নৈশভোজে চীনের সঙ্গে কার্যকর আলোচনার ইঙ্গিত মার্কিন অর্থমন্ত্রীর

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:০৭, মার্চ ২৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৯, মার্চ ২৯, ২০১৯

বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ দূর করতে চীনের সঙ্গে কার্যকর সংলাপের তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার (২৯ মার্চ) মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুচিন বলেছেন, চীনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের নৈশভোজে আশাবাদী হওয়ার মতো আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি লিখেছে, মুচিন গত রাতে ঠিক কার সঙ্গে নৈশভোজ করেছেন তা এখনও স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন অভিযোগে চীনা পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন। চীনও মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এই সংকট নিরসনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আলোচনায় বসেছেন। ট্রাম্প চীনের কাছ থেকে যেসব বিষয়ের নিশ্চয়তা চান সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাস্বত্ব ‘চুরি’ বন্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি চীনা প্রতিষ্ঠানের কাছে দিয়ে দেওয়ার শর্ত বিলুপ্ত করা।

সংশ্লিষ্ট মার্কিন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে প্রবেশের শর্ত হিসেবে চীন মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এবং চীনা নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে দিয়ে দিতে বাধ্য করে। আর এর ফলে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর এসব প্রযুক্তি চীনা প্রতিদ্বন্দ্বীদের হাতে চলে যায়। চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

বিরোধ নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে বেইজিংয়ে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী মুচিন ও বাণিজ্যবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি রবার্ট লাইটহাইজার সেখানে আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন। মার্চ মাসে শেষের দিকে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা ছিল। কিন্তু তা আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে গতকালই প্রথমবারের মতো দুই দেশের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি বসেছিলেন।

চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী লি হিউয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য হোটেল থেকে বের হওয়ার সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন স্টিভেন মুচিন। তার ভাষ্য, ‘গতকালের নৈশভোজটি খুবই আশাব্যাঞ্জক ছিল। আমরা আজকের বৈঠকে আরও অগ্রগতির অপেক্ষা করছি।’

গত বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ল্যারি কুডলো বলেছেন, বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা যদি সফল হয় তাহলে যুক্তরাষ্ট্র কিছু চীনা পণ্যে শুল্ক হ্রাস করবে। তবে অন্যান্য পণ্যে তা বলবৎ থাকবে, যাতে চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাণিজ্য নীতি নির্ধারণ করে।

এদিকে বৃহস্পতিবারই চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং বলেছেন, বিদেশি ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য চীনে আরও বড় মাত্রায় সুযোগ দেওয়া হবে খুব দ্রুতই।

সংশ্লিষ্টরা মনে করেছেন, বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসা সম্প্রসারণের সুযোগ দিতে চীন নতুন বিধান জারি করতে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি আশাবাদী হওয়ার কথা জানালেন মুচিন।

/এএমএ/এএ/

লাইভ

টপ