মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান স্মরণ কলকাতা সফররত প্রতিনিধি দলের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৩২, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪০, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৮

মুক্তিযুদ্ধে অবদানের কথা স্বীকার করে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে কলকাতা সফররত  বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল। শনিবার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মন্তব্য করেছেন, ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা  ছাড়া পাকিস্তানের কাছ থেকে এতো দ্রুত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হতো না।

পাকিস্তান বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত অত্যাচারের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাভাষী মানুষ স্বাধীনতার লড়াইয়ে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে ৩ ডিসেম্বর বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের সমর্থনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে ভারতীয় সেনারাও। এর দুই সপ্তাহের মাথায় ১৬ ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল এএকে নিয়াজি’র আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের দিনটিকে স্মরণ করে প্রতিবছর কলকাতায় বিজয় উৎসব হয়। পূর্বাঞ্চলীয় সেনা কমান্ড-এর উদ্যোগে আয়োজিত সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভারত সফর করছেন সংসদ সদস্য কাজী রোজির নেতৃত্বাধীন এক প্রতিনিধি দল। অনেক মুক্তিযোদ্ধা আর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাও রয়েছেন সফরকারী দলে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া কাজী রোজি এমপিকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সফররত প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামের দিনগুলোতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদানের কথা স্বীকার করা হয়েছে। কাজী রোজি এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অবদান ভুলে যায়নি। স্বাধীনতা অর্জনে ভারত তখনকার পূর্ব পাকিস্তানের জনগণকে সব ধরনের সাহায্য করেছিল। আপনাদের (ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী) ছাড়া আমরা এতো দ্রুত স্বাধীনতা অর্জনে সক্ষম হতাম না। ভিয়েতনাম নয় বছর ধরে লড়াই করেছিল আর আমরা মাত্র নয় মাস ধরে যুদ্ধ করেছি এবং আপনাদের কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।’

পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের মুখে দুই কোটি মানুষের ভারতে শরণার্থী হওয়ার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কাজী রোজি এমপি। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে। আমরা তাদের খাবার ও আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় আপনারা আমাদের আরও বেশি কিছু দিয়েছেন।'

লাখ লাখ মানুষকে খুন আর হাজার হাজার নারীর ওপর যৌন নিপীড়ন সংঘটিত হওয়ার ওই সময়ে আশ্রয়, খাবার ও নিরাপত্তা দিয়ে বাংলাদেশিদের পাশে দাঁড়িয়েছিল ভারত।  আবেগাপ্লুত এমপি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করছিলেন। কিন্তু তাদের জন্য ওষুধ ও শুকনো খাবার চাইতে কলকাতার দোকানগুলোতে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছে কোনও টাকা ছিল না।

১৯৭১ সালের সামরিক অভিযানের স্মৃতিমন্থন করেন ভারতের সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল শঙ্করা রায় চৌধুরী। তিনি বলেন, পারস্পরিক নিরাপত্তা স্বার্থে এবং নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য দুই দেশের মধ্যে অবশ্যই খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকা উচিত। জিওসি ইন সি অব ইস্টার্ন কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল এম এম নারাভানে বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন বয়সে তরুণ। তার ভাষায়, ‘আমার বাবা বিমান বাহিনীতে ছিলেন এবং দিল্লির অপারেশনস রুমে তার পোস্টিং হয়েছিল। আমি যুদ্ধের আরও গল্প শুনতে তার বাড়ি ফেরার অপেক্ষায় থাকতাম।’

 

/এমপি/বিএ/

লাইভ

টপ