সত্য উন্মোচনে অ্যাসাঞ্জের অবদানের বিশেষ স্বীকৃতি

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৯:২৬, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২০, এপ্রিল ১৭, ২০১৯

সত্য উন্মোচনে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের অবদানের বিশেষ স্বীকৃতি দিলো ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বামপন্থী সদস্যরা। জীবন-জীবিকার ঝুঁকি ও ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রশ্ন উপেক্ষা করে তথ্য ফাঁসের স্বীকৃতিস্বরূপ সাংবাদিকতা বিষয়ক এক সম্মাননা দেওয়া হয়েছে তাকে। বন্দি অ্যাসাঞ্জের পক্ষে জিইউই/এনজিএল অ্যাওয়ার্ড নামের ওই সম্মাননা গ্রহণ করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের অধিকারকর্মী মাইরিয়াদ ম্যাগুইরে।

হত্যার শিকার মাল্টার সাংবাদিক ডাফনে গালিজিয়ার সম্মানে ২০১৮ সাল থেকে জিইউই/এনজিএল পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। ‘কনফেডারাল গ্রুপ অব ইউরোপিয়ান ইউনাইটেড লেফট/নর্ডিক গ্রিন লেফট’ (জিইউই-এনজিএল গ্রুপ) নামে পরিচিত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাম ধারার সদস্যদের এক সংগঠন এর উদ্যোক্তা। জিইউই/এনজিএল সম্মাননার মধ্য দিয়ে নির্ভীকভাবে ‘সত্য উন্মোচন এবং তা মানুষের কাছে প্রকাশকারী’দের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

এ বছর জিইউই/এনজিএল পুরস্কার পেয়েছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জসহ আরও দুই তথ্য ফাঁসকারী। অন্য দুইজনের একজন নেসলে ফুডের খাবারের স্বাস্থ্যঝুঁকি ফাঁসকারী ইয়াসমিন মোতার্জেমি। অপরজন ফুটবল সংক্রান্ত তথ্য ফাঁসকারী রুয়ি পিন্তো। রুয়ি বর্তমানে পর্তুগালের কারাগারে অ্যাসাঞ্জের মতো বন্দি-জীবন কাটাচ্ছেন। তাদেরকে সম্মাননা দেওয়ার কারণ সম্পর্কে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সত্য উন্মোচন করেছেন। আর তা করতে গিয়ে নিজেদের জীবিকা আর ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত ঝুঁকি উপেক্ষা করেছেন। বিসর্জন দিয়েছেন ব্যক্তিগত স্বাধীনতা।

ক’দিন আগে বিবৃতি দিয়ে জিইউই-এনজিএল গ্রুপের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অ্যাসাঞ্জ ইরাক-আফগান যুদ্ধের সত্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নৃশংসতা উন্মোচন করেছেন। তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের করা মামলা নিয়ে বলা হয়েছিল ‘এ মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘের দূত যে বিবৃতি দিয়েছেন সেটিকে আমরা সমর্থন করি। বিবৃতিতে তিনি উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জকে দুতাবাস থেকে বের না করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ, এরপর অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হলে তার জীবন বিপন্ন হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া, তাকে প্রত্যর্পণ না করার অনুরোধ জানিয়ে ব্রিটিশ সরকার বরাবর আমরা প্রথম পিটিশনটি দায়ের করেছি।’

সম্মাননা সংক্রান্ত বিবৃতিতেও তার বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি পদক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যার্পণ করলে তার জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অ্যাসাঞ্জের সম্মাননা পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় উইকিলিকস এর সম্পাদক ক্রিস্টিন হ্রাফেনসন বলেন: ‘উইকিলিকসের মধ্য দিয়ে জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ যে স্বচ্ছতার দর্শন তৈরি করেছেন তা সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে। তাকে কারারুদ্ধ করা ও প্রত্যর্পণের হুমকি দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুইটি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। হয় আপনারা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপকে উৎসাহিত করুন, নয়তো জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের পাশে দাঁড়ান।’

 ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সাড়া জাগানো বিকল্প সংবাদমাধ্যম উইকিলিকস বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয় ২০১০ সালে। মার্কিন কূটনৈতিক নথি ফাঁসের মধ্য দিয়ে তারা উন্মোচন করে মার্কিন সাম্রাজ্যের নগ্নতাকে। ২০১২ সাল থেকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দেশের আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়। ওই বছরই অ্যাসাঞ্জ ইকুয়েডর সরকারের রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করেন। ১১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) আশ্রয় প্রত্যাহার করে তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে ব্রিটিশ আদালতে অ্যাসাঞ্জকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের মামলা হয়েছে। তাকে সেখানে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চলছে।

/এফইউ/বিএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ