যুক্তরাষ্ট্রের বাফেলোতো ‘আমেরিকান স্বপ্নের’ পেছনে ছুটছেন বাংলাদেশিরা

Send
ব্রজেশ উপাধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশিত : ২০:০০, মার্চ ২৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০০, মার্চ ২৬, ২০১৯

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে আকাশচুম্বি বাসা ভাড়া ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের কারণে অনেক বাংলাদেশি অভিবাসীই এখন ছুটছেন একটু নিচু শহর বাফেলোতো। লক্ষ্য একটাই, যদি ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ ছোঁয়া যায়।বাফেলো শহরে একটি বাড়ির সামনে বাংলাদেশি নাগরিক শেখ রহমান(বামে) এবং তার প্রতিবেশী কাজী আলি আহসান

গত শতকে বাফেলো দেশটির অন্যতম উৎপাদনশীল শহর ছিল। বিংশ শতকের মাঝামাঝি শিল্পায়ন পরবর্তী যুগে এর ওপর চরম প্রভাব পড়ে। হাজার হাজার চাকরি চলে যায়। এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৬৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত শহরটিতে ৯২ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার মানুষের চাকরি চলে গেছে এবং তারা শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

আর এই বিশাল সংখ্যক মার্কিনি চলে যাওয়ায় বাংলাদেশিদের সামনে সুযোগ তৈরি হয়। বাংলাদেশি আমেরিকান আতিকুর রহমান বলেন, এই শহরে মাত্র এক ডলার টোকেন মানি নিয়ে বাড়ি  বুকিং দেয় তারা। ৫০ হাজার ডলার ব্যয় করে পেয়ে যায় পূর্ণ মালিকানা। ‘আমেরিকান স্বপ্ন’ পূরণে এটাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ পথ। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও হয়তো এতো কম দামে বাড়ি বানানো সম্ভব না।

২০০৬ সালে নিউ  ইয়র্ক ব্রঙ্কস ত্যাগ করে বাফেলোতে পাড়ি জমান আতিকুর রহমান। এখন ওই শহরে অন্যান্য বাংলাদেশিদের নেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। তার এই কার্যক্রমের জন্য চলতি মাসেই সিটি অব বাফেলোর পক্ষ থেকে আউটস্ট্যান্ডিং সিটিজেন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি। তার দাবি, শত শত  বাংলাদেশি ও মুসলিমদের বাফেলোতে স্থায়ী হতে সহায়তা করেছেন তিনি। বাড়ি কেনা কিংবা বিক্রিতে দিয়েছেন পরামর্শ, আইনি ও কর বিষয়ক জটিলতায় সহায়তা করেছেন। আর বেশিরভাগই করেছেন বিনা পারিশ্রমিকে।

বাংলা ট্রিবিউনকে আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমি এই পুরস্কারের যোগ্য। আমাদের মানুষদের জন্য এটা আমার দায়িত্ব’। তিনি বলেন, বাফেলোতে বাংলাদেশিরা শুধু নিজের জন্য বাড়ি কিনতেই সক্ষম হবেন না বরং নিউ ইয়র্কের চেয়ে অনেক কম খরচে জীবন নির্বাহ করতে পারবেন।

নিউ ইয়র্কে মতো হয়তো এখানে চাকরির সুযোগ নেই। কিন্তু এখানকার সবকিছুর দাম কম হওয়ায় বসবাস অনেক সহজ। অনেকেই আগে নিউ ইয়র্কে ট্যাক্সি চালাতেন। কিন্তু উবার ও লিফটের মতো অ্যাপভিত্তিক রাইডের কারণে তারাও সেই পেশা বাদ দিয়ে বাফেলো চলে আসেন।

কেউ নিজের ব্যবসা শুরু করেছে। কেউ কারখানায় কাজ করছেন। আবার প্রয়োজনে ২০-৩০ মিনিট ট্যাক্সিও চালাতে পারেন। আতিকুর রহমান পেশায় একজন হিসাবরক্ষক। ইতোমধ্যে একটি বিশাল লাইব্রেরি ভবন কিনে তাকে হার্ডওয়্যার দোকানে রুপান্তরিত করেছেন তিনি।

অনেক বাংলাদেশিই এখন বাড়ি কিনে ব্যবসার কাজে লাগাচ্ছেন। সেই বাড়ি প্রস্তুত করতেও অনেক কাজ করতে হয়। সেক্ষেত্রে লাভবান হচ্ছে নির্মাণ সামগ্রী বিক্রি করা চেইনশপ হোম ডিপোট।

আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমি হোম ডিপোটের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। কারণ এই এলাকায় আর এমন হার্ডওয়্যার স্টোর নেই।‘ এমন কোনও দিন নেই যেদিন অন্তত ১০-১৫ জন নতুন ব্যবসা শুরু নিয়ে কথা বলতে আসে না। অনেকেই আছে সস্তায় ২-৩টি বাড়ি কিনে ফেলে। তারপর মেরামত করে লাভে বিক্রি করে দেয়। 

জীবিকার খোঁজে বাংলাদেশিদের নিউ ইয়র্ক ছেড়ে অন্য শহরে পাড়ি দেওয়ার ঘটনা এবরাই প্রথম নয়। মিশিগানের হ্যামট্রাম্ক এখন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহত্তম কলোনি। বাংলাদেশক উৎসর্গ করে একটি  দেয়ালও আছে সেখানে।  

হ্যামট্র্রাম্কের সঙ্গে বাফেলোর তুলনা করে আতিকুর রহমান বলেন, ‘যাদের কিছু নেই তাদের জন্যই বাফেলো। আপনার পকেটে যদি কিছু নাও থাকে তারপরও এখানে জীবিকা শুরু করতে পারবেন আপনি।

এই বাংলাদেশির আশা, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই এলাকা পাল্টে যাবে। অনেক বাংলাদেশিই এখানে পরিত্যক্ত ব্যবসায়িক ভবন কিনে গার্মেন্ট কারখানা তৈরি পরিকল্পনা করছেন। কেউ কেউ খুচরা দোকানসহ অন্যান্য ব্যবসার কথাও ভাবছেন।

/এমএইচ/এএ/

লাইভ

টপ