মঙ্গলে মিথেন গ্যাসের উৎস শনাক্তের দাবি বিজ্ঞানীদের

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২০:১৭, এপ্রিল ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫২, এপ্রিল ০২, ২০১৯

ছয় বছর আগে মঙ্গল গ্রহের গেইল জ্বালামুখ এলাকায় মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিল নাসার মহাকাশ যান কিউরিওসিটি রোভার। এরপর থেকেই মৌসুমের তারতম্য অনুযায়ী মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির তারতম্য লক্ষ করা যাচ্ছিলো। গ্রীষ্ম ও শীতে মিথেন গ্যাসের মাত্রা ওঠানামা করতো। আর এবার আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের একটি দলের দাবি, ছয় বছর আগে নাসা মঙ্গলে যে মিথেন গ্যাস শনাক্ত করেছিল, তার সম্ভাব্য উৎস শনাক্ত করেছে তারা। তাদের ধারণা, মার্টিয়ান নামে ভূগর্ভস্থ ফাটল ধরা চিরহিমায়িত একটি স্তর থেকে মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হচ্ছে। এ নিয়ে প্রথমবারের মতো মঙ্গল গ্রহে মিথেন গ্যাসের সম্ভাব্য উৎস শনাক্তের দাবি করা হলো।

মঙ্গলে নাসার কিউরিওসিটি রোভার
রোমের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যাস্ট্রোফিজিক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে নতুন গবেষণাটি করা হয়েছে। নেচার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নতুন গবেষণার জন্য নাসার তথ্যের পাশাপাশি ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মার্স এক্সপ্রেস মহাকাশযান দিয়ে শনাক্তকৃত তথ্যগুলোও বিশ্লেষণ করেছেন বিজ্ঞানীরা। ২০১২ সালের আগস্টে মঙ্গলের ৯৬ মাইল প্রশস্ত গেইল জ্বালামুখে অবতরণ করেছিল নাসার মহাকাশযান কিউরিওসিটি রোভার। পরবর্তীতে নাসা লাল গ্রহে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়ার দাবি করে। আর ২০১২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার মার্স এক্সপ্রেস মহাকাশযানের ‘প্ল্যানেটারি ফোরিয়ার স্পেকটোমিটার (পিএফএস)’ যন্ত্র দিয়ে গেইল জ্বালামুখের আশপাশে গবেষণা করা হয়েছিল।

নেচার জিওসায়েন্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ১৬ জুন গেইল জ্বালামুখে ঘনীভূত অবস্থায় ৫.৭৮ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন) মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিল কিউরিওসিটি রোভার। মার্স এক্সপ্রেস যন্ত্র ব্যবহার করে জ্বালামুখের উপরে বায়ুমণ্ডলে রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫.৫ পিপিবি মিথেন গ্যাস।

প্ল্যানেটারি ফোরিয়ার স্পেকটোমিটার (পিএফএস) যন্ত্রটি দিয়ে একবার মাত্র মিথেন গ্যাস শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। একই দিনে নাসার কিউরিওসিটি হঠাৎ গ্যাসটির মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি শনাক্ত করে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, যে এলাকায় এ মিথেন গ্যাস রেকর্ড করা হয়েছে তার নাম এওলিস মেনসায়ে। সেখানে বেশ কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক ত্রুটি রয়েছে। এর কারণে মার্টিয়ান নামে পার্শ্ববর্তী ওই চিরহিমায়িত স্তরে ফাটল ধরে থাকতে পারে। আর আটকে পড়া মিথেন গ্যাস সেখান থেকেই বের হয়ে আসছে। আবার বিকল্প আরেকটি কারণ হতে পারে। তা হলো, উল্কাপিণ্ডের আঘাতে হিমায়িত ওই বরফ খণ্ড ভেঙে গিয়ে থাকতে পারে।

গবেষক মার্কো গিউরান্না বলেন, ‘উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো বায়ুমণ্ডলীয় অবস্থার অনুমান ও ভূতাত্ত্বিক পর্যালোচনা আলাদা ও স্বতন্ত্রভাবে করা হয়েছিল। দুই পর্যালোচনাতেই একই অঞ্চলে মিথেনের অস্তিত্ব মিলেছে। আর সে অঞ্চলটি গেইল জ্বালামুখ থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।’ আর ওই অঞ্চলের নাম মার্টিয়ান বলে জানিয়েছেন তিনি।

গিউরান্নার দাবি, জীবাণু বাধা হয়ে না দাঁড়ালে মিথেন গ্যাসের অস্তিত্ব মঙ্গলগ্রহকে অনেক বেশি বসবাসযোগ্য করে তুলবে। কারণ, এ গ্যাসটিকে কার্বন ও জ্বালানির উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হয়। মার্টিয়ানের মাটির নিচে আটকে থাকা মিথেন গ্যাসকে মানুষ রাসায়নিক ও রকেটের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, মিথেন গ্যাসের উৎস শনাক্তের এ দাবি নিয়ে বিশ্বের বিজ্ঞানী সম্প্রদায়ের একাংশের দ্বিমত রয়েছে। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মঙ্গলে একেবারেই মিথেন গ্যাস উৎপন্ন হয় না। তাদের দাবি, বিজ্ঞানীরা হয় মিথ্যা বলছেন, অথবা সেখানে যে গ্যাস শনাক্ত হয়েছে তা অন্য কোনও উৎস থেকে এসেছে; হতে পারে মহাকাশযান রোভার থেকেই আসছে তা।

/এফইউ/এমওএফ/

লাইভ

টপ