সম্রাট হিসেবে শেষ জন্মদিনে সঠিক ইতিহাস প্রচারের আহ্বান আকিহিতোর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৬:৫১, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫২, ডিসেম্বর ২৪, ২০১৮

জাপানের সম্রাট আকিহিতো সম্রাট হিসেবে শেষ জন্মদিন পালন করেছেন গত রবিবার ( ২৩ ডিসেম্বর)। ৮৫ তম জন্মদিনে তাকে শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন লাখো জাপানি নাগরিক। তাদের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নতুন প্রজন্মকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন আকিহিতো। তার শাসনকালে জাপান আবার কোনও যুদ্ধে না জড়ানোয় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যম বিবিসি লিখেছে, সম্রাট আকিহিতোর তিন দশকের শাসনকাল জাপানে ‘হেইসেই যুগ’ হিসেবে চিহ্নিত, যার অর্থ শান্তি প্রতিষ্ঠার যুগ।

তার বাবা হিরোহিতোর শাসনকালে ঘটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যে সহিংসতা হয়েছিল, আকিহিতো সে বিষয়ে সারা জীবন প্রচারণা চালিয়ে গেছেন, যাতে এমন সহিংসতায় জাপান আর না জড়ায়। তিনি চীন ও কোরীয় উপত্যকায় জাপানের চালানো সামরিক অভিযানের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন।

আকিহিতো (৮৫) আগামী বছর স্বেচ্ছায় সম্রাটের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন। গত ২০০ বছরের মধ্যে এই প্রথম জাপানের কোনও সম্রাট পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আকিহিতোর একদিকে যেমন হৃৎপিণ্ডে অস্ত্রোপচার হয়েছে তেমনি তার চিকিৎসা চলছে প্রস্টেট ক্যানসারের। আগামী এপ্রিল মাসে তার স্থলাভিষিক্ত হবেন যুবরাজ নারুহিতো।

২৩ ডিসেম্বর জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে আকিহিত জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি ভূমিকম্প, ঘূর্ণিঝড়, তাপপ্রবাহসহ অন্যান্য ঘটনায় নিহত জাপানিদের স্মরণ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এটা স্মরণ রাখাটা খুবই জরুরি, যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে কি পরিমাণ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। আমরা যেন যুদ্ধের পরেরপ্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে পারি।’ আকিহিত আশা প্রকাশ করেন, জাপানের নতুন আইন আরও বেশি অভিবাসীদের জাপানে যাওয়ার ও কাজ করার সুযোগ করে দেবে। তিনি তার শাসনকাল পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য জনগণ ও সম্রাজ্ঞী মিচিকোকে ধন্যবাদ জানান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের ভূমিকার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করা আকিহিতোকে নিয়ে জাপানের ডানপন্থীদের অবস্থান সমালোচনামূলক। জাপানের বিতর্কিত ইয়াসুকিনি মাজারের প্রধান পুরোহিত মন্তব্য করেছিলেন, সম্রাট আকিহিত ওই মাজার পরিদর্শন না করার সিদ্ধান্ত না নিয়ে মাজারটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। ইয়াসুকিনি এমন একটি স্থান যেখানে যুদ্ধে নিহত সাধারণ জাপানিদের পাশাপাশি চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানানো হয়। জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে সেখানে গেলেও আকিহিতো যাননি। এতে ক্ষুব্ধ জাপানের ডানপন্থীরা।

/এএমএ/

লাইভ

টপ