নিউ জিল্যান্ড হামলার ভিডিও নিয়ে ফেসবুকের দাবি কি যথার্থ?

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮:৫৫, মার্চ ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫৯, মার্চ ১৯, ২০১৯

নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলার সরাসরি সম্প্রচারকৃত ভিডিও নিয়ে সোমবার (১৮ মার্চ) ফেসবুক নতুন যে তথ্য হাজির করেছে, তার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফেসবুকের দাবি, ভিডিওটির লাইভ সম্প্রচার শেষ হওয়ার ১২ মিনিট পর একজন ব্যবহারকারী তাদেরকে এ নিয়ে রিপোর্ট করেছে। তবে, জ্যারেড হল্ট নামে ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক এক গবেষক দাবি করেছেন, এইটচ্যান নামক সাইটে হামলাকারীর দেওয়া ফেসবুকের লাইভ স্ট্রিম লিংকটি দেখামাত্রই তিনি তা ফেসবুকের কাছে রিপোর্ট করেছিলেন। তখনও লাইভ সম্প্রচার শেষ হয়নি। হল্টের দাবি, হয় ফেসবুক মিথ্যা বলছে, নয়তো তাদের সিস্টেম কাজ করছে না।

প্রতীকী ছবি
১৫ মার্চ (শুক্রবার) ২৮ বছর বয়সী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট নামের সন্দেহভাজন হামলাকারীর লক্ষ্যবস্তু হয় নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুইটি মসজিদ। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক ডিনস এভিনিউয়ের আল নুর মসজিদসহ লিনউডের আরেকটি মসজিদে তার তাণ্ডবের বলি হয় অর্ধশত মানুষ। ট্যারান্ট তার হামলাটি ফেসবুকে লাইভ স্ট্রিমিং করে। স্বয়ংক্রিয় বন্দুক হাতে হামলাকারীর এগিয়ে যাওয়া, মসজিদের প্রবেশকক্ষ থেকে বিভিন্ন কক্ষে নির্বিচারি গুলি বর্ষণ আর রক্তাক্ত নৃশংস পরিস্থিতির ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। সোমবার (১৮ মার্চ) ফেসবুক দাবি করে, সরাসরি সম্প্রচার শেষ হওয়ার ১২ মিনিটের মাথায় একজন ব্যবহারকারী মূল ভিডিওটির ব্যাপারে তাদেরকে অবহিত করে। ভিডিওটি নিয়ে সতর্ক করার আগেই আরেক ব্যবহারকারী ওই ভিডিওটির লিংক একটি ফাইল শেয়ারিং সাইটে পোস্ট করে ফেললে তা আরও ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফেসবুক মূল ভিডিও সরিয়ে ফেলে।

ফেসবুকের নতুন দাবির সঙ্গে একমত হতে পারছেন না রাইট উইং ওয়াচের গবেষক জ্যারেড হল্ট। তার দাবি, এইটচ্যান সাইটে হামলাকারীর সরবরাহকৃত ফেসবুক পেজের লিংকটি দিয়েছিল, তখনই তিনি রিপোর্ট করেছিলেন। ফেসবুকের নতুন দাবির পর সোমবার একটি টুইট করেছেন হল্ট। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি এইটচ্যানে পোস্ট করা একটি লিংক দেখেছিলাম। ওই পোস্টে শেয়ার করা লিংকটি আমি অনুসরণ করছিলাম। হামলার মাঝামাঝি সময়ে আমি সেখানে (লাইভ স্ট্রিম) ডুকেছি এবং তা ছিল ভয়াবহ। আমি তা ফেসবুককে রিপোর্ট করি। হয় ফেসবুক এখন মিথ্যা বলছে, নযতো তাদের সিস্টেম যথার্থভাবে কাজ করছে না।’

মঙ্গলবার আরও একটি টুইট করেছেন হল্ট। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমি মনে করি না ফেসবুক ইচ্ছাকৃতভাবে এ কাজ করবে। বিশেষ করে আইন-প্রয়োগকারী বাহিনী যখন তাদের কাছ থেকে তথ্য চাচ্ছে তখন এ কাজ করার কথা নয়। ওই রিপোর্টের কী হলো সে ব্যাপারে আমি অত্যন্ত সন্দিহান।’

উল্লেখ্য, হামলার আগে ‘এইট চ্যান’ নামে একটি সাইটে (আইনবহির্ভূত এক ফোরাম যা বর্ণবাদী ও জঙ্গিবাদী পোস্ট শেয়ার করে) ৮৭ পৃষ্টার একটি ইশতেহার প্রকাশ করে হামলাকারী। সেখানে ২০১১ সালে নরওয়ের হামলাকারী অ্যান্ডার্স ব্রেইভিকের মতো উগ্র শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের কর্মকাণ্ডকে সামনে আনা হয়। অভিবাসনবিরোধী ও মুসলিমবিদ্বেষী বিভিন্ন প্রবণতাকেও গৌরবান্বিত করা হয় কথিত সেই ইশতেহারে। যেখান থেকে মসজিদে হামলার লাইভ স্ট্রিমিং করা হয়, ‘এইট চ্যান’ নামের ওয়েবসাইটে সেই ফেসবুক পেজের ঠিকানাও দেওয়া হয়েছিল।

/এফইউ/

লাইভ

টপ