দেশের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন মেসিডোনিয়ার পার্লামেন্টের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১:৩৮, জানুয়ারি ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১২, জানুয়ারি ১২, ২০১৯

দেশের নাম পরিবর্তনের অনুমোদন দিয়েছে মেসিডোনিয়ার পার্লামেন্ট। শুক্রবার সংবিধানের এ সংক্রান্ত সংশোধনী বিলে অনুমোদন দেন এমপিরা। দেশটির নতুন নাম হবে রিপাবলিক অব নর্থ মেসিডোনিয়া বা গণপ্রজাতন্ত্রী উত্তর মেসিডোনিয়া। নতুন নামকরণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

নাম পরিবর্তনের এই পদক্ষেপের ফলে ইউরোপের আরেক দেশ গ্রিসের সঙ্গে মেসিডোনিয়ার ২৭ বছরের টানাপড়েনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এছাড়া এর ফলে ন্যাটো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে দেশটির জন্য আর কোনও প্রতিবন্ধকতা থাকলো না। এতোদিন পর্যন্ত গ্রিসের আপত্তির কারণে এসব আঞ্চলিক সংস্থার সদস্য হতে পারছিল না দেশটি।

মেসিডোনিয়ার বিরোধী নেতারা অবশ্য পার্লামেন্টের এই ভোটাভুটি প্রত্যাখ্যান করেছেন। আসন্ন গ্রীষ্মে আগাম নির্বাচনেরও দাবি উঠেছে বিরোধীদের পক্ষ থেকে।

সাবেক যুগোস্লাভিয়া ভেঙ্গে যখন মেসিডোনিয়া আলাদা রাষ্ট্র হয়, তখন থেকেই নাম নিয়ে তাদের সঙ্গে গ্রীসের তীব্র বিরোধ চলছে। গ্রিস এই কারণে মেসিডোনিয়া নামের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়েছিল যে, তাদের উত্তরাঞ্চলীয় একটি রাজ্যের নাম মেসিডোনিয়া। একই নামের কারণে সেখানে সীমানা নিয়ে বিরোধ তৈরি হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা ছিল। এ কারণে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো জোটে মেসিডোনিয়াকে সদস্য করার বিরুদ্ধে আপত্তি জানায়।

মেসিডোনিয়ানরা যখন তাদের রাজধানী স্কোপিয়ের বিমানবন্দরটি প্রাচীন গ্রীক বীর আলেকজান্ডারের নামে রাখে, সেটি দুই দেশের মধ্যে আরও তিক্ততা তৈরি করে। কারণ খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকে বর্তমান মেসিডোনিয়ার আলেকজান্ডার এবং তার বাবা দ্বিতীয় ফিলিপ গ্রিস থেকে শুরু করে আরও বহু দূরের রাজ্য শাসন করতেন।

গ্রিকরা মনে করে, মেসিডোনিয়া হচ্ছে হেলেনিক ঐতিহ্যের অংশ। এর যে প্রাচীন রাজধানী আইগাই, সেটি আধুনিক গ্রিসের ভার্জিনার কাছাকাছি। অন্যদিকে আলেক্সান্ডারের জন্মস্থান হচ্ছে পেলায়।

বিরোধ মীমাংসায় দুই দেশের মধ্যে যে চুক্তি হয়েছে তাতে এ কথা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, উত্তর মেসিডোনিয়ার সঙ্গে প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার কোনও সম্পর্ক নেই। তাদের ভাষা আসলে স্লাভ ভাষাগোষ্ঠীর অংশ। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, বিবিসি।

/এমপি/

লাইভ

টপ