ট্রাম্পের রুশ সংযোগের তদন্ত, হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:৪৫, নভেম্বর ০৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫২, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রুশ সংযোগের তদন্ত অব্যাহত রাখার দাবিতে হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন একদল বিক্ষোভকারী। এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস’কে বরখাস্ত করায় ২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ নিয়ে তদন্ত হুমকিতে পড়ে। সমালোচকদের আশঙ্কা, ট্রাম্পের রুশ সংযোগের তদন্তকাজকে ব্যাহত করতেই অ্যাটর্নি জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে হোয়াইট হাউস। তার উত্তরসূরি হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ম্যাথিউ উইটেকার ইতোপূর্বে এ তদন্তের সমালোচনা করেছিলেন। ফলে বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির একাধিক সদস্যও এ তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার ওই তদন্তকাজ বহাল রাখার দাবিতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক দফতর হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। তার নির্বাচনে রুশ সংযোগ তদন্তের দায়িত্বে থাকা বিশেষ কাউন্সেলর রবার্ট মুলারের সুরক্ষার দাবি জানান। তবে ট্রাম্প ইতোপূর্বে এই তদন্তকে ‘অকারণ হেনস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

বিক্ষোভকারীরা চাইছেন, ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে রুশ সংযোগ তদন্তের কাজ থেকে যেন রবার্ট মুলারকে সরিয়ে দেওয়া না হয়।

এর আগে তারিখহীন এক পদত্যাগপত্রে জেফ সেশনস লিখেছেন, ‘প্রিয় প্রেসিডেন্ট, আপনার অনুরোধেই আমি পদত্যাগপত্র দাখিল করছি। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আমার সময়ে আমরা আইনের শাসন পুনর্বহাল ও সমুন্নত রেখেছি।’

বুধবার এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেসনসকে তার কাজের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তার মঙ্গল কামনা করছি।’

হোয়াইট হাউসকে পাস কাটিয়ে রুশ সংযোগ তদন্ত থেকে পার পেতে ব্যর্থতার জন্য নিজের শীর্ষ আইন কর্মকর্তাদের বারবার সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ জন কেলি বুধবার সেশনসকে পদত্যাগ করতে বলেন। এরপরই ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

২০১৭ সালের মার্চে রুশ সংযোগ তদন্ত নিয়ে ট্রাম্প প্রকাশ্যে বারবার তার আইন কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন। তখন থেকে ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রচারণা শিবির ও মস্কোর মধ্যে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়ে প্রমাণ অনুসন্ধান শুরু করেন বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার। আইন মন্ত্রণালয়ের তদারকিতে বিস্তৃত এই তদন্তের কারণে ট্রাম্পের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।

২০১৭ সালের জুলাইয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘সেশনস নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন না। আর যদি তিনি নিজেকে রক্ষা করতে চান তাহলে তাকে আমাকে তার চাকরি নিয়ে কথা বলতে হবে। আমি অন্য কাউকে বেছে নেব’।

প্রেসিডেন্ট সরাসরি বিশেষ কৌসুলিকে বরখাস্ত করতে পারেন না। তবে সেশনসের পরিবর্তে যাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার সেই ক্ষমতা থাকবে। তিনি চাইলে রুশ সংযোগ তদন্ত বন্ধ করে দিতে পারবেন। সূত্র: আল জাজিরা, সিএনএন।

/এমপি/

লাইভ

টপ