নিউ জিল্যান্ডের মসজিদে হামলা এক আফগান শরণার্থীর ‘বীরোচিত’ ভূমিকায় বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:২৬, মার্চ ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৫৭, মার্চ ১৭, ২০১৯

নিজের ‘বীরোচিত’ ভূমিকার মধ্য দিয়ে নিউ জিল্যান্ডে সংঘটিত শুক্রবারের হামলা থেকে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন এক আফগান শরণার্থী। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্দুল আজিজ নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেন, লিনউড মসজিদে হামলা চলমান থাকার একপর্যায়ে হাতের কাছে পাওয়া একটি ক্রেডিট কার্ড প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্রকে তিনি হাতিয়ার বানিয়ে নিয়েছিলেন। তা ছুড়ে মেরেছিলেন হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টের দিকে। পরে একটি গুলিহীন বন্দুক নিয়ে তাকে তাড়া করেছিলেন আজিজ। তার দাবি, পালিয়ে যাওয়ার সময় হামলাকারী ট্যারান্টের মুখে ছিল ভীতির স্পষ্ট ছাপ। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সাহসী ভূমিকার জন্য আব্দুল আজিজ স্থানীয়দের কাছে ‘বীর’ হিসেবে সম্মানিত হয়েছেন।
আব্দুল আজিজ

শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের দুটি মসজিদে হামলা চালায় সন্দেহভাজন বন্দুকধারী ট্যারান্ট।। ক্রাইস্টচার্চে আল নুর মসজিদে হামলার পর হামলাকারী বেছে নিয়েছিল লিনউড মসজিদকে। এ পর্যন্ত নিহত ৫০ জনের মধ্যে দ্বিতীয় হামলায় প্রাণ হারায় ৭ জন। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নূর মসজিদের চেয়ে লিনউড মসজিদের হামলায় প্রাণহানি কম হওয়ার নেপথ্যে ছিল আব্দুল আজিজের ভূমিকা।

এএফপিকে আব্দুল আজিজ বলেছেন, হামলার দিনে চার সন্তান নিয়ে লিনউড মসজিদে নামাজ আদায় করতে গিয়েছিলেন তিনি। আকস্মিক গুলির শব্দকে প্রথমে তার  আতশবাজি বলে মনে হয়েছিল। তবে সন্দেহের বশে কাছেই পাওয়া এক ক্রেডিট কার্ড প্রক্রিয়াকরণ যন্ত্র হাতে তুলে নিয়ে মসজিদের বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। হামলাকারীকে রুখতে সেই যন্ত্রকেই তিনি অস্ত্র বানিয়েছিলেন। আব্দুল আজিজের ভাষ্য, ‘এরকম সময়ে চিন্তা করার সুযোগ থাকে না। যা মাথায় আসে করে ফেলতে হয়।’

এএফপিকে দেওয়া আজিজের ভাষ্য থেকে জানা যায়, বাইরে বেরিয়েই যখন একজনকে গুলি ছুড়তে দেখেন আব্দুল আজিজ, তখন এক মুহূর্তের জন্য তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না ওই ব্যক্তি সন্ত্রাসী নাকি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। আজিজের কাছে তাকে দেখতে ‘সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মতো’ মনে হয়। তবে শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী ব্রেন্টন ট্যারান্টের ঘৃণাবাদী বক্তব্য শুনেই তাকে ‘খারাপ মানুষ’ হিসেবে শনাক্ত করে আজিজ। ‘প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি মানুষটা ভালো নাকি খারাপ। তবে যখন তার মুখ থেকে ঘৃণাবাদী বক্তব্য বের হয়ে আসছিল তখনই বুঝতে পারি মানুষটা ভালো কেউ নয়’।

হামলায় এ পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ৫০ জন

আজিজ এএফপিকে বলেছেন, প্রথমেই ট্যারান্টের দিকে হাতে থাকা ক্রেডিট কার্ড মেশিনটা ছুড়ে মারেন তিনি। জবাবে ট্যারান্ট তার দিকে গুলি ছোড়া শুরু করে। আজিজ তখন অবস্থান নেন কয়েকটা গাড়ির আড়ালে। সে সময় মসজিদের ভেতর থেকে তার এক ছেলে বলে ওঠে, ‘বাবা প্লিজ, ভেতরে চলে এসো।’ এমন সময় একটি ফেলে রাখা বন্দুক চোখে পড়ে তার। গুলি শেষ হয়ে যাওয়ায় হামলাকারী সেটি ফেলে দিয়েছিলেন। আজিজ সেটি কুড়িয়ে নিয়ে তেড়ে যান। সেই সময়ের কথা স্মরণ করে এএফপিকে বলেন, ‘সে যখন আমার হাতে বন্দুকটি দেখলো, আমি জানি না কি হলো, তার হাত থেকে বন্দুক পড়ে গেল। হাতে বন্দুক নিয়ে আমি তাকে ধাওয়া করলাম। একপর্যায়ে বন্দুকটা আমি তার গাড়ির দিকে ছুড়ে মারি। এতে গাড়ির কাঁচ ভেঙে যায়। তখন আমি দেখলাম, সে যেন ভীত হয়ে পড়েছে।’ এরপর আজিজ তাকে ধাওয়া করেন। তবে গাড়ি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সমর্থ হয় ট্যারান্ট। তাকে নিয়ে আজিজের মন্তব্য: “অনেকে হামলাকারীকে ‘গানম্যান’ বলে। কিন্তু পুরুষ অর্থে ম্যান বলা যেতে পারে যাকে সে কখনও অন্য কাউকে আঘাত করে না। সে ‘পুরুষ’ নয়, কাপুরুষ।”

এএফপি জানিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ছেলেবেলায় আব্দুল আজিজ শরণার্থী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন। সিডনিতে প্রায় তিন দশক বসবাস করেন তিনি। কয়েক বছর আগে সেখান থেকে পাড়ি জমিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডে। তখন থেকেই ক্রাইস্টচার্চের বাসিন্দা তিনি।

/এএমএ/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ