দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে শ্রম শোষণ: মিতসুবিসিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৩:৫৫, নভেম্বর ২৯, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৬, নভেম্বর ২৯, ২০১৮

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দক্ষিণ কোরীয় শ্রমিকদের জোর করে খাটিয়ে নেওয়ার প্রেক্ষিতে জাপানি প্রতিষ্ঠান মিতসুবিসিকে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আদেশ দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালত। এই রায়ে ক্ষুব্ধ হয়েছে জাপান। তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার বিষয়টির সমঝোতার কথা জানিয়েছে। তারা মনে করে, জাপানের সঙ্গে তাদের একটি ভবিষ্যতমুখী সরকার দরকার।

দক্ষিণ কোরিয়ার ১০ জন শ্রমিককে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে শ্রম দিতে বাধ্য করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ভুক্তভোগীদের প্রত্যেককে ৭১ হাজার ডলার করে ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আদেশ দিয়েছে। গত মাসে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট জাপানের নিপ্পন স্টিল ও সুমিতোমো মেটাল করপোরেশনের বিরুদ্ধেও একই রকম আদেশ দিয়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার ভুক্তভোগীরা জাপানি ঔপনিবেশিক শ্রমশোষণের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের যে মামলা দায়ের করেছিলেন, প্রথমে তা ১৯৬৫ সালের চুক্তির কারণ দেখিয়ে খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।

জাপানের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার তিক্ত স্মৃতি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান কোরিয়া উপদ্বীপকে দখল করে। বলপ্রয়োগ করে তারা দক্ষিণ কোরীয়দের শ্রম দিতে বাধ্য করত। ভুক্তভোগীদের একজন কিম সেওং জু (৯০)। তিনি যখন স্কুলের ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ছিলেন তখন তার জাপানি শিক্ষক ভালো পড়াশোনার কথা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাপানে যেতে রাজি করিয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে কিম সেওং জুকে কাখানায় হাড়ভাঙ্গা খাতুনই খাটতে হয়েছে। মিতসুবিসি বলেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের এমন রায় অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা এ বিষয়ে জাপান সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবে।

জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তারো কোনো এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার আদালতের রায়কে ‘সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ‘যে আইনি ভিত্তির ওপর দ্বিপাক্ষিক ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কটি গড়ে উঠেছে এই রায়ে তাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।’ দেশটি দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। জাপানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারের কাছে দাবি করা হয়েছে জাপানি প্রতিষ্ঠানের ওপর অযৌক্তিক অর্থদণ্ড ঘোষণার সমাধান করতে। আর তা না হলে জাপান বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষ থেকে জাপানের বক্তব্যকে ‘চরম প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তারাও দেশটিতে নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে পাঠিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রো কিউ ডেওক সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমরা এমন পদক্ষেপ নেব যাতে ভুক্তভোগীদের ক্ষত প্রশমিত হয় এবং একই সঙ্গে জাপানের সঙ্গে একটি ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়। কিন্তু সরকারকে আদালতের রায়ের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’

/এএমএ/

লাইভ

টপ