যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব, জাপানের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়ছে চীনের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৩৩, অক্টোবর ২৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৫, অক্টোবর ২৭, ২০১৮

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক–পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রেক্ষিতে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে চীনের। দুই দেশের নেতৃত্ব দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়ন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজার রাখার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। তাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে বার্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে একটি চুক্তি। তাছাড়া পৃথক একটি অর্থনৈতিক জোট গঠনের বিষয়ে ভাবছে দুই দেশই। শুক্রবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। অতীতে সামরিক সংঘাতে জড়ানো এবং বর্তমানে সীমান্ত নিয়ে বিবাদমান থাকা দেশ দুইটির সম্পর্কের এই নতুন মোড় নেওয়াকে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ‘আনলাইকলি ফ্রেন্ডশিপ’ আখ্যা দিয়েছে।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নিয়ে বিবাদ রয়েছে, তারা জড়িয়ে পড়েছে বাণিজ্য যুদ্ধে। চীনের সঙ্গে এই দ্বন্দ্ব সবচেয়ে তীব্র হলেও মার্কিন শুল্কের আওতায় আসা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে জাপানও। রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার সূত্রে চীনের সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আবার তাইওয়ানের সঙ্গে সহযোগিতামূলক সম্পর্কের সূত্রে সেখানে গেছে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবি প্রতিষ্ঠা বিরুদ্ধে সক্রিয় দেশটি। এরকম অবস্থায় জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে বেইজিং সফরে গেছেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার পর এখন দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের কর্মসূচি নির্ধারিত হয়ে রয়েছে। জাপানের সঙ্গে চীনের আলোচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ছাড়াও গুরুত্ব পাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও দূর পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ত্যাগের বিষয়টি।

জাপান ও চীনের সম্পর্কের নতুন এই মাত্রাগত পরিবর্তনের কথা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিবিসি লিখেছে, দুই দেশ এতদিন ধরে বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালিয়ে গেলেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপান দ্বারা চীনের আক্রান্ত হওয়ার স্মৃতি ও বর্তমানে অনেকগুলো দ্বীপের মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে দেশ দুইটির মধ্যে। কিন্তু ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধ দুই দেশকে কাছে নিয়ে এসেছে। গত সাত বছরের মধ্যে এই প্রথম কোনও জাপানি প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করলেন। শিনজো আবে বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘জাপান ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সহঅবস্থানের মতো নতুন একটি স্তরে উপনীত হয়েছে।’ চীনের প্রধানমন্ত্রীও আবের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছেন, তারা দুই দেশের সম্পর্ককে ‘স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল’ করতে চান।

বাণিজ্যিক সম্পর্কের পাশাপাশি এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুই অর্থনীতি চীন ও জাপান প্রতি বছর দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠানের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। দুই দেশই উদ্ভাবনা ও আর্থিক খাতের ব্যবস্থাপনায় এক সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। তাছাড়াও, দক্ষিণ কোরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে।

চীন-জাপানের উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে দ্বিমত রয়েছে। চীন উত্তর কোরিয়ার টিকে থাকা একমাত্র বাণিজ্য সহযোগী। অন্যদিকে জাপান উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে ধীরে চলতে চায়। কারণ উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর পক্ষে স্বল্প দূরে থাকা জাপানে আঘাত হানা খুব সহজ। আবে বলেছেন, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ার বিষয়ে অগ্রগতি হলে টোকিও পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেবে।

/এএমএ/

লাইভ

টপ