সুযোগ রাখা হয়।

‘ইসরায়েলকে বয়কটে জেনেশুনে প্রকাশ্যে বক্তব্য রাখা’ বিদেশিদের নিষিদ্ধ করতে গত বছর আইন পাস করে ইসরায়েল। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ২০টি অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপকে শনাক্ত করে দেশটি। এসব গ্রুপের সদস্যরা ইসরায়েলে পৌঁছালেও তাদের প্রবেশ না করতে দেওয়ারও ভিত্তি দেওয়া আছে ওই আইনে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের উপ-মুখপাত্র রবাট পালাডিনো বুধবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সাধারণ নীতি অনুযায়ী আমরা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে মূল্য দেই। এমনকি যদি আমাদের মতের সঙ্গে তার রাজনৈতিক মত নাও মেলে। এটাও সেই ধরনের ঘটনা। তিনি বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রকে বয়কট ও নিষেধাজ্ঞা আন্দোলনে আমাদের কঠোর বিরোধিতার কথা সবাই জানে। ইসরায়েল একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং তারাই ঠিক করবে কে প্রবেশ করবে।

/জেজে/এমওএফ/

লাইভ

টপ