‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ’ নিষিদ্ধ করলো ফেসবুক

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১০:২৬, মার্চ ২৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৪, মার্চ ২৮, ২০১৯

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর চাপের মুখে নিজেদের প্ল্যাটফর্মে ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ’ নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। বুধবার এক ব্লগ পোস্টে নিজেদের এ সিদ্ধান্তের কথা জানায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটি। এতে বলা হয়, শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ বা শ্বেতাঙ্গ বিচ্ছিন্নতাবাদের প্রশংসা, সমর্থন এবং এর প্রতিনিধিত্ব করা ফেসবুকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে আর ফেসবুক ও ইনস্টগ্রামে এ ধরনের কোনও কন্টেন্ট ছড়ানোর সুযোগ থাকবে না।

ফেসবুকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেছে। এতে দেখা গেছে, শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদকে অন্যান্য ঘৃণা সৃষ্টিকারী বা বিদ্বেষমূলক গোষ্ঠীগুলো থেকে আলাদা করে দেখার কোনও সুযোগ নেই। তাই ফেসবুকের টাইমলাইনে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদকে সমর্থন যোগায় এমন কোনও পোস্ট আর গ্রহণযোগ্য নয়।

ফেসবুকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মানুষ তাদের জাতিগত বা নৃতাত্ত্বিক ঐতিহ্য ফেসবুকে পোস্ট করতে পারবেন। তবে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ বা শ্বেতাঙ্গ বিচ্ছিন্নতাবাদের পক্ষে কোনও পোস্ট বরদাশত করা হবে না।

ফেসবুকের নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক উপাদান হিসেবে অনেক আগে থেকেই প্ল্যাটফর্মটিতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ নিষিদ্ধ। তবে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ বা শ্বেতাঙ্গ বিচ্ছিন্নতাবাদকে এতোদিন ধরে সুস্পষ্ট বর্ণবাদ হিসেবে বিবেচনা করা হতো না। তবে এখন নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এগুলোও নিষিদ্ধের তালিকায় পড়বে।

ফেসবুকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের হাউস কমিটির চেয়ারম্যান বেনি থম্পসন। তবে তিনি মনে করেন আরও আগেই এ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফেসবুক দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য পোস্ট করার সুযোগ দিয়েছে; যা যে কাউকে সহিংসতায় উসকানি দিতে পারে। কয়েক বিলিয়ন মানুষ তাদের সেবা নিচ্ছে। ফলে তাদের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি হবে।

২০১৯ সালের ১৫ মার্চ পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, নিউ জিল্যান্ডের দুই মসজিদে গুলি চালিয়ে ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী অস্ট্রেলীয় নাগরিক ব্রেন্টন ট্যারান্ট। ফেসবুকে ওই হত্যাযজ্ঞ লাইভ করে এই শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদী খুনি। নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে সে ক্রাইস্টচার্চের দুই মসজিদে হামলার ১৭ মিনিট লাইভস্ট্রিমিং হাজির করেছে বিশ্ববাসীর সামনে। সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী ওই হামলার উদ্দেশ্যই ছিল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার লাইভ সম্প্রচার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুগের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সন্ত্রাসী হামলাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উপযোগী করে নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে সন্ত্রাসীদের মধ্যে। ওই ঘটনায় দুনিয়াজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ফেসবুক। ওই সমালোচনা আর মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত বুধবার ‘শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদ’ নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। সূত্র: রয়টার্স, এনবিসি নিউজ।

/এমপি/

লাইভ

টপ