আইএস-এর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় ঘোষণা, খিলাফতের পতন দাবি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ০১:২৮, মার্চ ২৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৫৯, মার্চ ২৪, ২০১৯

সিরিয়ায় আইএস-এর (ইসলামিক স্টেট) সর্বশেষ ঘাঁটির দখল নিয়ে মার্কিন সমর্থিত বিদ্রোহী বাহিনী সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) দাবি করেছে, তাদের এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে জঙ্গি সংগঠনটির ‘খিলাফত’র অবসান ঘটেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসডিএফ আইএস-এর শেষ ঘাঁটি বাঘুজে বিজয় নিশান উড়িয়েছে। এসডিএফ-এর মুখপাত্র টুইটারে এই ‘চূড়ান্ত সামরিক বিজয়’ দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই বিজয়ের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে  একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা আখ্যা দিয়েছে।

ইরাকে ২০০৩ সালের মার্কিন আগ্রাসনের পর সেখানে সৃষ্ট গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলস্বরূপ আইএসের জন্ম হয়। অতীতের যে কোনও জঙ্গিগোষ্ঠীর থেকে হিংস্রতা নিয়ে তারা আবির্ভূত হয় 'ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক' নামে। ২০১১ সালে তারা রাক্কাকে রাজধানী ঘোষণা করে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে ‘জিহাদ’ শুরু করে। গোষ্ঠীটির নতুন নামকরণ হয় ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এ্যান্ড দি লেভান্ট (সিরিয়া)। এক সময় ইরাক-সিরিয়ার ৮৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় জঙ্গিগোষ্ঠীটি। তাদের খেলাফতের অধীনস্ত হয় প্রায় এক কোটি মানুষ। তবে মার্কিন ও রুশ বাহিনীর বিমান হামলার পাশাপাশি ইরাক ও সিরিয়ায় বিভিন্ন বাহিনীর প্রতিরোধ-যুদ্ধে পাঁচ বছর পরে এখন খেলাফত সঙ্কুচিত হয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে সিরিয়ার ইউফ্রেটিস নদীর এক বাঁকে। এবার মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত সেই বাঘুজেতে বিজয় নিশান উড়িয়েছে কুর্দিদের সংগঠন ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের’ (এসডিএফ)’ যোদ্ধারা।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে শনিবার এসডিএফের যোদ্ধারা জঙ্গিগোষ্ঠীটির শেষ ঘাঁটি বাঘুজে বিজয় নিশান উড়িয়েছে। এসডিএফের মুখপাত্র মুস্তাফা বালি টুইটার বার্তায় দাবি করেছেন, বাঘুজ মুক্ত হয়েছে ও দায়েশের বিরুদ্ধে সামরিক বিজয় সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া তথাকথিত খিলাফতের পুরোপুরি পতন হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘুজের কাছে বিজয় অনুষ্ঠানে এসডিএফের ব্যান্ডদল যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা ও এসডিএফের দলীয় পতাকার সামনে মার্কিন জাতীয় সঙ্গীতও পরিবেশন করেছে।

উত্থান পরবর্তী সময়ে আইএস মসুল এবং তিকরিত সহ অনেক ইরাকি শহর এবং সিরিয়ার বৃহত্তম হোমস তেলক্ষেত্র দখল করে জঙ্গি ধর্মীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা কায়েম করে।  তেল বিক্রি, চাঁদাবাজি, অপহরণ এবং ডাকাতি করে তারা শত শত কোটি ডলার আয় করে। পশ্চিমা জিম্মিদের শিরশ্ছেদ সহ বহু নৃশংস কর্মকাণ্ডের ভিডিও প্রচার করে আইএস। কথিত জিহাদি উন্মত্ততা প্রচারের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্ব থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা সংগ্রহ করে তারা। ইরাকের ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের লোকদের হত্যা এবং ইয়াজিদি নারীদের যৌনদাসত্বে বাধ্য করে। তবে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী এবং কুর্দি-প্রধান এসডিএফ বাহিনীর সাথে যুদ্ধে একের পর এক পরাজয় ঘটতে থাকে তাদের। আইএস জঙ্গিরা শেষ অবস্থান নিয়েছিল পূর্ব সিরিয়ার বাঘুসে। এখন তাদের সেই ঘাঁটিও ছিনিয়ে নিল এসডিএফ। তবে ওই বাহিনীর জেনারেল মাজলুম কোবানি বলেন, তারা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখবেন।

ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে ঘিরে ধরে কুর্দিদের সংগঠন ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেসের’ (এসডিএফ)’ যোদ্ধারা। তাদের বিরুদ্ধে এসডিএফ-এর জোরালো অভিযান শুরু হয় গত মার্চ মাসে। তবে সেই অভিযান শুরুর পর দেখা যায়, ওই জঙ্গিগোষ্ঠীর এলাকায় বিভিন্ন ভবন, তাঁবু আর সুড়ঙ্গগুলোতে বহু বেসামরিক মানুষ আশ্রয় নিয়ে আছেন। সে কারণে অভিযানের তীব্রতা কিছুটা কমে আসে। জীবন বাঁচাতে  নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার সাধারণ মানুষ সেখান থেকে পালিয়ে এসডিএফ পরিচালিত উদ্বাস্তু শিবিরে আশ্রয় নেয়। এরপর সেখানে চূড়ান্ত আঘাত হানে এসডিএফ। থেকে যাওয়া জঙ্গিরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। আত্মঘাতী হামলা ও গাড়ি বোমা হামলা চালিয়ে এসডিএফের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করে তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি।  শনিবার বিজয়ের ঘোষণা দিয়ে বালি তার টুইটারে লিখেছেন, এই দিনটিতে আমরা হাজারো শহীদদের স্মরণ করছি। যাদের প্রচেষ্টায় আজকের এই বিজয় অর্জিত হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ‘স্বাধীনতা’র প্রশংসা করে বলেন, ‘আমরা আইএসের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবো।’  এই ‘বিজয়ে’র প্রশংসা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও।

 

/এমএইচ/বিএ/

লাইভ

টপ