অ্যাসাঞ্জের মানবাধিকার সুরক্ষায় অনলাইনে পিটিশন

Send
বিদেশ ডেস্ক
প্রকাশিত : ২১:১১, এপ্রিল ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৩, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে অনলাইনে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করেছে গণতন্ত্রকামী এক ইউরোপীয় সংগঠন। ‘ডেমোক্র্যাসি ইন ইউরোপ মুভমেন্ট ২০২৫’ নামের ওই সংগঠনের উদ্যোগে একটি ‘অনলাইন পিটিশন’ পরিচালিত হচ্ছে। অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিলে তার মানবাধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে পিটিশনে। যুক্তরাজ্য ও ইকুয়েডরকে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসাঞ্জবিরোধী আইনি পদক্ষেপে সামিল না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে এতে।

২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, ইকুয়েডর সরকারের উচ্চপর্যায়ের দু’টি সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে, কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকেতাড়ানো হতে পারে। ওই গুঞ্জনের মধ্যেই পিটিশনে অ্যাসাঞ্জের পক্ষে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করে ইউরোপের দেশগুলোর নাগরিকদের আন্দোলন ডেমোক্র্যাসি ইন ইউরোপ মুভমেন্ট ২০২৫। সংগঠনটি ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা হরণ ও ক্রমবর্ধমান উগ্র জাতীয়তাবাদী কর্মকাণ্ডে শঙ্কিত। তারা মনে করে, এসব থামানো না গেলে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

এরইমধ্যে গত ১১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে অ্যাসাঞ্জকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে। জামিনের শর্ত ভঙ্গের দায়ে ব্রিটিশ আদালতে অ্যাসাঞ্জকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ের মামলা হয়েছে। তাকে সেখানে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চলছে।

ডেমোক্র্যাসি ইন ইউরোপ মুভমেন্ট ২০২৫-এর পিটিশনে বলা হয়েছে, ‘আমেরিকার যুদ্ধাপরাধ, মিত্রদের ওপর নজরদারি এবং বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর শাসক, প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেশনের কুৎসিত গোপনীয়তাগুলোকে নথিবদ্ধ করে উইকিলিকসের মাধ্যমে বিশ্বের জন্য কল্যাণকর ভূমিকা নিয়েছেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। এ কারণেই মার্কিন ছায়ারাষ্ট্রের কাছে প্রিয় হয়ে উঠতে পারেননি তিনি। ওবামা, ক্লিনটন থেকে শুরু করে ট্রাম্প পর্যন্ত তার গ্রেফতারকে অগ্রাধিকার ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি আমরা নিশ্চিত হয়েছি তার বিরুদ্ধে গোপনে অভিযোগ গঠণ করা হয়েছে যাতে গ্রেফতারের পরই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা যায়।’

অ্যাসাঞ্জকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হলে তার মানবাধিকার হরণ করার পাশাপাশি তার ওপর ভয়াবহ নিপীড়ন নেমে আসতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে পিটিশনে। যুক্তরাজ্য ও ইকুয়েডরের দুই দেশের সরকারের কাছে তার মানবাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে এতে। পিটিশনে অ্যাসাঞ্জকে এমন কোনও দেশে পাঠানোর আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে তার গ্রেফতার কিংবা প্রত্যর্পণের কোনও আশঙ্কা থাকবে না।
বিশ্বের যে কোনও প্রান্ত থেকে যে কেউ https://i.diem25.org/petitions/1?display=form অনলাইন ঠিকানায় গিয়ে স্বাক্ষর দেওয়ার মাধ্যমে অ্যাসাঞ্জের মুক্তির লড়াইয়ে সামিল হতে পারেন।

/জেজে/বিএ/

লাইভ

টপ