ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না ট্রাম্প

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৪:০১, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৩৫, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০১৯

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প সব উপায় নিয়ে ভাবছেন তিনি। বুধবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকু মারকোয়েজের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ট্রাম্প। তবে ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা সে ব্যাপারে সরাসরি কিছু না বললেও তা একেবারে উড়িয়ে দেননি তিনি। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প
গত বছর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারি নিজেকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন দেশটির বিরোধী নেতা হুয়ান গুইদো। বিরোধী নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদ মাদুরোকে দ্বিতীয় মেয়াদে ‘অবৈধ ঘোষণা’র পরই ওই পদক্ষেপ নেন তিনি। গুইদোর দাবি, প্রেসিডেন্ট অবৈধ ঘোষিত হওয়ার পর জাতীয় পরিষদ প্রধান হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্বগ্রহণের সাংবিধানিক এখতিয়ার তার আছে। কয়েক মিনিটের মাথায় তাকে ‘স্বীকৃতি’ দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কানাডা, লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশ ও ২০টির বেশি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করেছে। তবে দুই শক্তিধর দেশ রাশিয়া ও চীনের সমর্থন রয়েছে মাদুরোর প্রতি। সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোরও সমর্থন পেয়েছেন তিনি।

হুয়ান গুইদোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য যুক্তরাষ্ট্র যখন মাদুরো সরকারকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে চাপ দিয়ে যাচ্ছে তখনই হোয়াইট হাউসে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকু মারকোয়েজের সঙ্গে বৈঠক করলেন ট্রাম্প। বুধবারের ওই বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। সেখানে ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন ট্রাম্প। বলেন, ‘আমি মনে করি সংকট সমাধানের কয়েকটি পথ আছে, ভিন্ন ভিন্ন পথ সেগুলো এবং আমরা সবগুলোকেই বিবেচনায় রাখছি।’

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ চালানোর কথা ভাবছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কখনোই এ প্রসঙ্গে কিছু বলিনি।’ ট্রাম্পের এ বক্তব্যকে পূর্ববর্তী বক্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেছে আনাদোলু এজেন্সি। এর আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, লাতিন আমেরিকার ওই দেশটির সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়টিও বিবেচনায় আছে।

দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক যুদ্ধের কবলে পড়ে খাদের কিনারে এসে দাঁড়িয়েছে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি। মার্কিন নিষধাজ্ঞার কবলে পড়ে বছরে হাজার হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হয়েছে তাদের। কানাডাভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল রিসার্চের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওই অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণে সৃষ্ট মানবিক সংকটকে সামনে এনেই যুদ্ধের পথ সুগম করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে সাহায্য করছে তাদের মিত্র কলম্বিয়া ও ব্রাজিল। বিশ্লেষণে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে,মানবিক সহায়তা দিতে সেনা পাঠিয়ে সেখানে সংঘাত উসকে দেওয়ার চেষ্টা নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

সেই ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকেই ভেনেজুয়েলায় সামরিক আগ্রাসনের বাসনার কথা প্রকাশ্যে বলছেন ট্রাম্প। গ্লোবাল রিসার্চ দাবি করেছে, সে কারণেই পেন্টাগন, হোয়াইট হাউস থেকে আগ্রাসন-বিরোধীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ট্রাম্পের চারপাশে যারা আছেন তারা সবাই তার মতোই মাদুরোকে হটাতে চান। দখলে নিতে চান ওই দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের। টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা জানানো হয়েছে, গুইদোকে সমর্থন না দেওয়া সামরিক বাহিনীতে বিভক্তি সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আগ্রাসন বাসনা সফল করার প্রচেষ্টা নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সেনাবাহিনীর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায় যেন মাদুরো সরকারের ঐক্য ভেঙে পড়ে।  

/এফইউ/

লাইভ

টপ