উইঘুর মুসলিমদের প্রতি সংহতি জানিয়ে নিউ ইয়র্কে বিক্ষোভ

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৩:১৩, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:১৮, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

চীনে সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার নিউ ইয়র্কের চীনা মিশনের সামনে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিপীড়িত উইঘুরদের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাদের সঙ্গে চীনের আচরণের সমালোচনা করেন। রবিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

ইসলামিক কমিউনিটি ন্যাশনাল ভিউ (আইজিএমজি) নামের একটি সংগঠন এ বিক্ষোভের আয়োজন করে। সংগঠনের সদস্যরা ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত উইঘুর তুর্কিরা বিক্ষোভে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে যুক্ত হন প্রবাসী তুর্কিরাও।

ম্যানহাটনের চীনা কনস্যুলেটের সামনে আয়োজিত এ বিক্ষোভে তুরস্ক ও ইস্ট তুর্কিস্তানের পতাকা বহন করতে দেখা যায় বিক্ষোভকারীদের। এ সময় তারা স্লোগান দেন, ইস্ট তুর্কিস্তান স্বাধীন কর, উইঘুর হত্যা বন্ধ কর।

সমবেত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে আইজিএমজি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান আয়হান ওজমেকিক বলেন, উইঘুরদের বিরুদ্ধে চীনা নিপীড়নের প্রতিবাদে তারা এখানে সমবেত হয়েছেন।

চীনে উইঘুর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি অবস্থায় নিহত উইঘুর কবি ও সংগীত শিল্পী আবদুরহিম হায়াতের কথাও তুলে ধরেন আইজিএমজি প্রধান। তিনি বলেন, এই খ্যাতনামা শিল্পীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তিনি কারা অভ্যন্তরে শাহাদাৎ বরণ করেছেন। আমরা এই ঘৃণ্য ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছি।

আইজিএমজি প্রধান বলেন, এই ঘটনা ইস্ট তুর্কিস্তানে চীনা নিপীড়নের প্রতিফলন।

এদিকে চীনের উইঘুর কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে নিহত উইঘুর কবি ও সংগীত শিল্পী আবদুরহিম হায়াতের মৃত্যুর পর বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে তুরস্ক। চীনের মুসলিম বন্দিশিবিরগুলোতে ১০ লক্ষাধিক উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এগুলো বন্ধের জন্য বেইজিংয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে আঙ্কারা। ৯ ফেব্রুয়ারি শনিবার তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়। আঙ্কারা বলছে, উইঘুরদের বন্দিশিবির হিসেবে ব্যবহৃত চীনের এসব বন্দিশিবির মানবতার জন্য ভয়াবহ মাত্রায় লজ্জাজনক।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানও ইতোপূর্বে উইঘুর মুসলিমদের ওপর ‘গণহত্যা’র জন্য চীনকে অভিযুক্ত করেছিলেন। শনিবার তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসয় বলেন, চীনের ‘কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে’ ১০ লাখেরও বেশি উইঘুরকে আটকে রাখার বিষয়টি এখন আর গোপন কিছু নয়। এসব নিপীড়ন কেন্দ্রে নির্যাতনের মাধ্যমে বন্দিদের মগজধোলাই করা হয়। মানবতার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে এসব বন্দিশিবির বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছে তুরস্ক।

বর্তমানে উইঘুরদের বসবাস চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে হলেও এটি মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত জাতিগোষ্ঠী। তাদের সংস্কৃতিতে আরব ও তুরস্কের প্রভাব রয়েছে। তুর্কিভাষী এ জনগোষ্ঠীর বর্ণমালা আরবি।

তুর্কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হামি আকসয় বলেন, চীনে ১০ লাখেরও বেশি উইঘুর তুর্কি নির্বিচারে গ্রেফতারের শিকার হয়েছেন। নিপীড়ন কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে তাদের নির্যাতন, রাজনৈতিক মগজধোলাইয়ের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষকে আমরা উইঘুর তুর্কিদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানাই। একইসঙ্গে বন্দিশিবিরগুলোও বন্ধের আহ্বান জানচ্ছি।

/এমপি/

লাইভ

টপ