জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে রাজপথে লাখো স্কুল শিক্ষার্থী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে রাজপথে লাখো স্কুল শিক্ষার্থী

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:০০, মার্চ ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৩, মার্চ ১৬, ২০১৯

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বিশ্বনেতৃবৃন্দের ওপর চাপ সৃষ্টির করতে শুক্রবার বিশ্বব্যাপী লাখো শিশু-কিশোর রাস্তায় নেমে এসেছে। ‘ইয়ুথ ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ নামে পরিচিতি পাওয়া এই কর্মসূচিতে ব্যাংকক থেকে বার্লিন ও লাগোস থেকে লন্ডন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের রাজধানীর শ্রেণিকক্ষগুলো ফাঁকা রেখে শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এই বিক্ষোভ করে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

‘ইয়ুথ ক্লাইমেট স্ট্রাইক’ কর্মসূচির শুরু সুইডেনের এক শিক্ষার্থীর অনুপ্রেরণায়। গ্রেটা থানবার্গ নামের সেই কিশোরী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপের দাবিতে কর্মসূচি পালন করতো। তার উদ্যোগ একসময় অনুপ্রাণিত করে আরও অনেককে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনটিতে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বিশ্বজুড়ে ঘূর্ণিঝড় ও দাবানল বাড়তে থাকবে। সেই সঙ্গে দেখা দেবে খাদ্য সংকটসহ অন্যান্য দুর্যোগ। বড়জোর ২০৪০ সালের মধ্যে এসব দুর্যোগে ভুক্তভোগী হতে শুরু করবে মানুষ। ১৩ মার্চ জাতিসংঘের আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পানি ও বাতাস বিশুদ্ধ করার জন্য যদি ‘অভূতপূর্ব মাত্রার’ উদ্যোগ গ্রহণ করা না হয়, তাহলে তা লাখ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যুর কারণ হয়ে দেখা দেবে।

দিল্লি

বিশ্বের শতাধিক দেশের স্কুল শিক্ষার্থীরা শুক্রবারের এই ধর্মঘটে সাড়া দেয়। ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার রাস্তাগুলো শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে। এ সময় তারা ‘যদি আপনারা বড়রা মতো দায়িত্বশীল আচরণ না করেন, তবে আমরাই করব’, ‘আপনারা আমাদের ভবিষ্যত ধ্বংস করছেন’ লেখা প্ল্যাকার্ড বহন করে ও স্লোগান দিয়েছে।
স্টকহোমে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত ১৬ বছর বয়সী সুইডিশ কিশোরী গ্রেটা থুনবার্গ সুইডিশ সরকারি টেলিভিশন এসভিটিকে বলেন, ‘আমরা গভীর সংকটের মধ্যে আছি। ভয়াবহ এই সংকটিকে কয়েক দশক ধরে অবহেলার চোখে দেখা হচ্ছে। এখনই যদি এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে।’

ইতালি
মন্ট্রিলে সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। সেখানে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার লোক মিছিলে যোগ দেয় বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো, পোর্টল্যান্ড, অরেগোন ও মিনেসোটার সেন্ট পলে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
লাতিন আমেরিকার দেশ আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেসে মিছিলকারীরা ‘জলবায়ু পরিবর্তনের খবর মিথ্যে নয়’ সম্বলিত প্ল্যাকার্ড বহন করে। চিলির রাজধানী সান্টিয়াগো ও কলম্বিয়ার মেডেলিনে শিশু-কিশোররা রাস্তায় নামে।
বিশ্বের অন্যতম ঘন জনবসতিপূর্ণ নগরী দিল্লিতে ২০০ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নেয়। তারা রঙিন ফিতে নাড়িয়ে প্রতিবাদ করে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ১৬ বছরের শিক্ষার্থী সৃজনী দত্ত বলেন, ‘আমরা কি হাত গুটিয়ে বসে থাকব নাকি আমাদের বিশ্বকে রক্ষায় কিছু করব তা আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে।’

সুইজারল্যান্ড
সিডনিতে ১৮ বছর বয়সী চার্লিস রিকউড জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। তিনি আরও বলেন, ‘যদি পরিবেশের বর্তমান অবস্থা চলতে থাকে তবে খুব শিগগিরই আমরা আমাদের সাগরের পানিকে এক থেকে দুই ডিগ্রি বাড়তে দেখব। তখন স্বাভাবিকভাবেই পরিবেশ আর টেকসই থাকবে না, মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে আর এভাবেই আমরা পুরো গ্রেট ব্যারিয়ার রিফকে হারাতে পারি।’
লন্ডনের মধ্যাঞ্চলের সড়কগুলোতে কয়েক হাজার শিশু-কিশোর বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা বিভিন্ন ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিলে অংশ নেয়। জনাকীর্ণ পার্লামেন্ট স্কোয়ারে তারা ‘এখনই পরিবর্তনের সময়’ বলে স্লোগান দেয়। এরপর তারা ডাউনিং স্ট্রিট ও বার্মিংহাম প্রাসাদের পাশ দিয়ে মিছিল করে।
লন্ডনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাসিন্দা ১৫ বছর বয়সী জো ক্র্যাবট্রি বলে, ‘তারা আমাকে আমার গ্রহ রক্ষার প্রচেষ্টা থেকে ফেরাতে পারবে না।’ র‌্যালিতে যোগ দেওয়ার জন্য ছেলেটি দুটি পরীক্ষা দিতে পারেনি।

হংকং
আয়োজনকারী সংগঠন ইয়ুথ ফর ক্লাইমেট জানায়, আনুমানিক ১০ লাখের বেশি শিশু-কিশোর এই মিছিলে যোগ দেয়। 
ফ্রাইডে ফর ফিউচার মুভমেন্ট জানায়, শুধু জার্মানিতেই ৩ লাখের বেশি শিশু-কিশোর মিছিল করে।




কেনিয়ায় শিশু-কিশোররা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে। এ সময় তারা আগামী দশকে প্লাস্টিকের ব্যবহার ‘উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস করার’ ব্যাপারে একমত পোষণ করে।

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলার ঘটনায় দেশটিতে এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।

 

/এএ/

লাইভ

টপ