নজিরহীন ঘটনা ঘটিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারের বাড়িতে হানা দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) কর্মকর্তারা। তবে কলকাতা পুলিশের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের। সে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, চিটফান্ড দুর্নীতি নিয়ে জেরা করতে সিবিআইয়ের কর্মকর্তারা কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাসার সামনে যান। কলকাতা পুলিশ তাদের বাধা দিলে প্রকাশ্য রাস্তায় শুরু হয় ধস্তাধস্তি। পরে সিবিআই কর্মকর্তাদের আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায়। ঘটনা সম্পর্কে জানার পর সেখানে গিয়ে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সংবিধান বিপন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
গত শনিবার থেকে গুঞ্জন ওঠে, সিবিআই সারদা এবং রোজভ্যালি চিট ফান্ড মামলায় কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে জেরা করতে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই এ খবর জানিয়েছিল। সিবিআই কর্মকর্তারা বলেছিলেন, রাজীব কুমারকে একাধিক বার হাজিরার জন্য নোটিস পাঠানো হলেও তিনি আসেননি। ‘সর্বশেষ উপায়’ হিসেবে গ্রেপ্তারের মতো চূড়ান্ত পদক্ষেপের সংস্থান আছে বলেও ওই অফিসারেরা ওই সংবাদসংস্থাকে জানিয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী কলকাতা পুলিশের কমিশনার রাজীব কুমারকে জেরা করার জন্য রবিবার সন্ধ্যায় সিবিআইয়ের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) তথাগত বর্ধনের নেতৃত্বে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে তার বাসভবনে যায় ৪০ জনের বেশি একটি সিবিআইয়ের টিম। অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গের বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ডে রাজীব কুমারের সম্পর্ক ছিল। সেই বিষয়েই তাকে জেরা করতে এদিন সিবিআই কর্মকর্তারা তার বাসভবনে যান।
সিবিআইয়ের সদস্যরা পুলিশ কমিশনারের বাড়ির গেটের কাছে যেতেই বাধা দেয় কলকাতা পুলিশের বিশাল বাহিনী। শুরু হয় দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি। পরে সিবিআইয়ের ডিসিপি তথাগত বর্ধনসহ কর্মকর্তাদের জোর করে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় কলকাতার শেক্সপিয়র সরণি থানায়। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার পশ্চিমবঙ্গের পুলিশ বাহিনী ঘিরে ফেলে কলকাতার সল্টলেকের সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় সদর দপ্তর সিজিও কমপ্লেক্স, নিজাম প্যালেসসহ সিবিআই কর্মকর্তাদের বাসভবন।
ঘটনার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সেখানে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক করেন। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গে এসে নরেন্দ্র মোদি হুমকি দিয়ে যাওয়ার পরই আজ সিবিআই হানা শুরু করেছে। এটা জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়ংকর। কেন্দ্রীয় সরকার ভারতে সাংবিধানিক সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মমতা বলেন, বাংলাকে ঘিরে অত্যাচার করছেন মোদি, অমিত শহরা। ২০১৯ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে না বুঝেই প্রতিহিংসার রাজনীতি শুরু করেছে। তিনি বলেন, ‘চিটফান্ডের নাম করে প্রত্যেক জায়গায় জোর করে ঢুকে পড়ছে তারা। অথচ আমরাই প্রথম চিটফান্ডের মালিকদের গ্রেপ্তার করি। লোকসভা ভোটের আগে সিবিআইকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যাকে পারছে তাকে ডেকে হেনস্থা করছে সিবিআই। আমরা প্রত্যেকটি এজেন্সিকে সম্মান করি। কিন্তু অন্যায় মেনে নেওয়া যায় না।’
মমতা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ কমিশনারের মতো পদাধিকারীকের বাড়িতে বিনা ওয়ারেন্টে সিক্রেট অপারেশনে এসেছিল সিবিআই। ওদের সঙ্গে কোনো কাগজ ছিল না। দেশের সংবিধান আজ বিপন্ন। এরপরই কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসে পড়েন মমতা। তিনি জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না পরিস্থিতির বদল ঘটে, ততক্ষণ ধরনা চলবে। গান্ধীজির ধাঁচেই চলবে এই সত্যাগ্রহ অবস্থান ধরনা।
মুখ্যমন্ত্রীর সাংবাদিক বৈঠকের পরেই অবশ্য কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দাপ্রধান প্রবীণ ত্রিপাঠী দাবি করেন, ‘‘ওঁরা নিজেদের সিবিআই অফিসার বলে পরিচয় দিলেও সমন বা নির্দেশিকা দেখাতে পারেননি। বলেন, গোপন অভিযানে এসেছেন। তাই এই গোলমাল।’’ পরে পঙ্কজ শ্রীবাস্তব পাল্টা দাবি করেন, ‘‘অনেক তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা হয়েছে। সেই বিষয়েই প্রশ্ন করতে চাইছিল সিবিআই। যথেষ্ট নথিপত্র নিয়েই যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও সহযোগিতা করেনি।’








