চীনের হাতে গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা মার্কিন কর্মকর্তাদের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:৩৫, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪১, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৮

বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) সিঙ্গাপুরে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গুগল, ফেসবুকের মতো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সভায় চীনে যাওয়া, না যাওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, হুয়াওয়ের কর্মকর্তাকে গ্রেফতারের প্রতিক্রিয়ায় চীনও মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে ও প্রতিষ্ঠানটি সিএফও মেং ওয়ানঝুকে কানাডায় গ্রেফতার করিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তারা তাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করাতে চায়। চীন এ বিষয়ে ইতোমধ্যেই কানাডার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সভাটি যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটস ওভারসিজ সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের’ (ওএসএসি) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়েছিল। ওএসএসি, ‘বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কাজ করে।’ সভাস্থল ছিল, গুগলের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান কার্যালয়, যা সিঙ্গাপুরে অবস্থিত। বৈঠকটির আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচি ছিল ‘অর্থনৈতিক অপরাধ ও জঙ্গিবাদ।’

সভায় অংশ নেওয়া দুইটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে ছিল চীনের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা। সভায় এক বক্তা জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান একান্ত অপরিহার্য না হলে চীন সফর যেতে নিষেধ করেছে। তাছাড়া না হলেই নয় এমন বৈঠক ছাড়া অন্য বৈঠকগুলো চীনের বাইরে অনুষ্ঠানের পরামর্শ দিয়েছে।

এ সভায় ওয়াল্ট ডিজনি, অ্যালফাবেট (গুগল), ফেসবুক, পেপলের মতো প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু গুগলের মুখপাত্র তাজ মিয়াডোস এক বিবৃতিতে বলেছেন, সভায় যা আলোচনা হয়েছে তা ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক কোনওভাবেই হুয়াওয়ের কর্মকর্তার বিষয়টি আলোচনা করা হয়নি। তবে যেহেতু তিনি সভায় স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন না, চীন সফর স্থগিত রাখার বিষয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে কোনও কিছু আলোচনা হয়েছে কি না তা তিনি নিশ্চিতভাবে বলতে পারবেন না।

হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে এবং প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য উত্তরাধিকারী মেং ওয়ানঝুকে ১ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয় কানাডা থেকে। তিনি একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তাও। তার গ্রেফতার হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে গত বুধবার। হুয়াওয়ের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি করার ব্যবস্থা আছে এমন আশঙ্কা তো আগে থেকেই ছিল, আর এবার ইরানের বিরুদ্ধে থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করে আর্থিক লেনদেনের প্রকল্প তৈরিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে হুয়াওয়ে।

সংশ্লিষ্ট সভায় ব্যক্ত করা আশঙ্কা যে খুব একটা অমূলক নয় তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিশ্লেষকদের ভাষ্যেও। ‘ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের’ হংকংভিত্তিক বিশেষজ্ঞ নিক মারো বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের কারণে চীনা কর্মকর্তাদের ওপর চাপ বেড়েছে এটা দেখাবার যে তারাও শক্ত অবস্থান নিতে সক্ষম। হয় তারা শুল্কের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবে, নয় তো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে।’ মারো মনে করেন, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

চীন পাল্টা কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে কি না সে বিষয়ে জানতে চাইলে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেং শং গত শুক্রবার বলেছেন, চীন সবসময় বিদেশিদের আইনগতভাবে বৈধ অধিকারকে সম্মান করে এসেছে। চীনে থাকলে চীনের আইন তাদেরকে মেনে চলতে হবে।

/এএমএ/

লাইভ

টপ